ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গত এক বছরে একটি নয় প্রায় ২২টির ও অধিক গুপ্তহত্যার খবর মিলেছে পত্রিকার পাতায় । দুই একটি ঘটনা হলে বলা যেত এটি সাধারন কোন ঘটনা । কিন্তু যখন একের পর এক গুপ্তহত্যা সংগঠিত হচ্ছে এওং নিহতদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে । তখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনি যে বসে বসে আঙ্গুল চুষছে না তাই বা কি করে বলব । প্রতিটি স্বজন হারাদের আর্তনাদ আমাকে যেমন কষ্ট দেয় তেমনি প্রতিটি পরিবার ভুগে অনিশ্চয়তায় । এর জবাব সাধারন জনগন কার কাছে চাইবে , প্রথাগত ভাবে সরকারের কাছেই এর বিচার চাওয়া হয় । কিন্তু সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহীনি যখন ব্যারথ হচ্ছে বারবার তখন সেইসকল বাহীনির উপর মানুষের আস্থাই বা কতটুকু থাকে ।

প্রসঙ্গগত বিদেশগামী আত্মীয়কে বিদায় জানাতে গত ১৭ নভেম্বর সকালে ভোলার বোরহানউদ্দিন থেকে ঢাকায় এসেছিলেন পাঁচজন। ওই দিন দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে তাঁদেরসহ সাতজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর ১০ দিন পর আশুলিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁদের একজন জসীমউদ্দীনের (৩৫) লাশ।আর কত লাশ দেখতে হবে এসব অভাগা স্বজনদের তার হিসাব নেই । জনজীবনে এখন জীবনের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন । বিজয়ের চল্লিশ বছর পূর্তি হবে আগামিকাল । স্বাধীন দেশেই যদি পরাধীনের মত থাকতে হয় সেটা অত্যন্ত লজ্জার । সেই সব স্বজন হারানো পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কি করার আছে আমাদের ?

এই সাতজন ছাড়াও গত এক বছরে প্রথম আলোর হিসাবে ২২ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের লাশ পাওয়া গেছে। সবার স্বজনদের অভিযোগ, তাঁরা সবাই গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাত রয়েছে।

প্রশ্ন আসে সকলেই বলছে এসব ঘটনার পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাত রয়েছে। তাহলে সরকারের উচিৎ প্রকৃত ঘটনা জনগনের সামনে তুলে ধরা । আর তা না হলে সরকারের ভাবমূর্তি যেভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে তা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না । আর কেনই বা ঘটছে এমন ঘটনা বারবার । প্রকৃত অপরাধী কেন ধরা যাচ্ছে না ? এসব প্রশ্ন জানার অধিকার একজন নাগরিক হিসাবে সকলের আছে । সরকার ও সেসব প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য ।

মুন্সিগঞ্জে ধলেশ্বরী নদী থেকে গত মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া তিনজনের লাশ , তাদের স্ত্রীরা এসে গতকাল নিখোঁজ হওয়া স্বামীদের লাশ শনাক্ত করেন।স্বজনেরা জানান, মঞ্জু ও আকতার তাঁদের সঙ্গী অন্য দুই কাঁচামাল ব্যবসায়ীর সঙ্গে ৭ ডিসেম্বর কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হন। বাকি দুজন হলেন ইউনুস মুন্সী (৫০) ও শেখেন মাতবর। তাঁরা সবাই ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। তাঁরা সবজি কিনতে দাউদকান্দি গিয়েছিলেন।

গতকাল সকালেই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আপন দুই ভাই ইউনুস মুন্সী, মঞ্জু মুন্সী ও মামাতো ভাই শেখেন মাতবরের (২৫) খোঁজে মুন্সিগঞ্জে আসেন সাগর মুন্সী। তাঁদের পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় লক্ষণদিয়া গ্রামে। তাঁরা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সানারপাড়া এলাকায় থাকেন।

আসলে কি এই গুপ্তহত্যা ? আর কেনই বা হচ্ছে এমন তা আর সকলের মত আমার নিজের কাছেই অজানা । সরকারের উচিৎ অতি দ্রুত এই বিশয়ে বাস্তব এবং জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া । তা না হলে দেশের মানুষ অনেক আস্থা হীনতায় ভুগবে । তাই এই গুপ্তহত্যার রহস্যে উম্মচনে সরকারকে তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে আরো কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ ।

সাধারণভাবে মানুষের ধারণা, সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হত্যাগুলো ঘটাচ্ছে। এই ধারণা থেকে মানুষ খুব অসহায় বোধ করতে শুরু করেছে। কারণ, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস হলে তো সাধারণ মানুষের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না।

কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সব সময়ই বলা হচ্ছে, এসব ঘটনা তারা ঘটাচ্ছে না। এর সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যদি তা সত্য হয়ও, তাহলেও কারা, কী উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে, সেটা তাদেরই খুঁজে বের করা উচিত।