ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

প্রথম কথা- এইটা কোন লেইম বা ফেইক ভিডিও ছিলো না। মাছরাঙা এই ধরণের গুপ্ত প্রতিবেদন প্রায় সময় চালায়। এর আগে চিকিৎসায় অরাজকতা নিয়ে যে প্রতিবেদন তারা প্রচার করেছিলো তা ছিলো একটি এপিক।

তাদের মুখ ঝাপসা করে দেবার দরকার ছিল।

দ্বিতীয় কথা- যেভাবে এস.এস.সি পাশ করা ছেলে মেয়েদের সোফায়, চেয়ারে আদর করে বসিয়ে প্রশ্নের মাধ্যমে জ্ঞান যাচাই তাতে ‘ক্যামেরার সামনে নার্ভাসনেস’ এর যে বিষয়টি আসে, সন্দেহ আসে তা একেবারেই অমূলক। কেননা একজনের বাসায় কোন সাংবাদিক এসে যদি বলে- বাবু, আমি তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করব ক্যামেরার সামনে… তখন সে আয়নার সামনে গিয়ে চুল আঁচড়িয়ে যত সময়ে সে পরিপাটি হয়ে আসবে ততক্ষণেই সে মেন্টালি প্রিপারেড হয়ে যাব। আর সোফায় বসা দুটো মেয়ে, গুচ্ছ হয়ে বসা ছেলেদের দেখে মনে হয় না আকস্মিক গিয়ে, হুট করে তাদের সামনে মাইক্রোফোন তুলে ধরা হয়েছে। এই জায়গাটায় বলতে ইচ্ছে হচ্ছে তাদের পা কাঁপাকাঁপির কথা না, এ্যাপেয়ারেন্স বলে দিচ্ছে ওদের নার্ভাসনেসের মধ্যে প্রশ্ন করা হয় নাই। একজন নার্ভাস ছেলের কথা জড়াবে, মুদ্রাদোষ খুব প্রকট হয়ে ফুটে উঠবে, খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকবার প্রবণতা দেখা যাবে। ভিডিওতে এসবের উপস্থিতি যথেষ্ট ছিলো না।

তৃতীয় কথা- শিক্ষাব্যবস্থা যে নাজেহাল দশা করছে তাতে এটা দিয়ে কাউন্টার এ্যাটাক করবার কোন প্রশ্নই আসে না যে ভালো কোন স্কুলগামী ছেলে মেয়েদের সাথে কথা বলা হয় নি। এক্ষেত্রে দোষটা মাছরাঙার প্রতিবেদকের উপরও বর্তায়। নিরপেক্ষ থাকবার যে প্রথম শর্ত তা তাঁরা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা একেবারে ধরেই নিয়েছিলেন ‘জিপিএ ফাইভধারীদের প্রকৃত অবস্থা করুণ’। এ চিন্তা নিয়ে যখন তাঁরা প্রতিবেদন তৈরী করতে থাকেন তখন তারা দুটো বিষয় এড়িয়ে গিয়েছেন- ১. তাঁরা ভিডিও তে এমন কাউকে সংযুক্ত করেন নি যারা প্রশ্নগুলোর উত্তর পারে। ২. তাঁদের যেখানে শিক্ষার্থীদের ফেস ব্লার করে স্কুলের নাম দেওয়ার (এখানে অবশ্য আরেকটা প্রশ্ন চলে আসে। কিছুই করার নাই। মুখ দেখিয়ে হতাশা দেওয়া চেয়ে স্কুলের নাম দেখিয়ে এলিটদের দশা দেখানো অনেক যুক্তিযুক্ত।) কথা সেখানে তাঁরা উল্টো কাজ করেছেন। ছেলে মেয়েগুলো যদি একটি খারাপ প্রতিষ্ঠান থেকেও আসেও তাহলে আপনার কাছে প্রশ্ন দেশে এক হাজারটা স্কুল নাহয় ভালো। তাহলে আরো যে লাখ লাখ স্কুল আছে? সংখ্যাগরিষ্ঠ কারা? মাল্টিট্যালেন্টরাই? ফেসবুকের একজন ভাই বলেছেন, একজন খারাপ মানে দশজন খারাপ নয়, দশজন সংশোধিত হওয়া। এটাতে আমি একমত। কিন্তু বাস্তবতাকে আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। একটা গ্রামের স্কুলে শিক্ষার্থীদের চেয়ে শহরের স্কুলের শিক্ষার্থী অনেক অনেক দিক দিয়ে চালু হয়। এই বাস্তবতার সাথে ওইদিকগুলোর মিল আছে। বিভিন্ন দিক দিয়ে। তবে হ্যাঁ! যাদের সাথে কথা বলা হয়েছে তাদের থেকে আমরা জিপিএ ফাইভের একটা রূপ দেখতে সমর্থ হয়েছি কিন্তু যদি বলি যে আরো দশ বিশজন জিপিএ ফাইভ পেয়ে লাইফে শাইন করছে, তাদের মেধা অনেক তাহলে এটা হবে ঘটনার গ্র্যাভিটিকে আন্ডারপ্লে করা। আর আমরা যদি এখন সাংবাদিকতার প্রশ্ন নিয়ে চেঁচামেচি করি তাহলে অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত ঘটনা হবে। আসল পয়েন্ট হচ্ছে, শিক্ষাব্যবস্থার নাজেহাল পরিস্থিতি। এবং এখানে যে জিপিএ ফাইভের মূল্য কতটুকু অর্থহীন তা বারবার উঠে এসেছে।

এই পাশ, এই জিপিএ ফাইভ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা। প্রতারক আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা।

চতুর্থ কথা (শিক্ষার্থীদের প্রতি)- যদিও শিক্ষার্থীদের এই জ্ঞানহীনতা খুবই বাস্তব তথাপিও তোমাদের ভিডিও দেখে মন খারাপ করবার কিছু নেই। ওই যে! দশজন ভালো হতে পারে। কখনো প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা দারুন কিছু বের করে আনতে পারে না। যারা বিদ্রোহ করে, বিপ্লব করে তাদের থেকেই নতুন কিছু আসে। কিন্তু তাই বলে আমরা একেবারে একে বাদ দিয়ে দিতে পারব না। কেননা, আমাদের বাঁচতে হবে এই সমাজে। খেয়ে পরার জন্যে প্রথানুযায়ী শিক্ষাটা সাধারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্যে অপরিহার্য। তবুও কূপমন্ডুক হয়ে থেকো না। জীবনটাকে দেখ, নানাভাবে। জানলা খুলে দেখ। আজকে কালো খন্ড খন্ড মেঘ কত সুন্দর! এই কবিত্ব তোমাকে বোর্ডের বাংলা বই দিবে না। নিজেকেই বের করে আনতে হবে।

স্বশিক্ষিত হও!
অশিক্ষিত না।

Facebook: Muhammad Towkir Hossain