ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আপসোস করে বলতে হচ্ছে যে আমাদের পুলিশ বিভাগে একজন ফেলুদা কিংবা কিরীটি রায়ের মত কোন গোয়েন্দা নেই । যদি থাকত তাহলে পুলিশ বিভাগ এবং গোয়েন্দা বিভাগকে বারবার সংবাদ সম্মেলন করে সাগর রুনি হত্যার মোটিভ এখন ও ধরতে পারেনি বলতে হত না । পুলিশের কাজ অপরাধী কিংবা খুনীকে গ্রেফতার করে জনগনের সামনে তুলে আনা । আর এখন দেখছি পুলিশ , গোয়েন্দা নিজেদের ব্যারথতা ঢাকতে প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করছেন । একেকদিন একেক কথা বলছেন ।

আমার মনে হয় এই সময়ে সত্যজিৎ রায়ের সেই কিংবদন্তী চরিত্র ফেলুদার দরকার আমাদের পুলিশ বিভাগের । তাহলে হয়তো এসব খুনখারাপির মোটিভ সম্পর্কে জানা যেত । আর আমাদের পুলিশ বাহীনি কিংবা গোয়েন্দা বাহীনি যেভাবে বসে বসে আঙ্গুল চুষত সেভাবেই চুষত নিশ্চিত মনে । একের পর এক ঘুম হত্যা হলে পুলিশ বলে কে বা কারা এসব করছে তা আমাদের জানা নেই । পুলিশের সামনে একজন মানুষকে নির্যাতন করলে পুলিশ কিছুই বলে না । আর এতে করে ধীরে ধীরে পুলিশের উপর মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে । এমনিতেই থানাতে যে কোন কাজ করতে গেলে পুলিশ নিদেন পক্ষে এক প্যাকেট সিগারেটে দিলে নড়ে চড়ে বসেন । একটি জি ডি করতে গেলে ও এর ব্যাতিক্রম হয়না ।

সাগর রুনীর হত্যাকান্ডে আমরা সকলে অবাক হয়েছি । সুরক্ষিত একটি ফ্ল্যাটে রাতের বেলা নির্মম ভাবে দুইজন নিরীহ দম্পতি খুন হয়ে যায় । পুলিশ কে ৪৮ ঘন্টা সময় বেঁধে দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী । তখন আশায় বুক বেধেছিলাম যাক এবার বুঝি ধরা পড়ল খুনীরা । এরপর তো দেখছি কালক্ষেপণ চলছে প্রকাশ্যে । একদিন পুলিশ বলছে শীঘ্রই ভালো খবর দিচ্ছি , অন্যদিন বলছেন এখনো খুনের মোটিভ জানা যায়নি । খুনের মোটিভ মনে হয় যে খুন করেছে সে এসে উনাদেরকে বলবেন তারপর উনারা ব্যাবস্থা নিবেন । হায়রে আমাদের দেশ হায়রে পুলিশ প্রশাসন । এই পরিস্থিতিতে মানুষ কার কাছে যাবে আশ্রয়ের জন্য ।
বিগত বছর গুলোতে পুলিশের নির্মমতা ডাকাত কিংবা দস্যুদেরকে ও হার মানিয়ে গেছে । এই অবস্থায় আমার মনে হয় এসব তদন্তের জন্য একজন ফেলু’দার খুব প্রয়োজন । আমি জানি আমাদের পুলিশ বাহীনিতে এমন ফেলুদা অনেক আছে । সরকারের উচিৎ সেই সকল ফেলুদাকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে এসব খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করা ।