ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

লিখতে বসলাম অনেক দিন পর। এ মহান মাসে প্রথমেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব অকুতোভয় বীরসেনানীদের যাদের মহান আত্মত্যাগ আমাকে অধিকার দিয়েছে মায়ের ভাষায় লিখতে ও কথা বলতে। রাজনৈতিক কলাম/ব্লগ লেখাটা আমার আদৌ আগ্রহের বিষয় নই, কিন্তু আজকের লিখাটা কিছুটা হলেও রাজনৈতিক বিষয় কে স্পর্শ করে যেতে পারে। আসলে কোন রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে নই, একজন বস্ত্র প্রকৌশলী হিসেবে দেশের রাজনৈতিক নাজুক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতি ও বস্ত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে গিয়ে প্রাসঙ্গিক ভাবে কিছু বিষয় আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড বস্ত্রখাত, কিন্তু চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা কোথাই নিয়ে যাচ্ছে আমাদের? ইতোমধ্যেই বিপুল পরিমান অর্ডার হাতছাড়া হয়ে গেছে।রপ্তানির পরিমান কমে এসেছে শতকরা ৩ ভাগ। এখানেই শেষ নই, তৈরি পোশাক খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক সংগঠন বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক শিল্প তথা দেশের অর্থনীতির কি করুন পরিনতি হতে পারে সেটা সবাই আন্দাজ করতে পারি। এছাড়া গত এক মাসের ও বেশি সময় ধরে চলমান নজিরবিহীন নাশকতাই মহাসড়কে আক্রান্ত হয়েছে প্রাই সহস্রাধিক যানবহন।রেলপথ এমন কি নৌযান ও রেহাই পাই নি সন্ত্রাসের করাল গ্রাস থেকে। প্রান হারিয়েছে প্রাই ৭০ জন যার শতকরা ৮০ ভাগ ই সাধারন মানুষ। এটা কোন রাজনৈতিক চর্চা, কেন এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা?

আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, আর নাশকতা দমনের নামে বিচার বহির্ভূত পন্থাই গুলি করে মানুষ হত্যা। কে পেট্রোল বোমা ছুড়ল আর কার ইঙ্গিতে বিচার বহির্ভূত হত্যা চালানো হলো সেটা বিবেচনা করা আমার কাজ না, আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই বর্বরতার শেষ কোথায়? আর কত নিরীহ মানুষের প্রান গেলে এ সহিংসতা থামবে? পরিস্থিতি উত্তরনের মত কোন পরিবেশ সৃষ্টির সামান্য পূর্বাভাস পর্যন্ত দেখি না। আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যর পর একজন মা হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন ব্যাথাতুর বিএনপি চেয়ারপারসন কে সমবেদনা জানাতে, স্বাভাবিক ভাবেই মনে করেছিলাম উনার এই মহতী উদ্যোগে জাতি কিছুটা হলেও আশার আলো খুজে পাবে। দীর্ঘদিন পর দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধান এর পাশাপাশি অবস্থানের ফলে হয়ত সঙ্কট সমাধানের কোন পথ তৈরি হবে।কিন্তু সেই সম্ভবনাকে অঙ্কুরেই হত্যা করা হল বিএনপি চেয়ারপারছনের কার্যালয়ের প্রবেশমুখে। পুলিশের নিয়ে আসা তালা এবার লাগিয়ে দিল কার্যালয়য়ের কর্মকর্তারা। বাহ !!! কি রকম মধ্যযুগীয় সৌজন্যবোধের দৃষ্টান্ত । অপমান আর গ্লানি নিয়ে ফিরে আসতে হল মাননীয় প্রধান্মন্ত্রীকে। তারপরও ভেবেছিলাম হয়ত নতুন কিছু ঘটতে পারে দেশের রাজনীতিতে। শোকাতুর বিএনপি চেয়ারপারসন আর সমব্যাথী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই দুই মিলিয়ে লাশের মিছিল হয়ত কিছুটা থামবে।কিন্তু ২/৩ দিনের মধ্যে নাটক অন্যদিকে মোড় নিলো।রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় আমার আফিস হওয়াই হটাত করেই লক্ষ করলাম আমার মোবাইল এর নেটওয়ার্ক বার শুন্য।আমার সমস্যাটার কথা আমি বললাম অন্য কারো পানি বা বিদ্যুৎ সংযোগের সমস্যা হয়েছে কিনা সেটা আমার আলচোনার বিষয় নয়। আমার একটা প্রশ্নের উত্তর সত্যিই খুঁজে পাচ্ছি না, আমার নাগরিক অধিকার হরণ করল কে? আমার বাবা, মা কেন সারাদিন আমার মোবাইল বন্ধ পেয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাবে? গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার এবং গনতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এই দুটি বিষয়কে কি কোনভাবেই সমসূত্রে গাঁথা যাই না?

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যের ধারক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ১৫৩ আসনে সাধারন মানুষের ভোটাধিকার ছাড়া ক্ষমতায় এসে সেই গনতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর অপরদিকে জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারক ও বাহক বিএনপি গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের নামে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মারার নষ্ট রাজনীতিতে ব্যাস্ত। যদিও পেট্রোল বোমা কে ছুড়ছে এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষথেকে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে তবে বিতর্কিত এক রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে জোট গঠন করা বিএনপি এর দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। ঠিক তেমনিভাবে বিশ দলকে এককভাবে দোষারোপ করেও নাশকতা থামাতে সরকারের অপারগতার দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। সাধারন মানুষ হিসাবে আমরা এই গণতন্ত্র চাই না যেখানে মানুষের পোড়া মাংশের গন্ধে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে, যেখানে বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্ছিত হয়ে নির্বিচারে মানুষকে গুলি খেয়ে জীবন দিতে হয়।

আসলে আমার মনে হয় গণতন্ত্র রক্ষা বা গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার নয়, যেকোন উপায়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা বা ক্ষমতা ধরে রাখাই এইসব গণতন্ত্রবাদীদের মূল উদ্দেশ্য হয়ে দারিয়েছে। আর এইজন্য যদি দেশের অর্ধেক মানুষকেও পুড়িয়ে অথবা গুলি করে হত্যা করতে হয় তাতেও কিছু আসে যাই না। একটা প্রবাদ বাক্য প্রায়শ শুনে থাকি, যেটার সাথে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের এক অদ্ভুত মিল লক্ষ করছি। আসলে গণতন্ত্র থাকুক আর না থাকুক, মানুষ থাকুক আর না থাকুক ক্ষমতা আমার চাই, ঠিক যেন “বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার” এরকম।

কল্পনা প্রসূত লেখা, রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা না করার জন্য ধন্যবাদ।

প্রকৌশলী মোঃ তৌহিদুল কবির
E-mail: engr.tauhid13@gmail.com