ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

গতকাল একটি টেলিভিশনের সংবাদে দেখলাম ছোট্ট একটি শিশু তার পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা । রাস্তার পাশে বসে আছে তার মা । হাতে রশির বাকি অংশটুকু তার হাতে ধরা । ছেলেটির মা বলে দাবি করেন এই মহিলা । আদৌ কি তিনি তার মা ।মা হলে কি তিনি পারতেন নিজের সন্তানকে দিয়ে এভাবে ভিক্ষা করাতে । সাংবাদিকের অনেক প্রশ্নের জবাবে প্রথমে চুপ থাকলে ও পড়ে মুখ খুলেন সেই মহিলা । বাসায় কাজ করতে তিনি চাননা । তিনি চান তার ছেলেকে নিয়ে ভিক্ষা করতে । আসলে এতে কোন পুঁজির দরকার নেই । দরকার নেই তেমন বেশী শ্রমের । ময়লা পোষাক পড়ে সাধারণ মানুষের মনে সহানুভূতি সৃষ্টি করতে পারলেই তাদের লাভ । দৈনিক একহাজার থেকে দেড় হাজার টাকা যেখানে অনায়াসে কামানো যায় সেখানে ভিক্ষা ছড়ে কোন দুঃখে সে মহিলা কাজ করতে যাবে ।

রাস্তার পারে কিছু ফেরিওয়ালা যেমন বাঁদর নাচিয়ে পয়সা কামায় এমনি করে এই মা ছেলেকে পায়ে শিকল পড়িয়ে মানুষের সহানুভূতি নিয়ে পয়সা কামাচ্ছে । এসব দেখে নিজের কাছে যেমন খারাপ লাগে তেমনি বহির্বিশ্বে যখন এসব ছবি প্রকাশ পায় বিভিন্ন পত্রিকার পাতায় তখন আরো বেশী খারাপ লাগে । মানবধিকার বলে আমরা চেঁচামেচি করি । কিন্তু এসব কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয় ? দেশের তথা রাষ্ট্রের উচিৎ বিশেষ আইন করে এসব বন্ধ করা । আজকের সভ্য সমাজে এসব দৃশ্য আমাদের সকলকে দাস প্রথার কথা মনে করিয়ে দেয় । তখন আমরা লজ্জিত হই । আর সেই সাথে উঠে আসে দেশের নাম ।আর সেই কারনে সরকারের উচিৎ এই সকল বিষয়ের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং এসব অবহেলিত শিশু কিংবা নারী সকলের জন্য পুনর্বাসন ব্যাবস্থা করা । আর তা না হলে ধীরে ধীরে বিশ্বের দরবারে উঁচু করা আমাদের মাথা নত হয়ে যায় অনায়াসে । আশা করি দেশের সরকার এসবের দিকে খেয়াল রাখবে ।