ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

যদি শব্দটির ব্যাখ্যা যেমন কারো কাছে নেই , তেমনি এই যদি শব্দ ছাড়া অনেক কিছুই অপূর্ণ থেকে যায় । যদি সেনাবাহীনি বর্তমান সরকার কে উৎখাত করত তাহলে কি আজকে এই লেখা লিখতে পারতাম । জবাবে অনেকে হ্যাঁ , অনেকে না বলবেন। যখনি কোন রাজনীতি কিংবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করি তখন অনেকেই বলেন তোমার এখনো সেই বয়স হয়নি । কেন আমার কি নিজস্ব মতামত দেয়ার অধিকার নাই । আমি মনে করি অবশ্যই আছে , আর সে কারনে আমি সবসময় নীতির পথ ধরে এগুতে চাই ।

কিন্তু এই পথে এগিয়ে যাওয়া অনেকটা বন্ধুর । দেশে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনা নিজের কাছে অনেক খারাপ লেগেছে । আর সেই কারনে আজ লিখতে বসলাম। সবার আগে বলতে হয় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের অত্যাচারে জর্জরিত চাপাইনবাব গঞ্জের হাবিবুরের কথা । বিএসএফের জওয়ানেরা গত ৯ ও ১০ ডিসেম্বর হাবিবুরের হাত-পা বেঁধে বিবস্ত্র করে তাঁকে রাইফেলের বাঁট ও লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটান। বর্বর ওই নির্যাতনের কথা ভাবলে এখনো আঁতকে ওঠেন হাবিবুর। এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো বর্বরতার ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালচে দাগ। হাঁটেনও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আটরশিয়া গ্রামের বাড়িতে গেলে নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করেন হাবিবুর। বলেন, ‘বাড়ি এসে বিএসএফের নির্যাতনের কথা বললেও লজ্জায় বিবস্ত্র করে পেটানোর কথা কাউকে বলিনি।’
হাবিবুরকে পেটানোর ভিডিওচিত্র বুধবার ফাঁস করে ভারতের এনডিটিভি। এ নিয়ে ওই দিন ও গতকাল বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
বি এস এফ যা দেখাল তা কি সভ্য জগতের কেউ করতে পারে তা আমার বোধগম্য নয় । সেই দেশের (ভারতের) সরকার নাকি ইতিমধ্যে সেই আট বি এস এফ কে চাকুরী থেকে বহিস্কার করেছেন। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উচিৎ এই ব্যাপারে জোর তৎপরতা চালানো এবং অদূর ভবিষ্যতে যেন এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে । সেই ব্যাপারে ভারতের সাথে আলোচনা করা এবং এর মাধ্যেমে একটি সমাধানে আসা ।

এবার আসি স্বাধীনতা বিরোধী গোলাম আজমের গ্রেফতার এবং পরবর্তী কিছু বিষয়ে । জামায়াত ইসলামী এখন বেশ সংগঠিত একটি দল । তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি ও বেশ মজবুত । খালাদা জিয়ার সর্বশেষ শাসনামলে জামায়াত তার অনেক ছাত্র নেতাকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে । এতে করে সেনাবাহীনির ভেতরে জামায়েতের একটা শক্তিশালী ইউনিট তাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে ।

গোলাম আজম এখন বৃদ্ধ বলে বিদেশী সংবাদ মাধ্যেমে মানবতার প্রশ্ন তুলেন আমাদের দেশের অনেক সাংবাদিক । সেই সব রিপোর্ট দেখে অনেক কষ্ট হয় । তারপর ও সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নিতি দেখে নিজের ও হাসি পায় । সরকার সেই সকল গনমাধ্যেম গুলোকে প্রকৃত অর্থে নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি । তা না হলে যুদ্ধ অপরাধের বিচার নিয়ে দ্বিমুখী বক্তব্য এবং সংবাদ বহির্বিশ্বে প্রচার হত না।

গোলাম আজম গ্রেফতারের পর পুলিশের উপর একদল অস্ত্রধারীর হামলা , সেনা বাহিনীর ভেতরে আন্দোলনের ডাক সব কিছু কি অর্থ বহন করে এটা সকলেই বুঝে । যতদ্রুত সম্ভব সেইসকল ঘৃণিত যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করতে হবে । না হলে আগামী দিনগুলোতে অনেক বড় কোন বিপর্যয় মোকাবেলা করতে হতে পারে সরকার কিংবা এই দেশের সাধারন জনগন কে ।

আমি আশা করি সরকার এই ব্যাপারে বেশ সচেতন । কিন্তু সচেতনের প্রক্রিয়া কেমন সেটা বুঝতে আর সকলের মত আমার ও সময় লাগে । কেন এতবড় গোয়েন্দা ইউনিট থাকলে ও বি ডি আর বিদ্রোহের মত ঘটনা ঘটে যায় । কেন প্রতিদিন গুম হত্যা হয় কিংবা হচ্ছে এসব প্রশ্নের উত্তর কিন্তু সরকারের কাছে চাইবার অধিকার একজন নাগরিকের আছে , সেই কথা সরকারের খেয়াল রাখা উচিৎ।
সকল ষড়যন্ত্র পেছনে ফেলে গনতন্ত্রের জয় হবে এটা আর সকলের মতই আমাদের প্রত্যাশা