ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

কোন এক অন্তরঙ্গ মূহুর্তে হয়ত বলেছিল রুনি, “আমি সাগরে হব বিলীন”।
প্রতিউত্তরে সাগর কি বলেছিল তারে? …………………………….. নিশ্চয়ই বলেনি
“আমরা দুজনা এমনি রব জীবনের অনতিদূর প্রান্তে। খবরের হব খবর, হর্ষে নয় হতাষার পরিভাষায় পরীনত হব নিতি।”
অথচ তাই হল, এমনি করেই যা হওয়ার নয় তাই হয়।
এভাবেই হারায় সপ্নভুখ মানুষ গুলো। রেখে যায় তাদের অমলিন চিহ্ন।
যা নিয়ত পোড়ায় আর একটু একটু করে নিমজ্জিত করে হতাশার চোরাবালির অতলান্ততায়।
চাইলেও বেড়িয়ে আসতে পারিনা সে অন্ধকার থেকে।
প্রত্যাশার প্রহর গুনি শুধু ……………………। ……………………।
আগামীকাল সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং সকল সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সকল সংবাদপত্র সম্পাদকীয় প্রকাশ করবে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করবে। ব্লগাররা ব্লগ লিখবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সামনে সাংবাদিকবৃন্দ অবস্থান কর্মসূচী পালন করবেন। তারপর? কোন মাননীয়’র আশ্বাসে আবার কর্মসূচী স্থগিত করবেন। আবার ধৈর্য্য ধরবেন। আবার আশায় বুক বাঁধবেন। ধৈর্য্য চ্যুতি যখন ঘটবে তখন আবার আন্দোলনের ডাক দিবেন। এ ছাড়া তাদের আর কিইবা করার আছে।
একজন রাজনীতিবিদ নিহত হলে তার দল আছে। তাদের কর্মীবাহিনী আছে তারা চাইলেই প্রতিবাদে দেশ অচল করে দিতে পারেন। একজনের খুনের বদলা নিতে আরো পাঁচটি লাশ ফেলে দিতে পারেন, এমনকি সরকার পতনেরও ডাক দিতে পারেন।
সে অধিকারও তাদের রয়েছে!! কেননা ষোল/সতের কোটি মানুষের দেখ ভালের দায়িত্ব তারা সেচ্ছায় কাধে তুলে নিয়েছেন। এমন মহান দায়িত্বে নিয়োজিত কেউ নিহত বা গুম হয়ে যাবেন এটা কি হয়? রাজনীতির বাইরে যে, যে পেশায়ই নিয়োজিত থাকুন না কেন; তারা তো যা করেন নিজের জন্যেই করেন। একমাত্র রাজনীতিবীদগনই দেশের জন্য কাজ করেন। এ দেশে একমাত্রই তারাই মানুষ আর বাকিরা তাদের সেবক মাত্র। যেমন পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রানী যারা হিসাবের মধ্যে গন্য। অন্য সকল জীবই নগন্য। যাদের সৃষ্টিই করা হয়েছে মানুষের সেবার জন্য। তা না হলে এত মৃত্যুর পড়েও যে দেশের একজন মন্ত্রী অবলীলায় চালকদের দোষ খন্ডনে ব্যাপৃত থাকেন। সেই তার গাড়িটিই আবার যখন সামান্য আক্রান্ত হয়। তখন তিনিই সেই চালকের বিচার দাবি করেন!!!!

আইন শৃঙ্খলার এত অবনতি সত্বেও যে বিরোধী দল কিছুই করল না; তারাই তাদের একজন নেতা গুম হলে তার প্রতিবাদে টানা পাঁচদিন কিই না করলেন। পাঁচজন মানুষকে পর্যন্ত জীবন দিতে হল। এখনও নাকি অনেক বাকি!!! তবেই বলুন। খুব কি ভূল বলেছি?

কি করবে মেঘরা? তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়ে নিজেকেই মহিমান্বিত করার চেষ্টা করেছেন মেঘকে কিছু দেননি? প্রধানমন্ত্রী কেন; পৃথিবীর কারো পক্ষেই সম্ভব নয় তার মা-বাবাকে ফিরিয়ে এনে দেয়া। সেটা কেউ চায়ও না। এমনকি কেন তাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি দেয়া গেল না এ কথাও কেউ এখন আর জানতে চাইছে না। যদিও প্রধানমন্ত্রী যতই বলুন না কেন। বেডরুমের পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। তাতে নাগরিক নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয়। সরকার তার দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। মেঘরা শুধু আজ এটুকুই চায় অপরাধীরা যাতে উপযুক্ত সাস্তি পায়। খুউব কি বেশি চেয়েছে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী; আপনি তখনই মহিমান্বীত হবেন যখন এইসব অপরাধীর জাত-গোত্র বিচার না করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করবেন। আর আপনি ইচ্ছা করলেই তা পারেন বলেই আমরা বিশ্বাস করি। আর তাই আজো আমরা রাজপথে দাবী জানাই। নয়ত এই দাবিটাও জানাতাম না।