ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

বিজয়ের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অনেক অনুষ্ঠান হল । দেশের বাইরে থেকে প্রতিটি মুহরত টিভি সেটের সামনে বসে অনুষ্ঠান গুলো দেখেছি একের পর এক । কিন্তু কোন অনুষ্ঠানে কিংবা কোন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী আমলাদের মুখে একবার ও প্রাবাসীদের কথা শুনলাম না । তাই অনেকটাই অবাক হলাম । প্রবাস শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত নিজেরদের সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছে দেশ ছেঁড়ে দেশের বাইরে ।

দশ পারসেন্ট লোক মানে প্রবাসী তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছতে সক্ষম হয়েছেন । দেশের জন্য , নিজের পরিবারের জন্য সর্বোপরি বেঁচে থাকার জন্য বাকী নব্বই ভাগ শ্রমিক প্রতিনিয়ত লড়ছে । এ এক অন্য রকম যুদ্ধ । যুদ্ধ অনেক রকম হয় প্রত্যেক যুদ্ধে অংশ গ্রহন না করলে এর বাস্তবতা সম্পর্কে ধারনা করা যায় না ।

দেশ স্বাধীন হয়েছে , ভয়াবহ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের দেশ , ভাষা । সেই যুদ্ধের ভয়াবহ বিভীষিকা যে সরাসরি দেখেছে সে জানে কত নির্মম ছিল সেই ঘটনা । আমরা শুনে কতটা অনুধাবন করতে পারব।

মুল প্রতিবেদনে আবার ফিরে আসি । বিজয়ের মাসের পর এল ইংরেজী নববর্ষ । সেই নববর্ষের অনেক অনুষ্ঠান মালার মাঝে ও কোথাও খুঁজে পেলাম না হতভাগা প্রবাসীদের । হায়রে দেশ । সকাল থেকে রাত অবধি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যারা প্রতিনিয়ত দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে তাদের কথা কেউ মনে রাখে না । হ্যা মনে রাখে একদিন বিশ্ব আদিবাসি দিবসে । সেদিন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শ্রম মন্ত্রণালয় সবাই অনেক আশ্বাস আর আশার বানী শুনায় ।

সৌদি আরব এতবড় নিরাপদ শ্রম বাজার আজ হারাতে বসেছে বাংলাদেশ । সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যর্থতা দেশের জন্য অকল্যান বয়ে আনছে । সেই সুযোগে প্রতিবেশী দেশ গুলো সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সল্প খরচে শ্রমিক পাঠিয়ে সৌদি আরবের বিশাল শ্রম বাজার নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নিচ্ছে । আর আমাদের দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বসে বসে আঙ্গুল চুষছে ।

আবার মুল কথায় ফিরে আসি । নববর্ষের দিনে বিভিন্ন দেশের দুতাবাস যখন আনন্দ উল্লাস নিয়ে মেতে আছে তখন আমাদের দূতাবাসে ঝুলছে বড় তালা । নেই কোন আশার বানী । আজ নয় অনেক বার বলেছি এখন ও অনেক অবৈধ বাংলাদেশি সৌদি আরবে অনেক কষ্টে আছেন । তাদের জন্য সরকার কিছুই করছে না । সরকার সব জানে শুনে শুধু চোখ বুঝে আছেন । ঘুমের মানুষ কে অতি সহজেই জাগিয়ে তোলা জায় , কিন্তু জেগে থাকা মানুষ কে জাগানো অতি মুশকিল ।

কিছুদিন পূর্বে এক নির্মাণাধীন বিল্ডিং এর ওয়াল ধসে তিন বাংলাদেশি নিহত হয় । সেই সময় সেখানে অবস্থান রত একজন সাংবাদিক আমাদের দূতাবাসে ফোন করেছিলেন , কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলে ও সত্য সেই ফোন কেউ ধরেনি । এত টাকা খরচ করে এদের এই দেশে রাখার কি মানে হয় ।

পরিশেষে বলব । দেশের যেকোন বড় মাপের আচার অনুষ্ঠানে যেন আমাদেরকে স্মরণ করা হয় , আমাদের কথা বলা হয় । দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখনো যদি কেউ অবিরত যুদ্ধ করে থাকে তারা হল প্রবাসী’রা ।