ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

হাতের কাছে ইন্টারনেট, মাল্টিমিডিয়া মোবাইল। আমরা তার যথাযথ ব্যবহার না শিখিয়েই তুলে দিচ্ছি কোমলমতি শিশু-কিশোরদের হাতে। আমরা করছি কি? রাজধানী থেকে শুরু করে মফস্বলের মোড়ে মোড়ে সাইবার ক্যাফে। কারা যাচ্ছে সেখানে। আপনি কি জানেন? আপনার ছেলের হাতে যে মাল্টিমিডিয়া সেল ফোনটি। তার মেমোরি কার্ডে কি আছে? জানেন আপনি? জানেন না। জানলে তো ঘুম হারাম হয়ে যেত। জানতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ক’দিন ঘুম হারাম করে নজরদারি করুন। বুঝতে পারবেন, আমরা ছেলে-মেয়েদের হাতে তুলে দিচ্ছি এক বিধ্বংসী অস্ত্র। যা শুধু তার নয়। একটি প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারে। দয়া করে ভুল বুঝবেন না। আমি আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধী নয়। আমি এর যথেচ্ছ ব্যাবহারের কথা বলছি। আপনার সন্তান এ সবই ব্যাবহার করব। গুগলে সে বিশ্ব ভ্রমন করুক, তবে সেটা কোন বদ্ধ ঘরে নয়।

আমার মায়ের একটা কথা আজ মনে পরছে খুব। যদিও যেদিন তিনি কথাটা বলেছিলেন সেদিন ভাল লাগেনি বরং বিরক্ত হয়েছি। আর আজ তার মর্মার্থ বুঝতে পারছি। তিনি বলেছিলেন “তুমি ডাইরি লেখ। ভাল, কিন্ত তা লুকিয়ে রেখনা। কারন ওটা আমি পড়ব”। উদ্দেশ্যটা সহজ। উনি আমার উপর নজরদারি করবেন, এবং তা বলে কয়েই। আজ আপনি কি সেই নজরদারি করছেন? আজ আপনার মেয়ে অনাকাঙ্খিত মাতৃত্বের স্বাদ নিচ্ছে। লোকলজ্জার ভয়ে ভ্রুণ হত্যা করছে। আমার ছেলে তার জন্য দায়ী। কতটুকু দায় তার। কতখানি দায় আমরা এড়াতে পারি? মা-বাবা তার সন্তানকে সময় দেন না। খেলার মাঠ নেই, থাকলেও নেই খেলার অনুমতি। সে করবেটা কি? সে বেড়ে উঠছে একক পরিবারে। তার কোন সাথি নেই। আপন বলতে তার মাল্টিমিডিয়া। এটা আমরা সবাই জানি নিন্ম আয়ের পরিবারে সন্তানসংখ্যা বেশি হওয়ার প্রধান কারন এই দম্পতিরা বিনোদন বলতে সেক্সকেই বোঝে। কারন এ ছারা তাদের বিনোদনের আর তেমন কোন সুযোগ নেই। আজ আমরা সব বিনোদনের মাধ্যমকে বন্ধ করে দিয়ে সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছি একটি ওপেন সেক্স মিডিয়া। বুঝতে পারছেন আপনি। আজ আপনি কতটুকু সময় দিচ্ছেন তাকে? বাবা-মা আত্নীয় স্বজনের যে বলয়ের মধ্যে আপনি বেড়ে উঠেছেন। আপনার সন্তানকে আপনি সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে তার স্বজন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেন আধুনিক প্রযুক্তিকে। এমনকি এর সঠিক ব্যবহার পর্যন্ত শিখালেন না।

একটি কিশোর তার নিজের ঘর ভিতর থেকে বদ্ধ করে ইন্টারনেটে কি করছে? এই যে তার একাকিত্ব শুরু হল এভাবেই এক সময় সে শুধু নিজেকেই বুঝবে। অন্যায়-অনাচার মানুষের মনকে ছোট করে ফেলে। সে চাইলেও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। ক্রমশঃ সে একা হয়ে যেতে থাকে। আর তখনি সে ড্রাগ আসক্ত হয়। আমরা হঠাৎ প্রযুক্তির সংস্পর্শে এসে যেন খেই হারিয়ে ফেলেছি। (আমি মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে বোঝাচ্ছি) আমরা আধুনিক হতে গিয়ে হিন্দি সিরিয়ালের মত জীবন-যাপন করতে চাচ্ছি। আমরা পাশ্চাত্যের নকল করছি। একা থাকতে পছন্দ করছি। আর তাই মা-বাবার জন্য বৃদ্ধাশ্রম খুঁজে বেড়াচ্ছি। আবার এই আমরাই রমনায় বাঙ্গালী সংস্কৃতির চর্চা করছি। আমাদের উচিৎ চিরন্তন বাংলার যে ঐতিহ্য “সকলের মধ্যে থেকে সকলকে নিয়ে বাঁচা”। যে আদর্শ “সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে” তাকেই ধারন করা। তবেই আমাদের সন্তান পাবে তার নির্মল বিনোদনের উপায়। পাবে জীবন গড়ার আদর্শ। যারা লেখাটি পড়ছেন। তাদের কাছে আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ। আমার সাথে যদি একমত নাও হন তবু আপনার সন্তানকে সময় দিন। তার বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। সে কি করে, কোথায় যায়, কাদের সাথে মিশছে জানার চেষ্টা করুন। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করুন। তবে তা যেন হয়। ধ্বংস নয় তাকে গড়ার নিমিত্তে।