ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

২০০৮ সালের জানুয়ারী মাসে সৌদি আরবের জিজান শহরে ময়লা ফেলার স্থানে প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়ানো একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। সাথে সাথে তাদের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগ সেই বস্তাবন্দী পচা লাশ তদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যায় । সেখানে প্রাথমিক ভাবে গোয়েন্দা দল মৃত ব্যাক্তির পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা চালায় । গত কয়েক মাসে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সকলের তথ্য মিলিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে মৃত ব্যাক্তির পরিচয় উদ্ধারে সক্ষম হন । এরপর পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা নিহতের স্বজন কে আশ্বাস্ত করেন অতি দ্রুত তারা এই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করবেন এবং অপরাধীকে গ্রেফতার করবেন ।

আশ্চায্য হলে ও সত্য যে চৌকস গোয়েন্দা দল এক সপ্তাহের মধ্যে অজানা অচেনা এক ব্যাক্তির খুনিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন এবং গ্রেফতার করেন । যেখানে খুনের মোটিভ তো দূরে থাক কোনকিছুই তাদের জানা ছিল না । মৃত ব্যাক্তির বাড়ি ছিল সৌদি আরবের রিয়াদে , আর লাশ পাওয়া যায় জিজান শহরে । এই অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের সাফল্যে সৌদি আরবের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বেশ খুশী । সে সময় একজন অফিসারের বক্তব্য ছিল এরকম ।

“ আমরা প্রত্যেকটি জিনিস অতি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র ভাবে বিশ্লেষণ করে ঘটনার গভীরে পৌঁছেছি । এজন্য আমাদের কয়েকজন অফিসার নিয়মিত পরিশ্রম করেছেন , যাদের কে আমরা সন্মানিত করব। এছাড়া এই অপারেশনে আমাদের সাত জন অফিসার গুরুতর ভাবে আহত হয়েছে । তবে আমরা কিভাবে এই সাফল্য পেলাম সেই কথা বলা যাবে না। “

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাস । ঢাকা শহরের না করা দুই সাংবাদিক রাতের আঁধারে নিজেদের বাসার বেডরুমে খুন হয়ে পড়ে থাকে । সেখানে ও পুলিশ আসে আলামত সংগ্রহ করে , দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আশ্বাস প্রদান করেন অতিদ্রুত আটচল্লিশ ঘন্টার মাঝে খুনিদের গ্রেফতার করা হবে । আমি ভাবলাম যাক ভাবা আমাদের দেশের পুলিশের অনেক উন্নতি হয়েছে । নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর অপরাধীকে গ্রেফতার করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র । অপেক্ষার পালা শেষ হয় কিন্তু অপরাধী গ্রেফতার হয়না । আশা নিরাশায় পরিনত হয় । সাগর রুনি দম্পতি তখন ওপার থেকে মিটিমিটি হাসছে , কিন্তু তাদের চোখে ক্ষোভ এবং অসহায়ত্ব স্পষ্ট । তাদের সন্তান মেঘের জন্য তাদের হাহাকার তখন অনুভব করা যায় না । একদিন নিজেরাই কত অপরাধী ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহযোগীতা করেছেন । আজ নিজেদের খুনিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারছে না বলে তারা বিরক্ত হচ্ছেন ।

পুলিশ বলে খুনের মোটিভ নেই । শরীরে একের পর এক আঘাতের চিহ্ন , বুকে বিঁধে যাওয়া চুরির বাট এমন অসংখ্য আলামত থেকে কি কিছুই মিলে না । যেখানে পচা লাশ থেকে অনেক আলামত মিলে এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করা যায় অনায়াসে সেখানে এত আলমতের পর কিছুই মিলে না । তাও আবার নির্লজ্জের মত সংবাদ সম্মেলন করে বলে উঁচু গলায় । হায়রে আমাদের গোয়েন্দা ও পুলিশ বিভাগ । এ যেন সাগর রুনির হত্যাকাণ্ড নয় পুলিশের হতাশাম্য কর্মকাণ্ডের বিবরনী । সাগর রুনি ও বোধহয় লজ্জা পাচ্ছে আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এসব কর্মকাণ্ড দেখে । অবাক হয়ে আমরা তাকিয়ে থাকি সংবাদের দিকে আশায় বুক বাঁধি আজ নয়তো কাল অপরাধী ধরা পড়বে ।

কিন্তু আশায় বুক বেঁধে কি লাভ । যেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিজেরাই ঢোল পিটিয়ে বলছে আমরা ব্যর্থ সেখানে আমাদের আশায় বুক বেঁধে কি লাভ । তখন বলতেই হয় সকল দ্বিধা ভুলে ক্ষমা কর সাগর রুনি আমাদের ক্ষমা কর । আমরা অযোগ্য আমরা অসহায় । আমাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই । যদি পার স্বর্গ থেকে আমাদের ক্ষমা করে দিও । আর যদি না পার …… সেকথা নাই বা বললাম ।