ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

গত ২৫শে জুলাই ছোট ভাইয়ের আবুদাবীর ফ্লাইট ছিল। সেখানে ফুফাতো ভাই পিপলু থাকে। বেশ কয়েকদিন যাবৎ এই নিয়ে বেশ ব্যাস্ত ছিলাম । ট্রাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে টিকেট কনফার্ম করতে গিয়ে জানতে পেলাম প্রতি টিকেট প্রতি ১০০০টাকা বেশী নেওয়া হচ্ছে। কেন এই বাড়তি টাকা জিজ্ঞেস করাতে এজেন্ট বলে উঠল
-পদ্মা সেতুর চার্জ।

নিতান্ত বাধ্য হয়ে দিলাম বাড়তি টাকাটা। এরপর বাড়ি চলে এলাম। ২৫ তারিখ রাতে বিমানবন্দরে গেলাম, ছোট ভাইকে বিদায় জানাতে। নিজের কাছে বেশ খারাপ লাগছে। একমাত্র ছোট ভাই , বাড়ি ছেড়ে কোথাও থাকেনি। রাত দুইটায় বিমান বন্দরে প্রবেশ করলাম গেস্ট পাশ নিয়ে। ছোট ভাই টিকেট বুকিং দিতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেয় , বলে ৫০০ টাকা নিয়ে আস। ছোট ভাই এগিয়ে এসে আমাকে বলে । আমি এগিয়ে গিয়ে টাইস্যুট পরিহিত কর্তাদের বলি এই জন্য তো টিকেটের সাথে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়েছে। জবাবে তিনি বলেন টাকা নিয়ে ভেতরে পাঠান , বেশী কথা বলবেন না । তাহলে টিকেট ক্যান্সেল করে দিব ।

অগ্যতা বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিতে হল । শুধু আমার ভাই নয় । প্রত্যেক যাত্রিকে অতিরিক্ত ৫০০টাকা করে বিনা রশিদে দইতে হয়েছে। এসব দেখার কেউ নেই । আমার প্রশ্ন বিনা রশিদে প্রতিদিন বিমানবন্দরে আদায়কৃত লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা কি পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ হবে নাকি পেটমোটা সকল অফিসারদের ঈদের বাজারে যুক্ত হবে ।

সরকারের উচিৎ এইদিকে নজরদারি করা । প্রতিদিন গড়ে ৫০০০ যাত্রির কাছ থেকে যদি অবৈধ ভাবে ৫০০ করে টাকা নেওয়া হয় তাহলে প্রতিদিন কত টাকা আসছে। আর সে টাকা কোথায় যাচ্ছে।পদ্মা সেতুর বাহানায় আজকাল বাসের ভাড়া বেশী নেওয়া হচ্ছে । এখানে সেখানে সব জায়গায় এই জন্য সাধারণ জনগণকে অযাথা অনেক টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। নিজের টাকায় পদ্মা সেতু হবে সেটা খুশীর ব্যাপার। কিন্তু এখন যা হচ্ছে তাকে সরকারের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি চলছে । আমরা সাধারণ জনগন এই চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাই । এরচেয়ে বেশি কিছু আর বলার নেই।