ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

আমাদের মাননীয় বিরোধী দলিয় চিপ হুইপ জনাব জয়নাল আবেদীন ফারুক সরকারকে এই বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন তাদের নেতাদের জামিনের শুনানীর ক্ষেত্রে সরকার যেন কোনরূপ হস্তক্ষেপ না করে। খুবই ভাল কথা। আমরা নিঃসন্দেহে তাকে সাধুবাদ জানাতে পারি। কিন্তু সমস্যা হল এরপরেই তিনি বলেছেন, কাল তাদের নেতাদের জামিন দিতে হবে। যদি না দেয়া হয় তাহলে তারপর দিন থেকে লাগাতার আন্দোলন শুরু করবেন। এখন আমার প্রশ্নটা হল, বিচার ব্যবস্থার উপর এই হুঁশিয়ারির কি কোন প্রভাব পরবে না? মহামান্য আদালত কি দেশের অরাজকতা এড়াতে চাইবেন না? আর সেটা কি সুষ্ঠু বিচারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা নয়? বিচার ব্যবস্থার উপর কে হস্তক্ষেপ করল?

এই কথাগুলো লেখা এই ব্লগের উদ্দেশ্য নয়। কথাগুলো লিখছি এই জন্য যে, দেখুন কতটা অসহায় এ দেশের সাধারন মানুষ। আজ একই দিনে সাংবাদিকরাও রাজপথে। তারা তাদের সহকর্মী হত্যার বিচার চান। তারা তাদের নিরাপত্তা চান। মাহামুদুর রহমান সাহেব হয়ত একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয় এবং আমি যদি ভুল না করে থাকি তাহলে তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে কোন দলেরই কোন রাজনৈতিক নেতা এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেননি। অথচ এই সাংবাদিকবৃন্দ তাদের মোট কর্মঘণ্টার সবচেয়ে বড় অংশটি এদের খবর কাভারেজ দিতেই ব্যয় করে থাকেন। আমার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের কাছে প্রশ্ন। এই মূহুর্তে কি উচিত নয় সকল রাজনৈতিক নেতার, খবর কাভারেজ বন্ধ করে দেয়া।

গত ব্লগে লেখা কথাগুলোরই পুনরাবৃত্তি করতে হয়। একজন রাজনীতিবিদ নিহত হলে তার দল আছে তাদের কর্মীবাহিনী আছে তারা চাইলেই প্রতিবাদে দেশ অচল করে দিতে পারেন। একজনের খুনের বদলা নিতে আরো পাঁচটি লাশ ফেলে দিতে পারেন, এমনকি সরকার পতনেরও ডাক দিতে পারেন। এমনকি নেতারা জামিন না পেলেও লাগাতার আন্দোলন শুরুর হুমকি দিতে পারেন। সাংবাদিকবৃন্দ এগুলি করবেন না। এটা করা তাদের মানায়ও না।

আর কিছু না পারেন সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের খবর বর্জন তো করুন। এটাই না হয় হোক এখন প্রতিবাদের ভাষা। একবার ভেবে দেখুন। দেশ চালাবেন তারা। তারা মন্ত্রী-এমপি হবেন। সাধারন মানুষের ট্যাক্সের পয়সায় চলবেন। আর সাধারন মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াবেন না এটা তো হয় না।