ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দেশ কে সকলেই ভালোবাসে , যেমন হাসিনা সরকার ও ভালোবাসে তেমনি খালেদা সরকার ও ভেসেছিল । তাদের এই মহা ভালোবাসায় আমাদের কি নিদারুন অবস্থা হচ্ছে বা হয়েছিল তা বলতে গেলে আবার চরম বিপত্তি । কলাম লিখব বলে একাধিক বার জাতীয় সংবাদ পত্রে লিখেছিলাম তখন সংশ্লিষ্ট সম্পাদক সাহেবরা বিনীত ভাবে বলেছিল যে কোন একটি পক্ষ নিয়ে লিখুন । কারন কেউ নিরপেক্ষ নয় । হ্যাঁ , কেউ নিরপেক্ষ নয় সেটা আমি জানি নিরপেক্ষ মানেই তৃতীয় চোখে সবকিছু দেখা । আর তৃতীয় চোখের ক্ষমতা বেশ শক্তিশালী সে কথা কারো অজানা নয় । কিন্তু বর্তমান সময়ে তৃতীয় চোখে কয়জন দেখেন কিংবা দেখতে চান । ইদানিং মাসাল্লা স্যাটেলাইট চ্যানেলের কল্যানে প্রতিটি টিভি চ্যানেলে যে হারে আলোচনা মুলক অনুষ্ঠান গুলো হচ্ছে বা দেখানো হচ্ছে এতে আমাদের কি লাভ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার বিষয়। কেউ একজন সোজা বলেন তো অন্যজন বাঁকা কথা বলেন। কেউ আবার দেশ স্বাধীনটার পূর্বে বিএনপি সৃষ্টি হয়েছিল এমন আজগুবি কথাও বলেন । স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে শেখ মুজিব ছাড়া অন্য কোন নেতার ভূমিকা কেমন ছিল সে কথা সেই সময়ের সকলের জানা । আবার কেউ বলে আমি জয়বাংলা বলিনি । হাস্যকর কথাবার্তা শুনতে কেন জানি অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমি । সেই সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছে আমার স্বাধীন দেশের চিন্তশীল মানুষ। বিবেকের কাছে প্রশ্ন করলে কত কিছুর সঠিক উত্তর জানতে চায় মন । বিগত দিনে খালেদা সরকারের আমলে যখন অপারেশন ক্লিনহার্ট নিয়ে আমরা আমি এবং দেশের মানুষ শঙ্কিত ছিল তখন সেই সময়ের বিরোধীদল অনেক বক্তব্যে আলোচনায় এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন । এর পর শুরু হয় র‌্যাবদের ক্রস ফায়ার । এটা নিয়ে ও অনেক হৈ চৈ চলে দেশ জুড়ে ।
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে সবাই ভাবে যাক বাবা এবার বুঝি শান্তিতে থাকব । না সেই স্বপ্ন সপ্নই রয়ে গেছে, দেশের মানুষের সকল কিছু ধূলিসাৎ হচ্ছে প্রতিদিন। শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি সরকার মুখ বুঝে দেখে গেছেন এবং যাচ্ছেন প্রতিকার কিছুই করতে পারছেন না। সরকার যেখানে ব্যর্থ সেখানে অন্য কেউ কিভাবে একে চালু রাখবে। বিগত বেশ কিছু দিনে শুধু উদ্বেগ নয় আতংক হিসাবে দেখা দিয়েছে গুম হত্যা । সকলে আজ ভয় পায় । আমি নিজেও পাই । হয়ত দেশের বাহিরে আছি বলেই রক্ষা । বেশ কিছু মন্ত্রনালয়ের দুর্নীতি এখন সকলের জানা বিষয়। সব মিলিয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের বর্তমান অবস্থা একেবারে তথৈবচ । অন্যদিকে যে কোন সিদ্ধান্ত কে না বলে বিরোধী দলের অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে । দেশের জন্যে কে কি করছে । সে সব ভাবার জন্য এখন রাজনীতিবিদদের সময় নেই।

সৌদি আরব থেকে আগামী ৮ই মার্চের মধ্যে সকল অবৈধ অধিবাসীদের দেশে ফিরে যাবার জন্য আউট পাস সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে । কিন্তু দেশের সংবাদ মাধ্যম এবং আমাদের দূতাবাস এসব ব্যাপারে নীরব ভুমিকা পালন করছে । যেন তারা কিছুই জানেন না । বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হোক কিংবা প্রবাসীকল্যান মন্ত্রণালয় হোক এসব ব্যাপারে সৌদি আরবের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া । আমার ধারনা মতে সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শ্রম বাজার এই বাজারের দখল এখন নেপাল এবং ভারতের কাছে চলে যাচ্ছে । প্রতিদিন নেপাল থেকে অসংখ্য শ্রমিক এই দেশে আসছে, অথচ আমাদের দেশের শ্রমিকদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে । সরকারের এসব দিকে কোন নির্দিষ্ট খেয়াল আছে বলে আমি মনে করিনা । সরকার এখন পর্যন্ত এমন কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারে নাই যাতে করে সৌদি আরবে অবস্থান রত শ্রমিকদের কল্যান হতে পারে । দেশে বসে বড় বড় সেমিনার করে কোন লাভ নেই ।

সবাই যখন নিজের চিন্তা নিয়েই বেঁচে থাকতে চায় সেখানে আমার এই লেখা অনেকের বিরক্তের কারন হলে ও হতে পারে । নিজের ব্যাস্ততার কারনে এখন সময় বের করে লিখতে ও অনেক কষ্ট করতে হয় । তবু নিজের দেশের মানুষের জন্য লিখতে পেরে আমি ধন্য ।