ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

আজ একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ নিয়ে হাজির হয়েছি। যদিও সমস্যাটা সমগ্র বিশ্বজুড়ে তবে আমাদের দেশের পেক্ষাপটে তা আরো ভয়াবহ বলেই অনুমান করি। আর তা হল চিকিৎসকদের হিজিবিজি করে লেখা দুর্বোধ্য ব্যবস্থাপত্র। এর প্রভাব নিয়ে আমাদের দেশে কোন পরিসংখ্যান করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এ সংক্রান্ত একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে চিকিৎসকদের হিজিবিজি করে লেখা দুর্বোধ্য ব্যবস্থাপত্রের কারনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর সাত হাজার মানুষ প্রান হারাচ্ছে। ১৫ লাখ মানুষ নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত মারাও যান। উন্নত বিশ্বের একটি দেশে এই অবস্থা হলে আমাদের দেশে বেশীর ভাগ লোক যেখানে অসচেতন। যাদের শিক্ষার মান অনেক নিচু, যাদের চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রের পাঠোদ্ধারে নির্ভর করতে হয় হাসপাতাল সেবিকা বা ওষুধের দোকানের ফার্মাসিস্ট এবং কর্মচারীদের উপর।তাদের কি অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়। চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রের পাঠোদ্ধারের ক্ষেত্রে তারাও কখন কখন ভূল করে বসেন এবং ভূল ওষুধ প্রদান করে ফেলেন। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারন রোগীরা।

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারী সংস্থা “ফোরাম ফর এনহ্যান্সমেন্ট অব কোয়ালিটি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া এবং তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে কোয়ালিটি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া(কিউসিয়াই) নামের আর একটি প্রতিষ্ঠান যারা চিকিৎসকদের হিজিবিজি করে লেখার পরিবর্তে ব্যবস্থাপত্রে ক্যাপিটাল লেটার (আলাদা আলাদা করে) চালুর দাবীতে খুবই যৌক্তিক একটি আন্দোলন শুরু করেছেন। যাদের সাথে সেদেশের চিকিৎসকেরাও একাত্মতা ঘোষনা করছেন।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এ্যাপোলো হসপিটাল যে প্রক্রিয়া অনুসরন করেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। কথা হচ্ছে এ্যাপোলো হসপিটালে চিকিৎসা সেবা নেয়ার ক্ষমতা কজন রাখে? আর তাই বাংলাদেশের সন্মানীত চিকিৎসকদের কাছে অতি সাধারন একজন আমার, সনির্বন্ধ অনুরোধ। দয়া করে ব্যবস্থাপত্রে এমনভাবে চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধের নাম লিখুন যাতে আমরা যারা অল্পশিক্ষিত রোগী বা রোগীদের আত্নীয় স্বজন আছি তারা গলদঘর্ম হয়ে হলেও যেন পাঠোদ্ধারে সক্ষম হই। এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলের ফাঁদে না পড়ি।

সূত্রঃ প্রথম আলো, ২১মে২০১২।