ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমাদের দেশে জাতীয় সংসদ বর্জন বেশ কয়েক বছর ধরে একটি নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা । বিরোধী দলে যেই থাকে সেই অনায়াসে সংসদ বর্জন করে । এটা দেখে এ দেশের মানুষ অভ্যাস্ত। এবার শুরু হল আদালত বর্জন। আদালত যেখানে মানুষের শেষ আশ্রয় কেন্দ্র। মানুষ অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিচারের প্রার্থী হয়ে সেখানে যান । সেখানে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আইনজীবী থাকেন , তাদের বিশ্লেষণ শুনে মহামান্য হাকিম সাহেব রায় প্রদান করেন। আজ এই মর্মে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় কবি এবং সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বলেছেন-

“এত দিন বাংলাদেশের রাজনীতির অপরিহার্য অংশ হলো সংসদ বর্জন। যাঁরা বিরোধী দলে থাকেন, তাঁরা সংসদ বর্জন করেন। এবং এ জন্য যুক্তি দাঁড় করাতেও অসুবিধা হয় না। ক্ষমতায় গিয়ে আবার তাঁরাই সেই যুক্তিগুলো ভুলে যান। ইদানীং যুক্ত হয়েছে আদালত বর্জন। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিবাদী পক্ষের আপত্তি থাকতে পারে। সেসব আপত্তি তাঁরা আদালতে পেশ করবেন। বাদী ও সাক্ষীকে জেরা করবেন। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাবেন। কিন্তু এসব না করে আদালতের প্রতি আস্থা নেই বলে আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে এখন আইনজীবীরা মিছিল করছেন। আদালত অঙ্গনকে তারা রাজপথ বানাচ্ছেন।

বুধবার একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আদালত বর্জন করেন দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর আইনজীবীরা। তাঁদের যুক্তি হলো আদালতের প্রধান বিচারক বিচারপতি নিজামুল হক যেহেতু ১৯৯৪ সালে গঠিত গণতদন্ত কমিশনের একজন আইনজীবী ছিলেন, সেহেতু তিনি বিচারকের আসনে বসতে পারেন না। তাঁদের এই যুক্তি যে ঠিক নয়, তা নিশ্চিত করলেন সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তাঁর পাল্টা যুক্তি হলো, যিনি আইনজীবী হিসেবে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করছেন, ভবিষ্যতে যদি তিনি হাইকোর্টের বিচারক হন নির্বাচন কমিশনসংক্রান্ত কোনো মামলার বিচার কি করতে পারবেন না, একসময় তাঁদের আইনজীবী ছিলেন এই অজুহাতে? তা ছাড়া গণতদন্ত কমিশন আইনি কোনো সংস্থা নয়। এটি ছিল নাগরিকদের উদ্যোগ। যাঁরা নিজামুল হকের ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছেন, তাঁরা আসলে কুযুক্তি দেখাচ্ছেন অথবা আদালত বর্জনের মওকা খুঁজছেন।”

আমি মনে করি তিনি যথার্থই বলেছেন। আসলেই সেই সব আইনজীবীরা তাঁরা কুযুক্তি দেখাচ্ছেন এবং আদালত বর্জনের মওকা খুঁজছেন। এখন প্রশ্ন হল এই যে আদালত বর্জন এটা কি আদালত অবমাননা নয় । যদি বিজ্ঞ আইনজীবীরা আদালত বর্জনের মাধ্যমে আদালত অবমাননা করেন তাহলে সাধারন মানুষ কি করে আস্থা রাখবে এসব আইনজীবীদের প্রতি । একজন আইনজীবী আদালতের সন্মান বজায় রখবে এটাই আমাদের চাওয়া । আশা করি তাঁরা এমন কিছু করবেন না যাতে করে তাদের কর্মকাণ্ড অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন করে ।