ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

দেখতে দেখতে এই ছোট দেশটার চল্লিশ বছর হয়ে গেছে । যদি ও আমি এর চেয়ে ছোট । তবে জন্মের পর থেকে আমার চিরচেনা দেশ মানেই বাংলাদেশ । লাখো স্বপ্নে বুনা এর প্রতিটি পরতে পরতে। দেশ স্বাধীন হয়েছে সার্বভৌমত্ব পেয়েছে , আখন্ড সীমারেখা পেয়েছে । দিনে দিনে সবচেয়ে যেটা এই দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা হল দুর্নীতি । ছেলে বুড়ো , আমলা , মন্ত্রী থেকে শুরু করে ডাক্তার শিক্ষক সকলে দুর্নীতির কালো ছোবলের মাঝে বন্ধী হয়ে আছে । দুর্নীতির খোলস ছাড়িয়ে বেরিয়ে আসতে চাইলে ও আজ তা সহজ নয় । সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এর অবস্থান । আবার এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন সময়ে তাদের তাজা প্রান ঝরে গেছে নিমিষে । এর পর ভয় আর ভীতির কারনে সকলে দুর্নীতির সাথে আপোষ করে খোজা’দের মত টিকে আছে ।

সব কিছুর শেষ হলে ও দুর্নীতির যেন শেষ নাই । আমাদের তরুন প্রজন্ম যদি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ায় , তাহলে একদিন আমাদের কি হবে ভাবা মুশকিল । অর্থনীতির চাকা আজ সচল হয়ে ঘুরে না । সকল দিকে শুধু হতাশা আর নৈরাজ্যের খবর আমাকে শঙ্কিত করে তুলে । এই কি মহান ভাষা শহীদ আর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল । এমন বাংলাদেশ কি তাঁরা চেয়েছিল । না ত্রা ছেয়েছিল সমৃদ্ধি শালী এবং শক্তিশালী এক দেশ । ক্ষমতায় থাকা কালের দল গুলো আমাদের এক বুঝায় আর রাজপথে থাকা দল গুলো আরেক বুঝায় । আমরা তাদের কথা শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে গেলেও তাদের সহজে ছুড়ে ফেলার সাহস রাখি না । যদি রাখতাম তাহলে কি এমন হত । আমাদের দেশের প্রধান দুদল ১৯৯০ সালের পড় থেকে পালা বদল করে দুইবার করে ক্ষমতায় ছিল , তাদের ব্যর্থতা গুলো ব্যর্থতায় রয়ে গেছে । শুধু রাজপথে কিছু আন্দোলন , অসহায় কিছু মানুষের রক্ত নিয়ে মিছিল ছাড়া আর কিছুই তেমন একটা হয়নি ।

আমাদের দেশে জনসংখ্যা আয়তনের দিক দিয়ে অনেক বেশী । কেউ জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তরের চেষ্টা করেনি । ১৯৮০ সালে মালয়েশিয়া আমাদের সমবস্থানে থাকলে ও আজ তাদের মাঝে আর আমাদের মাঝে অনেক তফাৎ । মালয়েশিয়ার সরকার দেশের জন্য সে দেশের সাধারন মানুষের কল্যানে অনেক কিছু করে গেছেন । যে কারনে বিশ্বে মাথা উচিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে ইসলামিক দেশটি । আর আমাদের দেশের কর্ণধাররা ক্ষমতার লোভে কত কিছুই না করেছে । তাতে করে জাতিকে দেওয়ার মত কিছুই তাদের ছিল না । সন্ত্রাস আজ মুখ্য বিষয় । জীবনের নিরাপত্তা আজ হুমকির সম্মুখীন । এসব অবস্থা বা পরিস্থিতি একদিনে গড়ে উঠে নি । দিনের পড় দিন , বছরের পড় বছর অবহেলা আর অযত্নের মাঝে এসব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ।

বিজয়ের চল্লিশ বছর পূর্তিতে আমরা কি পারি না দুর্নীতি , সন্ত্রাস রাহাজানি এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে । আমি জানি আমরা অবশ্যই পারি । আর এর জন্য দরকার শক্ত মনোবল । আশা করি বিজয়ের চল্লিশ বছরে আমরা প্রত্যেকে দুর্নীতিকে না বলি জোড়ালো কণ্ঠে । ভুলে যাই কে কি করেছে , আর কে কি করবে । জেগে উঠতে হলে নিজেকেই জেগে উঠতে হবে । তখন দেখবেন আপনার সাথে অনেকে জেগে উঠেছে সাহসের কঠিন হাতিয়ার নিয়ে , ব্জ্র কণ্ঠে সেও প্রতিবাদ করছে ।