ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে প্রেমিকার আত্নহত্যা। সত্যিই বড় বেদনাদায়ক। আমরা এখন এ বিষয়ে লিখব, ধিক্কার জানাব। কথিত প্রেমিকের বিচার চাইব।তারপর এক সময় এই ত্বন্নি’র নাম পাল্টে লিখব আর এক ত্বন্নি’র নাম। লাভ কি হবে? কিছুই না। একের পর এক ত্বন্নি’রা এভাবেই ঝরে যাবে। যতদিন না আমরা এ সমস্যার মুলে যেতে পারছি।

এখন আ্মরা ভালবাসা বলতে বুঝি দুটি নর-নারীর বোঝাপড়া। আর তাদের আবেগ উচ্ছাসে ভেসে যাওয়া। দু’জনের স্বপ্নের পৃথিবী ভাঙ্গা-গড়ার গল্প।
ভালবাসাকে কি এতটা ছোট ফ্রেমে বন্দি করা যায়? যায় না। তাহলে সন্তানের প্রতি মা-বাবার, মা-বাবার প্রতি সন্তানের, বোনের প্রতি ভাইয়ের, মানুষের প্রতি মানুষের। দেশের প্রতি নাগরিকের যে সম্পর্ক তাকে কি শুধুই দ্বায়িত্ববোধ বলবেন? ভালবাসা শব্দটিকে যদি মহিরুহুর সাথে তুলনা করি তাহলে দ্বায়িত্ববোধ তো তার একটি শাখা মাত্র।

ভালবাসা একটি শক্তির প্রতিশব্দ। যে শক্তি কাজ করেছে পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে শুরু করে সভ্যতার শিখরে পৌছান অবধী। যে শক্তি আজো পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে রেখেছে। ভালবাসা শ্বাশ্বত, চিরন্তন। পূতঃ-পবিত্র। যদিও উদ্দেশ্য যাকে নিয়তই কুলষিত করে।আর আমার আলোচনার বিষয়টিও তাই।

পাঠক, নিজেকে ভাবুন আপনার বোন বা মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে বেড়িয়েছেন রমনাপার্ক, কোন ভার্সিটির ক্যাম্পাস, টি এস সি অথবা যে কোন পাবলিক প্লেসে । আশেপাশে যা দেখছেন তাতে কি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন? নিশ্চয়ই নয়। বেলাল্লাপনা আজ লজ্জাকে গিলে খেয়েছে। প্রেমিক-প্রেমিকার পবিত্র প্রেম আজ রবীন্দ্র, নজরুল এর কাব্যে ঠাই নিয়েছে। মাত্র কয়দিন আগে আমাদের গল্প নামে এন টিভিতে একটি নাটক প্রচারিত হল যার অন্যতম উপজীব্য বিষয় ছিল বিবাহ পূর্ব যৈবিক চাহীদা মেটানোর ফল, এটা যে কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় তা আমাদের চারপাশে তাকালে স্পষ্টতই বোঝা যায়। এর থেকে মুক্ত নয় আপনার-আমার আদরের ভাই-বোন বা সন্তানেরা কেউই।

আজ আমরা ভালবাসাকে যৌনতার উপায় হিসেবে ধরে নিয়েছি। যৌনতাকে ভালবাসার খোলসে মুড়ে করছি যথেচ্ছ ব্যবহার। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক অনুশাসন সব কিছুই ভেসে গেছে তথাকথিত আধুনিকতার জোয়ারে। যা আমাদের নিয়ে যাচ্ছে আইয়ামে জাহিলিয়ার যুগে।এ ব্যপারে এখনই পারিবারিক এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহন আশু প্রয়োজন। আর তা শুরু করতে হবে পরিবার থেকে আপনাকে এবং আমাকে।