ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

আমি সাধারন মানুষ । সাধারন ভাবে চলাফেরা করি। জীবন যুদ্ধে পোড় খাওয়া মানুষ, অনেক ঠেকে ঠেকে শিখেছি এবং প্রতিদিন শিখছি।পেশাগত এবং জীবিকার তাগিদে বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। একসময় সাংবাদিকতা করার বেশ শখ এবং ইচ্ছে ছিল। বেশ কিছু দৈনিকে ইন্টারভিউ ও দিয়েছিলাম। সেই সময়ে আজকের মত এত দৈনিক এবং সাপ্তাহিকের ছড়াছড়ি ছিলনা। একটা দৈনিকে মফস্বল সাংবাদিক হিসাবে কিছু লিখি। এরপর দেশ ছেড়ে চলে যাই , লেখালেখি ভুলেই যাই। অনলাইনে ব্লগের ছড়াছড়ি দেখে আবার একসময় লিখতে শুরু করি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ভালই চলছে আমার নিজের সময়।
সেদিন নিজেদের বাজারে গেলাম এক বন্ধুর সাথে। পুরান বন্ধুদের সাথে দেখা হল আড্ডা হল। এই সময় হোন্ডায় চড়ে অল্প বয়স্ক দুইজনকে দেখলাম বন্ধুর সাথে আলাপের জন্য থেমেছে। তাদের আলাপে বুঝতে পারলাম ছেলে দুটো সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত। তাই নিজে স্বপ্রণোদিত হয়ে আলাপ করলাম। জিজ্ঞেস করলাম কেমন চলছে কাজ । তাদের উত্তর শুনে বেশ অবাক হলাম। তারা সেইসব মিটিং মিছিলের ছবি টাকার বিনিময়ে ছাপান। অবাক হলাম যখন শুনলাম এখন নাকি এই কাজকেই সাংবাদিকতা বলে। আমি বললাম আপনাদের কার্ড কি দেখতে পারি? তারা প্রশ্ন শুনে বলল এসব কাজ করার জন্য এসব কার্ডের কি দরকার । শুধু স্থানীয় ভাবে রাজনীতি কিংবা পরিচিতি হলেই চলে।

এই সকল তথাকথিত লোকগুলো সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে অনেক মানুষকে নানা হয়রানি ও করে শুনতে পেলাম। একেই বোধহয় হলুদ সাংবাদিকতা বলে ।

এরপর আরো বেশ কিছু স্থানে এমন আরো কয়েকজন তথাকথিত সাংবাদিকের দেখা পেলাম। যারা বিজ্ঞাপন এজেন্টের মতই কাজ করছে বলে আমার কাছে মনে হল। এরপর এক পুরানো স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করে জানলাম দেশে নাকি এসব এখন হামেশাই হচ্ছে । শুনে আবারো বিস্মিত হলাম । হায়রে বাংলাদেশ , এখানে এমন কোন পেশা নেই যেখানে দুর্নীতি মুক্ত আছে । সংবাদ পত্র সমাজের দর্পণ আর সেই দর্পণে আমাদের প্রতিবিম্ব দেখায় নিষ্ঠাবান পরিশ্রমী সংবাদ কর্মী।

আমাদের উচিত তথাকথিত এইসব হলুদ সাংবাদিকদের কাছে দূর থাকা এবং সকলকে এদের ব্যাপারে সচেতন করে তোলা । জয় হক শুদ্ধ সাংবাদিকতার জয় হোক সত্যের ।