ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ইলিয়াসের জন্য আমিও কাঁদছি শিরোনামে সরকার দলীয় মাননীয় সাংসদ জনাব গোলাম মওলা রনি’র একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে গতকালের একটি পত্রিকায়। যেখানে তিনি তাঁর নিজশ্ব মূল্যায়ন সহ কিছু বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন। যা দিকনির্দেশ করে আমাদের দেশের রাজনীতির নিকট ভবিষ্যত এর গতিপথ। তাঁর ভাষায় “ইলিয়াস আলীর নিখোজ হওয়া নিয়ে রাজনৈ্তিক দলগুলো একে অপরের দিকে কাঁদা ছুড়ছে এবং সাধারন মানুষকে জিম্মি করে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। এটাও শুভ লক্ষন নয়। আমার মতে রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো এক জায়গায় নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে সাম্প্রতিককালের কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনার কোনো ইতিবাচক ফল আমরা দেশবাসীকে দেখাতে পারিনি”।

যখন সরকার দলীয় একজন সন্মানিত সদস্যের এই সরল স্বীকারোক্তি আমরা জানতে পারি তখন স্বভাবতই আমরা আশার আলো দেখতে পাই।কেননা সমস্যা নির্মিত হলে সমাধান অনেক সহজ হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই মূল্যায়ন কি সার্বিকভাবে সরকারের? নাকি শুধুই মাননীয় সাংসদ বা তাঁর সমমনা কয়েকজন মাননীয় সাংসদের মাঝেই সীমাবদ্ধ? যদি আমাদের আশঙ্কাই সঠিক হয় তাহলে সমাধান কি আদৌ হবে? তিনি আশঙ্কা ব্যাক্ত করেছেন এই বলে যে, “আমরা সমন্বিতভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে না পারলে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার চেয়েও ভয়াবহ দুর্ঘটনা আগামী দিনে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে”। সেটাই তো স্বাভাবিক।

অনাচারের পাগলা ঘোড়ার লাগাম যদি সময়মত টেনে না ধরা হয়। তা একসময় সবকিছুই তছনছ করে দেয়। এবং তাকে সামলানোটাও অনেক কঠিন হয়ে যায়। মাননীয় সাংসদ সবচেয়ে স্পর্শকাতর যে বিষয়টির উপর আলোকপাত করেছেন তা হল, রাষ্ট্রের এলিট ফোর্স বা র‌্যাব এবং ঐতিহ্যবাহী পুলিশ বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে। বিষয়টি এত বেশি স্পর্শকাতর যে এ বিষয়ে মন্তব্য না করাই ভাল। তবে এটুকু বলতে পারি। সাধারন মানুষ আজ বড় বেশি শংকিত। মাননীয় সাংসদকে আমার সশ্রদ্ধ সালাম এজন্য যে তিনী এই প্রতিবেদনে যথার্থই গনমানুষের প্রতিধ্বনি করেছেন। যা একজন জনপ্রতিনিধিকে করে মহিমান্বীত। কিন্ত এককভাবে জনাব তাজ যেমন কিছু করতে পারেননি একসময় পিছু হটেছেন। আমরা চাই না মাননীয় সাংসদ তেমনি করেই থেমে যান। বরং আরো বেশি উচ্চকিত হন। আস্তে আস্তে আপনাদের সংখ্যাই বেড়ে যাবে। তখন আমরা রাজনীতিবিদদের আর সাধারন মানুষের মধ্য থেকে ব্যবধানটুকু ঘুচিয়ে ফেলতে পারব। আমাদের দেশের রাজনীতি অনিশ্চয়তার বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারবে। এ দেশের মুষ্টিমেয় সুবিধাবাদীদের বাদ দিলে প্রতিটি মানুষ আপনাদের পানে তাকিয়ে আছে। তারা চায় তার কথাটারই প্রতিধ্বনি করুন তার প্রিয় জনপ্রতিনিধি। তার প্রিয় জনপ্রতিনিধি অনুধাবন করুন তাদের সমস্যা এবং তার সমাধানে সচেষ্ট হউন। তাই অনুরোধ, দয়া করে থামবেন না। আরো বেশী, আরো অনেক বেশী উচ্চকিত হউন।

আমরা সাধারন মানুষ সরকারের কাছে সবার আগে যেটা চাই তা হল নিরাপত্তা। আমাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা, আমরা নিজেরাই করি। আমরা চাই সে ব্যবস্থা করতে গিয়ে আমরা যেন হেনস্তা না হই। আমরা যেন নিরাপত্তাহীন হয়ে না পরি। এটুকু নিশ্চয়তা চাইবার অধিকার নিশ্চয়ই আমাদের রয়েছে?

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন। ২৭ এপ্রিল ২০১২।