ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বছরের বাজেটে বিদেশীদের প্রেরিত রেমিটেন্স বিশেষ ভুমিকা রাখে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না । প্রত্যেক বিদেশী চেস্টা করে তার সাধ্যানুযায়ী পরিশ্রম করে সেই টাকা নিরাপদে দেশে পাঠাতে। তার পাঠানো টাকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে দেশের উপকার হচ্ছে তা অনেকে জানলে ও অনেকে জানেন না ।এই ক্ষেত্রে সচেতনার অভাবকেই দায়ী বলা যায়।

দিনে দিনে আমাদের দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে । সেই জনসংখ্যা আমাদের জন্য যেন অভিশাপ না হয়ে আশীর্বাদ হয় , তা আমরা সকলে চাই । তাই সবার আগে প্রয়োজন এই জনসংখ্যাকে দক্ষ করে গড়ে তোলা । সেটা পুরুপুরি সম্ভব না হলে চেষ্টা করতে হবে সাধ্যমত । সেক্ষেত্রে সরকারের যেমন এগিয়ে আসা উচিত তেমনি বিভিন্ন সংস্থাকে ও এগিয়ে আসতে হবে ।

এবার আসি এই প্রতিবেদনের মুল কথায় । একজন বাংলাদেশী মধ্যপ্রাচ্যে আসতে যে পরিমান খরচ গুনতে হয় সেই তুলনায় অন্য দেশী একজন অনেক কম পয়সায় আসতে পারে। উদাহরন স্বরূপ একজন বাংলাদেশী সৌদি (যদি ও এখন সৌদির ভিসা প্রায় বন্ধের পথে) আরব আসতে হলে তাকে কমপক্ষে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা দিতে হয়। এই পুরু টাকা কিন্তু আসলে লাগার কথা নয় । এখানে বিভিন্ন মধ্যস্বত্ব ভোগী ফায়দা লুটে নেয় , আর সেই কারনেই একজন লোককে সৌদি আরব আসতে হলে মোটা অংকের টাকা গুনতে হয়। অন্য দিকে ভারত, শ্রীলংকা , পাকিস্তান, নেপাল এসব প্রতিবেশীদেশের লোকেরা নামমাত্র খরচে বিদেশে আসে । সরাসরি কথা বলে জানা যায় , ভারত থেকে সত্তর হাজার রুপি থেকে শুরু করে একলক্ষ রুপি দিয়ে সৌদি আরব আসা যায় অনায়াসে । এবার হিসেব করে দেখুন সত্তর হাজার রুপিতে বাংলাদেশী কত টাকা হয় । অন্য দিকে নেপাল থেকে মাত্র একলক্ষ কিংবা একলক্ষ বিশ হাজার নেপালি রুপি (যার মুল্যমান আমাদের দেশের সমান) লাগে । ভেবে দেখুন তাদের তুলনায় আমাদের কেন এত বেশী টাকা লাগে । এবার আসুন কেন বেশী টাকা লাগে সেই হিসাবে ।

সৌদি আরবে ভিসা দুই ভাবে পাওয়া যায় । এক কোন কোম্পানি থেকে ফ্রি অথবা কিনে নিতে হয় । একটি ভিসা বাহির করতে হলে খরচ পড়ে ২২০০ সৌদি রিয়াল । এরপর এটাকে ওকালা (আরবি ভাষা) করে বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্সিতে পাঠাতে হয়। সেখান থেকে প্রার্থীকে মেডিকেল এবং বিমানের টিকেট কিনে এরপর আসতে হয় । এখন প্রশ্ন এতটাকা কেন লাগে ।সেই হিসাবে দেড় লক্ষ থেকে একলাখ সত্তর হাজার টাকা লাগার কথা । হ্যাঁ আপনি যদি ভিসাটি নিজে না পান তাহলে যে পেয়েছে তার কাছ থেকে কমপক্ষে ছয় থেকে সাত হাজার রিয়ালে কিনতে হয় । ক্ষেত্র বিশেষে দশ বারো হাজার রিয়াল ও লাগে । এখানে আপনি নিজের সুবিধার জন্য একজনের ক্ষতি করলেন । ব্যাপারটা এমন ।

স্বার্থের উদ্ধে থেকে যে ভিসা পায় সে যদি সামান্য লাভে ভিসা দেয় তাহলে এত খরচ হয় না । এরপর ট্রাভেল এজেন্সি সেখানে তারা প্রায় প্রতিটি ভিসা থেকে কমকরে হলেও পঞ্চাশ হাজার টাকা থেকে একলক্ষ লাভ করে । এখানে সামান্য কয়েকটি প্রক্রিয়ার কথা বললাম । এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে ভিসার দাম গিয়ে পড়ে সেই চড়া মুল্যে। তখন একজন শ্রমিক কিংবা বিদেশে কাজ করতে ইচ্ছুক একজন ইচ্ছে করলেই আর বিদেশে আসতে পারে না । আর একজন লোক সহজে দেশের বাইরে না আসতে পারা মানেই ধীরে ধীরে দেশের বোঝা হয়ে দাঁড়ানো ।

কিন্ত পার্শ্ববর্তী দেশ গুলোর শ্রম কল্যান পরিষদ এসব ব্যাপারে বেশ সচেতন বিধায় সেই সব দেশের মানুষ নামমাত্র পয়সা খরচ করে বিদেশ পাড়ি দিয়ে কাড়ি কাড়ি রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে অনায়াসে । আমাদের দেশের শ্রম কল্যান মন্ত্রনালয় এসব দিকে খেয়াল রাখলে দেশের সাধারন মানুষের যেমন উপকার হত , স্বল্প টাকা খরচ করে তখন অনেকে বিদেশে পাড়ি জমাতেন অনায়াসে । তখন দেশ রেমিটেন্সের বাড়তি টাকা পেত।তখন দেশে এত বেকার জনগোষ্ঠী থাকত না , সেই জনগোষ্ঠী উপার্জনক্ষম হয়ে দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা রাখতে পারত ।

আসুন নিজের লাভের চেয়ে অন্যের উপকারের দিকে খেয়াল করি , সমৃদ্ধি শীল দেশ গড়ায় নিজেকে সামিল করি । দেশ বাচলে আমি বাঁচব , আমি বাঁচলে আমার সন্তান বাঁচবে ।

Touhidullah82@gmail.com
সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে