ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বিএনপি কি এবার ভুল চাল দিল? প্রশ্নটা বোধকরি সচেতন প্রতিটি মানুষের। অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নিয়ে এধরনের আন্দোলনের সুযোগ থাকলেও তারা ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছেন। যেসব ক্ষেত্রে জনসম্পৃক্ততার সূযোগ হয়ত আরো বেশি ছিল। সব সুযোগ হাতছাড়া হওয়াতেই কি ইলিয়াস আলী ইস্যু নিয়ে এত মাতামাতি? এ ইস্যুতে তাদের যে চলমান আন্দোলন তা কি তাদের লক্ষে পৌছাতে সক্ষম হবে? সম্ভাবনা খুবই কম। ইলিয়াস আলী ইস্যু জনমনে যে সহানুভূতির উদ্রেক করেছিল। বিএনপির এই ধরনের টানা আন্দোলন কি সে সহানুভূতির মাত্রা বাড়িয়েছে? না তাকে তিরহিত করেছে? কেননা শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তি হয়ে সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করে এতটা জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন সাধারন মানুষের মেনে নেয়ার কথাও নয়। যা পরিলক্ষিত হয় হরতালে স্বতঃস্ফূর্ততার অভাবে।

পক্ষান্তরে ইলিয়াস আলী ইস্যু নিয়ে সরকারীদল যেভাবে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন তা কতটা সমিচীন হয়েছে তাও আলোচনার দাবী রাখে। বর্তমান সরকারের ব্যার্থতার পাল্লা কতটা ভারী তা হয়ত সময়ই বলে দিবে। কিন্ত এটা তো সত্য যে এ সময়েই বেশ কিছু ভাল কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে লক্ষনীয় সাফল্যও তারা পেয়েছে। যার সুফল এ দেশবাসীই ভোগ করবে। অন্য কোন দেশের জনগন নয়।এই মুহূর্তেই এ সরকারকে বিদায় নিতে হবে, নয়ত দেশ ভয়াবহ সংকটে পড়ে যাবে একথা বোধকরি খোদ বিএনপির একনিষ্ঠ কোন কর্মীও বিশ্বাস করে না। আর এখানেই মনে হয় চালটা ভূল হল। বিএনপি এই ইস্যুটাকে বাচিয়ে রেখে আস্তে আস্তে চুড়ান্ত আন্দোলনে যেতে পারত। এখন সরকার বা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহীনী যে বলছে চলমান আন্দোলনের কারনে আমরা যথেষ্ট সময় দিতে পারছি না এবং সঠিকভাবে তদন্ত করতে পারছি না। কথাটি একেবারেই মিথ্যে? তা কিন্ত নয়। তাহলে বিষয়টা কি দাড়ালো? ইলিয়াস আলিকে পাওয়া যাক বা নাই যাক বিএনপিকে থামতে হবে। কেননা যে কোন আন্দোলনের সফলতা নির্ভর করে জনসম্পৃক্ততার উপর।যা তারা করতে পারেনি। ফলে থামতে তাদের হবেই। যা প্রশ্নবিদ্ধ করবে এই আন্দোলনকে। ক্ষতিগ্রস্ত করবে ইলিয়াস আলীর পরিবারকে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনসাধারন। যারা এখন ভুগছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়।