ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ছেলে-মেয়েদের বিদ্যানিকেতনে পাঠিয়ে মা-বাবা নিশ্চিন্ত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানে পৌছে দেয়া থেকে শুরু করে নিয়ে আশা অবধি। কিন্ত মাঝে মাঝেই অনভিপ্রেত কিছু খবর মা-বাবাকে ফেলে দেয় চরম উৎকণ্ঠায়। শাসনের নামে কোমলমতী শিশু কিশোরদের উপর চালান হয় অত্যাচার। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। তদুপরি এই অত্যাচার করতে গিয়ে যদি ধর্মকে ব্যবহার করা হয় তা হয় আরো গর্হিত। কিন্ত কেন বারবার এই ঘটনাগুলো ঘটছে।এটা কি আমরা ভেবে দেখছি? আমরা সবাই যন্ত্র মানবে পরিনত হয়ে গেছি। দিনদিন আমদের মধ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মানবিক গুনাবলী সমূহ আর সেখানে এসে ভর করছে চরম স্বার্থ্পরতা আর হিংস্রতা। আর এর সাথেই যোগ হয়েছে কুশিক্ষা। কুশিক্ষা বলছি এই জন্য যে, কিছু বই বা কিতাব মুখস্ত করলেই শিক্ষিত হওয়া যায় না। যদি না তা আত্মস্থ করা হয়। প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে উপযুক্ত আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে। কেননা মাদ্রাসা শিক্ষার মূলটা আমাদের মাতৃভাষা বাংলা নয়। আর তাই তা আত্মস্থ করাও খুব সহজসাধ্য নয়। মদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে যারা পাঠদান করে থাকেন তারা ইসলামের আহ্কাম-আরকান সম্পর্কে কতটা জানেন। তা তাদের এইসব কার্যকলাপেই প্রতিভাত হয়। সেই সাথে ফুটে ওঠে বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষার দৈন্যদশা। কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী আইন সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনিত হতে গেলে কখনো কখনো কুরআন-হাদিসের বাইরে গিয়ে ফিকাহ্ শাস্ত্রের দ্বারস্থ হতে হয়। কথাটা বলছি এর ব্যাপকতা বোঝাতে। এরপরেও আছে অনেক ভিত্তিহীন হাদিসের বই, ইসলামী বই। যে ব্যাপারে ইসলামী স্কলাররা অবিরত সাধারন মানুষকে সাবধান করে চলেছেন। এখন কথা হচ্ছে মাদ্রাসাগুলোতে যারা পাঠদান করছেন তারা এ ব্যপারে কতটুকু সজাগ?

একজন শিক্ষক যদি কম জানেন তাতে শিক্ষার্থীরা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়না। কিন্ত তিনি যদি ভূল জানেন এবং তাই শিক্ষা দেন। তার খেসারত দিতে হয় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। এ প্রসঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটি বিষয়ের উল্লেখ করছি খুব সচেতন ভাবে। আর তা হল, আমরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরতে গিয়ে আরবিতে একটা নিয়ত করি যা সম্পূর্ণরূপে বেদআত। আপনি এ সম্পর্কে সিহাহ্ সিত্তাহ হাদিসগ্রন্থের কোথাও কোন সহিহ্ হাদিস পাবেন না। অথচ নামাজ শিক্ষার প্রথম পাঠটি হচ্ছে এই গৎবাধা নিয়ত। যা আপনি প্রায় প্রত্যেকটি নামাজ শিক্ষার বইয়ে পাবেন। এ রকম অসংখ্য ভুলের মধ্যেই আমাদের বসবাস। আর তারই ফলশ্রুতিতে মাঝে মাঝেই শোনা যায় ফতোয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে অন্তত যারা মাদ্রাসা শিক্ষক এবং দেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদের ইমাম আছেন তাদেরকে মানুষের দৈনন্দীন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির ক্ষেত্রে ইসলামী বিধান সম্পর্কে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা।যা হতে পারে আমাদের রক্ষাকবচ এই সব ভয়াবহতার মধ্য থেকে বেড়িয়ে আসার লক্ষে।