ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

BD

বছর মাস সপ্তাহের হিসাব পেছনে ফেলে আর মাত্র কয়েকটা দিন।১৪ তারিখ থেকে মূল আসরের পর্দা উঠলেও আমার কাছে বিশ্বকাপ প্রকৃত অর্থে শুরু হবে ১৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে। হ্যা ওইদিন মাঠে নামবে মাশরাফি, সাকিব, মুশিরা। শুরুটা সেই কেনিয়া কে হারিয়ে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে। আকরাম, নান্নু, বুলবুল রা যে পথে হাঁটতে শিখিয়েছিল সেই পথ আমাদের কাছে আজ অনেক পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ১০টি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের একটি বাংলাদেশ। একমাত্র ক্রিকেটই জাতি হিসেবে আমাদেরকে আন্তর্জাতিক ভাবে অন্য এক সন্মানের আসনে নিয়ে গেছে। গত ১৫ বছরের হিসাব মিলাতে গেলে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির তালিকাটা বেশ দীর্ঘ।

১৯৯৯ এ পাকিস্থান বধ, ২০০৫ এর কার্ডিফ মহাকাব্য, ২০০৭ এ ভারত ও দঃ আফ্রিকা বধ, ২০১১ সালে ইংল্যান্ড বধ আর দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পরাক্রমশালী নিউজিল্যান্ডকে হারানো অভ্যাসে পরিনত হওয়া সবই আজ স্মৃতির পাতাই অমলিন। যে দেশগুলোর নাম বলেছি এদের প্রত্তেকের ক্রিকেটীয় ঐতিহ্য বাংলাদেশের জন্মেরও অনেক আগের। সুখস্মৃতির পাশাপাশি কিছু হতাশা আর কিছু অপ্রাপ্তি যেটা কখনই ভুলতে পারা সম্ভব না। এর মধ্যে ২০১২ এর এশিয়া কাপের ফাইনাল। সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে হাজারো ক্রিকেট ভক্ত।অপ্রাপ্তি গুলোকে বড় করে দেখা নই আমার আলচনার মূল উদ্দেশ্য দেশত্ববোধ। রাজনৈতিক রোষানল, হানাহানি সবকিছু ছাপিয়ে কখনো কখনো ক্রিকেট হয়ে উঠেছে বাঙ্গালির এক সাধারণ উৎসবের উপলক্ষ। কখনো আবার ১৬ কোটি মানুষ একসাথে কেঁদেছে এই ক্রিকেটের জন্য। ২০১২ এর এশিয়া কাপের ফাইনালে ২ রানের পরাজয় এর এক উজ্জ্বল নমুনা। কে আওয়ামী লীগ, কে বিএনপি বা কে জাতীয়পার্টি সব পরিচয় ভুলে চোখের জলে মেনে নিতে হয়ছিল পরাজয়।

সেদিন পাকিস্তান এশিয়াকাপ চ্যাম্পিয়ন হলেও হারেনি বাংলাদেশ। এদিকে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে ঠিক একই রকম এক কান্নার উপলক্ষ তৈরি হয়েছিল গতকাল। না এবার আর সাকিব, তামিম মুশিরা না এবার ১৬ কোটি বাঙালিকে কাঁদাল মামুনুল, এমিলি, নাসিররা। আসলে প্রতিপক্ষের শক্তির কাছে হেরে যাওয়া মেনে নেয়া যায় কিন্তু ভাগ্যের কাছে বারবার হেরে যাওয়াটা মেনে নেয়া সত্যি খুব বেদনার। ফাইনাল ম্যাচে ২ রানে হেরে যাওয়া বা ৯২ তম মিনিটে গোল খেয়ে হেরে যাওয়া আসলে প্রতিপক্ষের কাছে নয় নিয়তির অমোঘ লিখন ছাড়া আর কিছুই নই। আমার প্রস্নটা একটু অন্যখানে। ক্রিকেট কিংবা ফুটবল মাঠে যদি আমরা সকল রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে এক হতে পারি দেশের বৃহত্তর সাথে কেন আমরা একহতে পারি না। আমার দেশ মা যে কেদে মরে, কেন পারি না ১৬ কোটি বাঙালি এক হয়ে মায়ের কান্না থামাতে? আমার মনে হয় আমাদের ভেতরে যে সুন্দর মানুষগুলো আছে সেগুলো ঘুমন্ত। ক্ষেত্রবিশেষ জাগ্রত হলেও বেশিরভাগ সময়ই ঘুমন্ত থাকে। যেদিন ১৬ কোটি বাঙালির ১৬ কোটি স্বত্বা জাগ্রত হবে, সব ভেদাভেদ ভুলে যার যার জায়গা থেকে দেশের কল্যানে সেদিন হয়ত সব হানাহানি থেমে যাবে। সেইদিনের অপেক্ষাই আর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শুভকামনাই কবির সুরে সুর মিলিয়ে…

বসতি আবার উঠবে ভরে, আকাশ আলোয় উঠবে জ্বলে। 

এক দিন ঝড় থেমে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে। 

 

প্রকৌশলী মোঃ তৌহিদুল কবির 
E-mail: engr.tauhid13@gmail.com