ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

আজ এই মহান মে দিবসে লিখতে বসলে এই দিবস নিয়েই লেখার কথা। সরাসরি এই দিবস নিয়ে লিখতে গেলে কেন যেন মনে হয় তা থেকেও পুঁজিবাদের গন্ধ বেরুচ্ছে। মনে হয় আমিও একে উপজীব্য করছি। মানুষের সভ্যতার ইতিহাস আর বঞ্চনার ইতিহাসের মধ্যে সন তারিখের কোন পার্থক্য নেই। যেদিন এই সভ্যতার সোপান তৈ্রীর প্রথম কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল সেদিন থেকে শুরু, আজো চলছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। ভিন্ন ভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে। আজকের সভ্যতার বেদী তৈ্রীর প্রথম কারিগর যেমন শুধুমাত্র পেটের দায়ে তার শ্রমকে বিকিয়েছিল। আজো তেমনি তার উত্তরসুরীরা বিকিয়ে যাচ্ছে। সেদিন যাকে দাস বলে ডাকা হত আজ তাকে শ্রমিক বলে ডাকা হয়। সেদিন যেমন তার কথা বলার অধিকার ছিল না। আজো নেই। সেদিন যেমন সে বন্দি জীবন যাপন করত। আজো কার্যত সে বন্দি। পার্থক্য হচ্ছে সেদিন শিকল ছিল দৃশ্যত আজ অদৃশ্য।

আমাদের সরকার যন্ত্র বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেন এ দেশে শ্রমের মূল্য কম এই কথা বলে। কি বিচিত্র ভাবনা আমাদের। আমরা দক্ষ শ্রমিক তৈ্রী করেও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারতাম। কিন্ত তা করছি না। কারন আমরা মনে করিনা, এতটা দায়বদ্ধতা আমাদের আছে।থাকার কথাও নয় কারন এতটা দায়বদ্ধতা থাকলে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। আমাদের দেশের সরকারী চাকুরিজীবী কয়েকগুন বেসরকারি চাকুরিজীবী। যেখানে মালিকের নিয়মই নিয়ম। সরকারের নজর নেই বললেই চলে। কর্পোরেট থেকে শুরু করে যে কোন প্রতিষ্ঠান চলছে ইচ্ছেমত। প্রতি্টি প্রতিষ্ঠানের বঞ্চনার ধরন আলাদা। জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে যেমন নেই জীবনের নিরাপত্তা। গার্মেন্টস শিল্পে নেই আর্থিক নিরাপত্তা, আবার বিপননের ক্ষেত্রে নেই চাকুরীর নিরাপত্তা। আর প্রবাস জীবনের কথা তো বলাই বাহুল্য। এ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে মুখ্য ভুমিকা পালন করে যে রেমিটেন্স। তা আহরন করতে গিয়ে যে শ্রমিক তার জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান সময়টা দিয়ে দিলেন। সেই শ্রমিক শুধু একজন শ্রমিকই থেকে যান এর বেশি কিছু নন। কারন একটাই। যে ইমারত গড়ে সে তা নিজের জন্য গড়েনা। আর যে সেখানে বসবাস করে সে কখনই তা গড়েন না। এটাই নিয়ম। এ নিয়মের ব্যাত্যয় হবে না। এই যে দিবস তা এ কথাই মনে করিয়ে দেয়ার জন্য। আর কিছু নয়।