ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত সপ্তাহে নতুন দুইজনকে মন্ত্রিত্ব প্রদান এবং আজ ৫ ই ডিসেম্বর মন্ত্রীসভার রদবদল সরকারের শেষ চাল মনে হল । যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নিয়ে দেশে এবং দেশের বাইরে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল তাতে সরকার শঙ্কিত হয়ে পড়ে । এরপর অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলো ও আপেক্ষিক ভাবে তাদের সেরাটুকু দিতে ব্যারথ হয়েছে । তখন প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিবর্তনের মাঝে ফিরে এলেন । তবে যে যোগাযোগ মন্ত্রী নিয়ে এত কথা তাকে কেন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হলনা সেই প্রশ্ন থেকেই গেল ।

বেশ কিছুদিন ধরে সরকারের সমালোচনা করে আসা নতুন দুই মন্ত্রীকে বেশ কঠিন এবং গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এর মাঝে আশার বানী শুনা গেল নব্য গঠিত রেলমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সুরুঞ্জিত সেন গুপ্তের মুখে। রেল যেখানে বিশ্বে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান সেখানে বাংলাদেশ ফি বছর গুনতে হয় কোটি কোটি টাকা লোকসান । আর তাই সুরুঞ্জিত সেনের বক্তব্যে আশার আলো দেখতে দোষ নেই । দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর রাজনীতি করে অবশেষে মন্ত্রী হয়েছেন তিনি । আর সকলের মত আমি ও তাকিয়ে আছে তার আশার বানীর দিকে চেয়ে ।

সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত আরেক মন্ত্রী যাকে কাব্যিক কথাবার্তা বলতে প্রতিনিয়ত শুনা যায় তিনি বলেছেন ” কথা কম বলে বেশী কাজ করব” আমরা ও চাই কথার চেয়ে কাজ বেশী হোক । দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাক । যেই মন্ত্রণালয় নিয়ে সরকার অনেকটাই বিব্রত সেই মন্ত্রণালয়ের সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত ওবায়দুল হক এখন কি করেন তাই দেখার বিষয় । আর সরকারের এই নীতির ফলে হয়ত অচিরেই পদ্মা সেতুর কাজ চালু হবে বলে আমার ধারনা ।

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ” এতদিন ভাল ভাল কথা বলেছি। এখন ভাল কাজ করব। তিনি বলেন, হাতে সময় কম। কথা কম বলে কাজ বেশি করতে হবে।” তার কথায় আশার বানি শোনা গেল ।আশা নিয়েই এখন আমাদের কে বেঁচে থাকতে হবে , কেননা চলমান পরিস্থিতি আর যাই হোক দেশ কিংবা সরকারি দলের জন্য মঙ্গল জনক নয় ।

অন্যদিকে আজ আরো বেশ কিছু মন্ত্রনালয়ে ব্যাপক রদবদল হয়েছে । বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ফারুক খানকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন এবং ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জি এম কাদেরকে বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া হয়েছে। আর বিজ্ঞান এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ভেঙে গঠিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন ইয়াফেস ওসমান।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। এরপর একই বছরের ২৪ জানুয়ারি এবং ২৫ জুলাই দুই দফায় মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত ২৮ নভেম্বর আরেক দফায় আরও দুজন নতুন মন্ত্রী হন। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়াল ৪৬ জন।

নব গঠিত এবং পুরাতন সব মিলিয়ে এই সরকারের উন্নয়ন এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য এটাই বোধহয় শেষ চাল । আর সবার মত আমরা ও দেখতে চাই সরকারের এই চাল আমাদের জন্য কতটুকু সফলতা বয়ে আনে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ।