ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা একটি দেশের জনগনের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে আদৌ কি কোন ভুমিকা রাখতে সক্ষম? জানি, বোদ্ধারা উত্তরে বলবেন। টেকসই গনতন্ত্রই জনস্বার্থ রক্ষার উৎকৃষ্ট পন্থা। আমার প্রশ্নটা এখানেই। তাহলে সেই টেকসই গনতন্তটা পেতে কতটা কাঠখর পোড়াতে হবে? কতজনের শহীদ মিনার গড়তে হবে? কতবার রক্তাক্ত করতে হবে রাজপথ? কত পরিবারকে নীল হতে হবে স্বজন হারানোর বেদনায়? হতে হবে নিঃস্ব। স্বাধীনতার ৪০ বছর পার করে এসেও যে দেশে সুস্থ রাজনীতি বিকাশ লাভে ব্যার্থ। একটি যুৎসই নির্বাচনি ব্যবস্থা গড়ে তোলা পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। বিদেশী দুতিয়ালী ছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের একগুয়েমির অবসান হয় না। সেই দেশের শীর্ষ ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দ সহ আপামর জনসাধারনের হরতাল বন্দের দাবী যখন নাকচ হয়ে যায় গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে। তখন কি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা আসে না যে, এই গনতন্ত্র দিয়ে সাধারন জনগন কি করবে। রাজনীতিবিদদের যে গনতান্ত্রিক অধিকার; জনসাধারনের নিরাপত্তাহীনতার কারন। যা ব্যাহত করছে দেশের অগ্রযাত্রা। যার জন্যে মানুষ তার আয়ের উৎস হারাচ্ছে। সে অধিকার চর্চা করার নৈতিক অধিকার কি তাদের থাকে?

তবু বলব, এরপরেও যদি আপনারা এই অধিকার চর্চা অব্যাহত রাখেন তাহলে হরতাল আহবান করুন। যে আপনার মতাদর্শে বিশ্বাসী সে তা পালন করবে। আর যে ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী সে তা পালন করবে না। এই অধিকারটুকু আমাদের দেন। দয়া করে মানবরূপী দানবদের ঠেকান। দয়া করে ওদেরকে মাঠে নামতে দিবেন না। ওরা গড়তে নয় ধ্বংস করতে জানে। ওরা হাসতে হাসতে মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে পূড়িয়ে মেরে বিজয়োল্লাসে মাতে। ওরা মানুষ নয়। ওরা কারো সন্তান নয়, কেউ ওদের স্বজন নয়। ওদের হাত থেকে আমাদের রেহাই দেন।

আর যদি আমাদের উপর সত্যিই আপনাদের আস্থা থাকে। তাহলে হরতাল নিয়ে একটি গনভোটের আয়োজন করুন। জনগনই সিদ্ধান্ত নেবে হরতাল থাকবে কি থাকবে না। কেন নিজেদের দোষী করবেন। আর আমরাই বা কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগব।