ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পুলিশ যে আজ নতুন করে খবরের শিরোনাম হচ্ছে তা তো নয়। সব সময়ই এ ধরনের ঘটনা কম বেশি ঘটেছে যা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। আর তা ঢাকার সব রকম চেষ্টাও তাদের সহকর্মীরা করতেন। এটাই হওয়া উচিৎ, কেননা কেউই চায় না। একজন-দুজন বা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের জন্য একটা পুরো বাহিনী কলঙ্কিত হোক। কিন্ত সমসাময়িক ঘটনাগুলো কিন্ত ভিন্ন কিছু নির্দেশ করছে। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন কিছু বিষয় লক্ষনীয় যেমন-

নিতান্ত তুচ্ছ ঘটনাগুলিকে পুলিশ অনাহুত বড় করে ফেলছে।
তারা প্রকাশ্যে মানুষের গলা চেপে ধরছে।
তারা সাংবাদিকদের টার্গেট করছে।
আইনজীবীদের টার্গেট করছে।
আদালতের মত এতটা স্পর্শকাতর স্থানে ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটাচ্ছে।

আমার প্রশ্নটা হল, যাদের তারা টার্গেট করছে এবং যে স্থান গুলি বেছে নিচ্ছে তাতে তারা খুব বেশি আলোচিতও হচ্ছে। এটা কি ইচ্ছাকৃত?

পুলিশের তো মিডিয়া কাভারেজের প্রয়োজন নেই তাহলে তারা কেন এমন করছে। এটা ভেবে দেখা দরকার। শুধু শুধু কেউ দুর্নামের ভাগীদার হতে চায় না। এর পিছনে কিছু না কিছু কারন তো অবশ্যই আছে। যা এখনই খুজে দেখা দরকার এবং তার প্রতিকারও অতি জরুরী। তারা এমন কিছু ক্ষেত্রে ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে যে গুলি সমাজে সবচেয়ে বেশি আলোচিত অথচ তারা জানে এগুলি তাদের জনমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। মানুষ পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। তবু করছে। কিন্তু কেন?

বেশ কিছুদিন যাবৎ খবরের কাগজের এক চৌম্বক শিরোনাম “পুলিশ”। কখনো কীর্তিমান হয়ে। আর কখনো সেই কীর্তির স্তুতিতে সিক্ত হয়ে। বাংলাদেশ পুলিশ একটি বড় বাহিনী। এর অনেক সদস্য। তার মধ্যে কিছু বিপথগামী হতেই পারে। কিছু কিছু ভূল, কাজের বেলায় ঘটতেই পারে। আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয় নানাবিধ সমস্যা। পুলিশ এ সমাজেরই অংশ। অজস্র সমস্যার মধ্যে থেকেই তাদের চলতে হয়। অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কাজের চাপ। এছাড়াও রয়েছে নৈতিক-অনৈতিক বিবিধ চাপ। যা তাদের নিত্যসঙ্গী। এ অবস্থায় একটি সুশৃংখল বাহিনী হিসেবে কাজ করে যাওয়া খুব সহজ নয়। আর তাই পুলিশের কিছু ভূল, কিছু বাড়াবাড়িকে অত বড় করে কখনোই দেখা হয়নি। বরং বিচ্ছিন্নভাবেই দেখা হয়েছে। এর পরে আছে পুলিশকে ক্ষমতাশীনদের যথেচ্ছ ব্যাবহার। যার ফলে কোনকালে কোন সরকারের চোখেই পুলিশের ভুল-ত্রুটিগুলো সমস্যা বলে ধরা দেয়নি। অথবা পুলিশকে তারা ঘাটানোর সাহসই পাননি। আর তাই মাননীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যখন বলেন পুলিশের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে। তখন আমরা আশ্চর্য হইনা। বরং সমাধান পেলাম মনে করে খুশিতে গদগদ হয়ে জানতে চাই। ট্রাক থেকে তো ১০০ হাত, পুলিশ থেকে কত হাত দূরত্ব বজায় রেখে চললে নিরাপদ থাকা যাবে? আবার মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যখন গর্ব করে বলেন পুলিশের আচরন আগের তূলনায় অনেক ভাল। উদাহরন স্বরূপ তিনি তার ডান পা ভাঙ্গার কথা মনে করিয়ে দিলেন। তখনই মনে হল সত্যিই তো তাই। তার সময়ে পুলিশ যাও বা বিরোধী দলীয় চিপ হুইপের একটি পা ভাঙ্গলেন তাও আবার বাম পা। ডান পা নয়। এটাও নিশ্চয়ই ভাল আচরনেরই লক্ষন। যাই হোক, এহেন যখন মূল্যায়ন তখন দুষ্ট ছেলের দুষ্টামির মাত্রা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।