ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

অনেকদিনের শংকা আজ সত্যিতে রূপ নিল । বেশ কিছুদিন পূর্বে একবার বলেছিলাম আমাদের সাংবাদিকরা যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে বহিঃবিশ্বের কাছে সঠিক তথ্য এবং উপাত্ত পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছে । আর সেই কারনে জামায়াতে ইসলাম সেই সুযোগের সদব্যাবহার করেছে । আল জাজিরা টেলিভিশন থেকে একটি রিপোর্ট তারা প্রকাশ করেছে । তাতে বলা হয়েছে কানে শুনতে পাননা পঙ্গু এবং অসহায় একজন লোককে বাংলাদেশ সরকার বিচারের জন্য দশ জন পুলিশ পাহারায় ট্রাইবুনালে নিয়ে যায় । এটি আসলে অত্যান্ত দুঃখজনক সংবাদ আমাদের জন্য । আমাদের দেশের আইনে যা অপরাধী তাকে অন্য দেশের মানে বহিঃ বিশ্বের একটি টিভি চ্যানেলে নির্দোষ কিংবা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে। এমনকি হুমকির মত করে বলা হয় বিচারের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থির হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সাবেক রাজনীতিবিদ গোলাম আযম ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের মুখোমুখি। ৮৯ বছর বয়সী গোলাম আযম হাঁটতে পারেন না, দেখতে পান না, এমনকি শুনতেও পান না। তা সত্ত্বেও ১০ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক তাঁকে পাহারা দিচ্ছেন।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘সম্প্রতি জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ এক শুনানিতে গোলাম আযম ও অন্য অভিযুক্তদের আটক করে রাখার বিষয়টিকে অযৌক্তিক ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।’

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যদিও আইনমন্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল নয়। এটি দেশীয় ট্রাইব্যুনাল। তাই যাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে, তাদের আটক অবৈধ নয়।’

প্রতিবেদনে শেষে গোলাম আযমের বিচার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্ত যা-ই আসুক না কেন, এর পরিণতি হবে নাটকীয়। এটা অনেকের কাছেই সুবিচার বলে মনে হবে। কিন্তু পরিণতিতে দেশ নিপতিত হবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে।’

৪০ বছরের আগে মানবতা কিভাবে লঙ্গিত হয়েছিল সেই বিষয়ে কোন রিপোর্ট প্রদান করা হয়নি । আল জাজিরা টেলিভিশনের উচিৎ ছিল সেই বীভৎস দৃশ্য গুলো দেখানো । স্বজন হারা মায়ের আর্তনাদ , কিশোরির কান্না বিজড়িত মুখ , আর নির্বিচারে গনহত্যা তাহলে বুঝা যেত কেন এই বৃদ্ধ বয়সে গোলাম আজমকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হল। এসব না দেখিয়ে একতরফা ভিডি ও চিত্র দেখানো মোটে ও উচিৎ হয়নি । আমাদের সরকারের উচিৎ অনতি বিলম্বে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং মুক্তি যুদ্ধের সময় হায়নাদের কিছু ভীডি ও চিত্র প্রচার করা । তা না হলে বহিঃবিশ্বের মানুষ মনে করবে আমাদের দেশে নিরীহ এক বৃদ্ধের বিচার করা হচ্ছে ।