ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

একজন অভিনেতা যখন কেন্দ্রীয় চরিত্রে রুপদান করেন তখন তাকে আমরা নায়ক বলি। তিনি তার অভিনয় শৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে হয়ে ওঠেন ভাললাগার-ভালবাসার মানুষ। আর একজন সমাজ সচেতন মানুষ যখন তার বিবেকের তারনায় সমাজের কোন অনিয়ম বা অসংগতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। কোন আন্দোলন গড়ে তোলেন, নেতৃত্ব দেন সামনে থেকে। তখনো আমরা তাকে নায়ক বলি। তিনি তার নিষ্ঠা, তার মহানুভবতার জন্য হয়ে ওঠেন পরম শ্রদ্ধেয় জন। ইলিয়াস কাঞ্চনকে আমার কাছে মনে হয় এমনি একজন ব্যক্তিত্ব; যিনি পর্দার নায়কের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেকে সত্যিকারের একজন নায়কে পরিনত করেছেন।

আসলে সড়ক দূর্ঘটনাটা এমন একটি বিষয়। যারা এর সরাসরি ভুক্তভোগী নয় তারা এর ভয়াবহতাও সহজে বুঝবেন না। একটি সড়ক দূর্ঘটনাটা শুধুমাত্র একটি মানুষের প্রানহানীই করে না সেই সাথে একটি সাজানো পরিবারকে ঠেলে দেয় নিরেট অন্ধকারের গহ্ববরে। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারছি। যখন জানছি তখন খারাপ লাগছে। এটা নিয়ে কথা বলছি। উচ্চকিত, মৃদু যেভাবে যে পারছি প্রতিবাদ করছি। সবই সাময়িক। এরপর ভূলেও যাচ্ছি। আর এটা এখন এমন একটা পর্যায়ে পৌছুছে। যেন খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। এবং এটা মেনে নেয়া ছাড়া গত্যান্তর নেই। আর তাই সড়ক দূর্ঘটনাটার খবর এখন আর মনে খুব একটা দাগ কাটেনা। কিন্ত একবার ভেবে দেখুন সংসারের যিনি একমাত্র কর্মক্ষম ব্যাক্তি। হয়ত তার উপরে নর্ভরশীল ছিল তার স্ত্রী-সন্তান, তার বৃ্দ্ধ মা-বাবা। এই লোকটি যখন কোন সড়ক দূর্ঘটনাটায় মারা যান কিংবা পঙ্গু হয়ে যান তখন সাজানো। হাসি খুশিতে ভরপূর সংসারটিতে কি অবর্ননীয় দূর্যোগই না নেমে আসে। ধরুন প্রতিদিন পাঁচজন লোক সড়ক দূর্ঘটনাটার স্বিকার হয়ে মারা যাচ্ছেন। তার মানে মাসে মারা যাচ্ছে ১৫০ জন। বছরে ১৮২৫ জন এটা কি ভয়াবহ নয়? প্রকৃ্ত সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি। তারপরেও যদি এই সংখ্যাটিকে ঠিক ধরে নেই তাহলেও দেখা যাবে। প্রতিদিন পাঁচটি পরিবার অর্থাৎ (যদি প্রতিটি পরিবারে মাত্র পাঁচজন করে সদস্যসংখ্যা ধরে নেই)কমপক্ষে পঁচিশজন লোক তাদের আয়ের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে ফেলছে। মাসে ৭৫০জন, বছরে যা দাঁড়ায় ৯০০০ জনে। এর সাথে যদি সম্পদের হিসাব করি তাহলে এর পরিমান কত দাঁড়াবে তা সহজেই অনূমেয়। অথচ সড়ক দূর্ঘটনাটার হার অনেকংশে কমিয়ে আনা যায়। চালক, যাত্রী, পথচারী এবং প্রশাসন এককথায় আমাদের সচেতনায়। যেটা দরকার তা হল সকলের সদিচ্ছা্ এবং সহযোগীতা।

আমরা ফুট ওভার ব্রীজ থাকতেও ব্যাবহার করি না। গাড়ীতে উঠেই বলি জোরে চালাও। গাড়িতে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বচছায় জড়িয়ে পড়ছি। গাড়ী চালানোর সময় চালক মোবাইলে কথা বলছেন আমরা দেখেও কিছু বলছি না। চালককে ওভারটেকিংয়ে উৎসাহীত করছি। গাড়ির মালিক তার গাড়ীটা যার কাছে দিলেন তার লাইসেন্স আছে কি নেই তা দেখার প্রয়োজনও বোধ করেন না। গাড়ীচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার আগে তাকে ঠিকভাবে পরখ করা হয় না। তাকে শেখানো হয় না তার দ্বায়িত্ব সম্পর্কে। এমন অনেক ছোট ছোট বিষয়ে একটু সচেতন হলেই আমরা অনেকাংশে এড়াতে পারি সড়ক দূর্ঘটনাটার মত ভয়াবহ একটা সমস্যাকে। পরিশেষে আর একবার অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই সত্যিকারের নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে। যিনি অন্তর থেকে অনুধাবন করতে পেরেছেন এর ভয়াবহতা। যা অনুধাবন করা দরকার আমাদের সকলের।