ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

আমার তখনো জন্ম হয়নি । আমার বাবা বয়সে তরুন । আমার দাদা সেই সময়ের একজন জ্ঞানী লোক এবং স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। বাংলাদেশের যুদ্ধের বেশীর ভাগ কথা আমি আমার দাদার মুখ থেকেই শুনেছি এবং বড় হয়ে নিজে কিছু জেনেছি । আজ পর্যন্ত ও জেনে চলছি । কখনো কোন মুক্তিযুদ্ধার খবর ফেলে সেখানে ছুটে গিয়েছি , তার সাথে কথা বলেছি এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার চেস্টা করেছি । আর সেই জানা থেকে মুক্তিযুদ্ধের কথা এলে প্রথমে যে কথা কিংবা যার কথা প্রথমে সকলের মুখে আসে তিনি হলেন শেখ মুজিবুর রহমান । বাংলার প্রান পুরুষ । একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে শেখ মুজিব ব্যাতিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অকল্পনীয় । সেই সময়ের মহান নেতা ভাসানী নিজে বুঝতে পেরেছিলেন তার আহবানে এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়বে না । যেভাবে পড়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে । শেখ মুজিবুরের নেতৃত্ব গুন বাংলার মানুষ কে মুগ্ধ করেছে । তার মুখের প্রতিটি কথা জাতি মন থেকে নিয়েছে এবং সেই মত চলেছে । আর সেদিন কোন মতাভেদ ছিলনা বলেই সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাদেশ নামের এক ভূখন্ডের।

সাধারন মানুষের জননেতার উদাত্ত আহবান সকলের মাঝে আগুন ছাড়িয়ে দিয়েছিল । দেশের মানুষ তার এককথায় যুদ্ধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল অনায়াসে , মৃত্যকে হাসিমুখে বরন করে নিয়েছিল লাখ লাখ যোদ্ধা । সেদিন মতভেদ ছিলনা । ছিল শুধু দেশের জন্য আকণ্ঠ ভালবাসা ছিল সেই সময়ের প্রিয় নেতা শেখ মুজিবুরের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা । এগুলো আমার কথা নয় । এসব কথা সেই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশকে পরাধীনতার কবল থেকে মুক্ত করেছে । এগুলো সেই অবহেলিত বাংলার গ্রামে গঞ্জে নিভৃতে পড়ে থাকা অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের কথা ।

পাকিস্তানের শোষণ ও নির্যাতনে এই দেশের মানুষ নিরবে চোখের জল ফেলেছে । আর সেই সময়ে আশার আলো হাতে নিয়ে এসেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান । সেই আলোর দেখানো পথে স্বাধীন হয় দেশ , মিলে স্বাধীনতা । আর পুরো জাতি সেদিন জেগেছিল ? কোনদিন জানেন , সকলেই জানেন , সেই ৭ই মার্চ। তৎকালীন সময়ে এক জনসমাবেশে এত মানুষ কখনো হয়নি , আমি জানিনা আজো কোন মিটিং এ এত মানুষ পৃথিবীর অন্য কোথাও জড়ো হয়েছে কিনা । মানুষ সেদিন অপেক্ষায় ছিল শেখ সাহেব কি বলে তা শুনতে । শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা করলেন তবে সরাসরি নয় , কিছুটা কৌশল অবলম্বন করলেন এবং সেই কৌশলে ঘোষণা করলেন বাংলার স্বাধীনতা । যারা বুঝে নেওয়ার তারা বুঝে নিল । শেখ মুজিবুর রহমান কিসের অর্ডার দিলেন । কি করতে বললেন । আর সেদিন নাকি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বীজ বপন হয়ে গেল স্থায়ীভাবে । এরপরের ইতিহাস কিছুটা আনন্দের কিছুটা বেদনার কিছুটা দুঃখের , কিছুটা ক্ষোভের এবং কিছুটা অপমানের । ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো মানুষের সামনে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক সেই ভাষণ এ দেশের জনগণকে দারুণভাবে আন্দোলিত করে। ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’—স্লোগানে স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ জাতি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল।

সেদিন বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে…।’

আজ দুঃখ হলে ও বলতে হয় । বিরোধী দলীয় নেত্রী এই দিনে বানী দেননা । তাহলে কোথায় গেল গনতন্ত্র । উনার অজানা নয় বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য এই দিনটির গুরুত্ব কত । এই দিনটি মানেই বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি। আসুন সব ভুলে ইতিহাসকে সঠিক মর্যাদা দেই ।