ক্যাটেগরিঃ কৃষি

প্রতিদিন সকালে কাঁচা সব্জির বাজারে এবং মাছের বাজারে ঘুরে আসা আমার বহুদিনের পুরানো অভ্যাস। অনেকদিন দেশের বাইরে থেকে ও এই অভ্যাসটা এখনো ভুলে যাইনি। গতকাল সকালে মাছের বাজারে গিয়ে যা দেখলাম তাতে বিস্মিত এবং শঙ্কিত হলাম। ছোট ছোট থালায় সাজিয়ে রাখা আছে কই মাছের ছোট ছোট পোনা, সাথে আছে টাকি মাছের পোনা এবং অন্যান্য পোনা মাছ।অবাক হলাম এগুলো দেখে।

খেতে সুস্বাদু হয় বলে বাজারে এসকল পোনা মাছের দাম ও বেশ চড়া।যাকে বলা চলে সাধারনের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।সাধারণ কিছু জেলে এবং একশ্রেণীর লোভী মানুষের কারনে দেশী প্রজাতির মাছ গুলো আজ বিপন্ন হতে চলেছে। গ্রামের খালের মাঝে বেয়াল বসিয়ে এসব পোনা মাছ নিধন করে যাচ্ছে অনায়াসে। এখনি সময় এসব প্রতিহত করার। সময় মত এসব প্রতিহত না করতে পারলে অদুর ভবিষ্যতে আমাদের ছেলে মেয়েরা হয়ত ছবি দেখে ছিনে নিতে হবে এসব দেশী মাছ কে। আর এই জন্য বিশেষ প্রয়োজন জনসচেতনতার। আমরা যদি এলাকা ভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তুলতে পারি তাহলে এসব দেশী মাছ রক্ষা করা যাবে।

বর্ষা এসেছে , বৃষ্টি হচ্ছে ।আর সে কারনে চারদিকে খালে, নদীতে নতুন পানি। সেই নতুন পানিতে ডিমওয়ালা মাছ বাচ্চা দিচ্ছে। সেই পোনা মাছ নদী নালা খালে বিলে সর্বত্র বিচরণ করছে অনায়াসে।আর নদী কিংবা খালে বিভিন্ন পদ্ধতিতে এসব মাছের পোনা গুলো ধরা হচ্ছে অনায়াসে।

দেশী জাতের ছোট মাছ এখন খুব কম চোখে পড়ে। হাটবাজারে যাও বা দেখা যায় দাম বেশি। স্বাদও বেশি। বেশি দাম আর স্বাদের মাছ বিলুপ্তির পথে। প্রতি বছরই মাছের জাত বিলুপ্ত হচ্ছে। গত বছর মে-জুন মাসে বৃষ্টি না হওয়ায় প্রজনন ব্যাহত হয়েছে। ফলে কয়েক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। এ জন্য এখন ছোট মাছের প্রজাতির রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেটিভ নেচারের (আইইউসিএন) সমীক্ষা মতে, বাংলাদেশে ৫৪ জাতের মাছ বিলুপ্তির পথে। এর মধ্যে ১২ জাতের মাছের অস্তিত্ব চরম হুমকিতে বা মহাবিপন্ন তালিকায় রয়েছে। গত এক দশকে ২০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। ২৮ জাতের মাছ রয়েছে বিপন্ন তালিকায় আর ১৪ জাতের মাছের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। ১২ জাতের মহাবিপন্ন মাছ হলো- ভাঙনবাটা, নান্দিনা, ঘোড়ামাছ, সরপুঁটি, মহাশোল, রিটা, ঘাউড়া, বাছা, দেশী পাঙ্গাশ, বাঘাইর, চেনুয়া ও তিলাশোল। ২৮ জাতের বিপন্ন মাছ হলো- চিতল, কুকসা, খোকশা, কালাবাটা, ভাঙনবাটা, কালিবাউস, রানী, বেটি, আইর, গুইজ্জাআইর, টেংরা, পাবদা, কানিপাবদা, মধুপাবদা, চেগা, একঠোঁটা, কোটা কুমিরের খি, বানদি কৈ, নেফটানি ও গজার। ১৪ জাতের সঙ্কটাপন্ন মাছ হলো- পলি, বাওবাইন, কাশ খয়রা, টাটকিনি, তিতপুঁটি, গোলশা, কাজলি, গাঙ মাগুর, কুচা, চান্দা, লাল চান্দা, বিশতারা, রয়না, তেলা টাকি, তারাবাইন ও শালবাইন। এক সময় বাংলাদেশে ছিল ৭৩৫ প্রজাতির মাছ। এর মধ্যে সমুদ্রে পাওয়া যায় ৫১১ প্রজাতির মাছ ও চিংড়ি। এসব মাছের জাত সংরৰণের এখনই উদ্যোগ না নিলে বর্তমানের মোট ২৬০ জাতের মিঠা পানির মাছও বিলুপ্ত হতে থাকবে।

সরকারের এবং জনগনের সকলের উচিত আমাদের দেশী মাছ রক্ষায় নিজেদের এগিয়ে আসা এবং সচেতনতা গড়ে তোলা।

বিঃদ্রঃ ছবি এবং কিছু তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।