ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

সৌদি আরব ইসলামিক বিশ্বের অন্যতম দেশ হলে ও এখানে জাতিগত বৈষম্যের শিকার বাংলাদেশী শ্রমিক’রা । একই পদে যদি আরব দেশের কেউ কাজ করে তার বেতন বাংলাদেশী কর্মচারীর চেয়ে তিনগুন বেশী। এই নিয়ে অনেক দেনদরবার হয় নানা কোম্পানীতে । তাতে কোন কিছুরই সুরাহা হয় না ।

জাহেদুল ইসলাম একটি নামকারা প্রতিষ্ঠানের শিফট সুপারভাইজার হিসাবে আজ আট বছর কাজ করছেন । তিনি বেতন পান ১৪শত রিয়াল । অন্যদিকে আহমেদ জাতীয়তা মিসরীয় সে একই পোস্টে কাজ করে বেতন পায় পাঁচ হাজার সৌদি রিয়াল । কাজকর্মের দিক দিয়ে জাহিদুল অনেক এগিয়ে থাকলে ও শুধু আরব জাতি হওয়ায় তার বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা অনেক বেশী। জাহেদুল কোম্পানী প্রদত্ত ভিলায় অবস্থান করতে বাধ্য হয় কিন্তু মিসরীয় ভিলায় অবস্থান করতে বাধ্য নয় । সে ইচ্ছে মত বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে এবং সে জন্য কোম্পানির কাছ থেকে বেশ মোটা অংকের টাকা পায় । এই ত গেলো এক জাহিদুলের কথা ।

শুধু বাংলাদেশী পরিচয়ের লোকেরা নয় এর মাঝে ভারত , শ্রীলংকা , এবং নেপালের শ্রমিকেরা ও পড়ে। তাদের সকলের একই অবস্থা। আরব দেশের লোক হলে ডিউটি মাত্র আট ঘণ্টা অন্য দিকে বাংলাদেশী এবং উল্লেখিত দেশের শ্রমিকদের কে সর্বনিম্ন দশ থেকে বারো ঘণ্টা করে কাজ করতে হয় ।

একটি হোটেলে একজন তুর্কি শ্রমিক সর্বনিম্ন বেতন পায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার সৌদি রিয়াল সেক্ষেত্রে বাংলাদেশী এবং অন্যান্যরা পায় মাত্র আট’শ থেকে একহাজার রিয়াল ।
এসব নিয়ে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে অনেক বড় বড় লোকেদের সাথে কথা বলেছি , তাতে কোন লাভ নাই । সকলে বলে তারা নাকি ভালোই বেতন পাচ্ছেন । এতে নাকি তাদের বেশ চলে যায় । আমি তাদের বুঝতে পারিনি চলুক আর নাই চলুক বেতন তো সমান হওয়ার কথা । যেখানে বেশী শ্রম আমাদের দেশী লোকেরা করবে বেতন বেশী পাবে অন্য দেশের লোকেরা । সৌদির কথা এক্ষেত্রে আলাদা । কারন এটা তাদের নিজেদের দেশ । তারা বেশী বেতন পেতেই পারে। কিন্তু সৌদি আরব ছাড়া ও আরব বিশ্বের অন্যান্য শ্রমজীবি লোকেরা সুযোগ টা গ্রহন করে অনায়াসে ।
মক্কায় এক বাংলাদেশী দোকান মালিকের কাছে গিয়ে দেখি তিনি সিরিয়ার একজন লোক রেখেছেন তিন হাজার রিয়াল বেতন দিয়ে অন্য দিকে বাংলাদেশী ভাইয়ের বেতন মাত্র একহাজার রিয়াল । এই ব্যাপারে তিনি প্রশ্ন করলে তিনি এর উত্তর এড়িয়ে যান ।

এবার ফিরে আসি আমার অফিসের কথায় । আমার অফিসে আমি এবং জাহাঙ্গীর আমরা দুজন বাংলাদেশী । আমাদের দুজনের সম পদে আরো দুইজন করে বিদেশী আছে । তারা আমাদের চেয়ে অনেক কম কাজ করে আমাদের চেয়ে দুইগুন বেশী বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। এই ব্যাপারে আমাদের বস সৌদির সাথে সাহস করে একদিন আলাপ করি তিনি বলেন
-আমি জানি এই বৈষম্য ঠিক নয় । কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা প্রথা পরিবর্তন সহজ নয়। এছাড়া তোমাদের দেশের লোকেরা প্রথম দিকে বর্তমানের মত শিক্ষিত ছিল না । যে কারনে তোমাদের প্রতি সকলের আস্থা এখন তৈরি হয়নি । তাকিয়ে দেখ সৌদি আরবের রাস্তা ঘাট পরিস্কার করে তোমাদের দেশের শ্রমিকরা মাত্র তিনশত রিয়াল বেতনে । সেখান থেকে অনেক তোমাদের অবস্থান নির্ধারণ করে । তোমরা রাগ করনা । আমি উদাহরন স্বরূপ বলেছি মাত্র।

তার কথায় আমারা একটা অকাট্যে সত্য ধারনা ফেলাম। আসলেই তো আমাদের সরকার কেন এত নিম্ন মজুরিতে এই দেশে লোক পাঠায় । পাঠাবেতো এদের বেতন বেশী করে পাঠানো উচিত । সবশেষে একথা জোর দিয়ে বলা যায় । আর যাই বলুক না লোকজনে আসলে আমরা সকলে সত্যিকার অর্থে জাতি বৈষম্যের শিকার , একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই । সরকার এই ব্যাপারে সচেতন হলে অদূর ভবিষ্যতে এমন নাও হতে পারে বলে আমি মনে করি ।

Touhidullah82@gmail.com
সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে