ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী, সাহসী পুরুষ। পুরো বিষয়টি সাজানো নাটক জেনেও জামায়াত নেতারা যখন দেশ-বিদেশের আইনজীবি নিয়ে ট্রাইবুনালে দৌড়াদৌড়ি করছে তখন সাকা চৌধুরী নিজে কথা বলছেন।

অবশ্য বলার সাহস করছে কারণ শেখ হাসিনা সহ মুজিব পরিবার যখন ১৯৭১ সালে আর্মির আন্ডারে সুখে দিনযাপন করছিল তখন সাকার পিতা শেখ মুজিব পরিবারের জন্য অধিকতর ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় শেখ হাসিনার ছেলে জয়ের জন্মের খরচাদিও তখন পাকিস্তান আর্মি দিয়েছিল। ওই সব গোপন কাহিনী সাকা জানেন কারণ শেখ মুজিব পরিবারের সাথে তার খুব আপন সম্পর্ক ছিল। টাকা পয়সা দিয়ে সহায়তা করত। এমনকি ১৯৭১ সালের এপ্রিলে সাকা পশ্চিম পাকিস্তানে পড়ালেখার জন্য যাওয়ার আগে নাকি শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে গিয়েছিলেন।

বিচারপতি নিজামুল হক যে ঘাদানিকের মেম্বার ছিল তা নিজামুল হক নিজেই স্বীকার করেছেন। সে প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে উদ্দেশ করে সাকা চৌধুরী বলেছেন, স্যার পত্রিকায় দেখলাম আপনি বলেছেন, ১৯৯৪ সালের গণতদন্ত কমিশনের সেক্রেটারিয়েট মেম্বার হিসেবে শুধু আপনার নামটা ছিল। কিন্তু স্যার রাজাকার, আলবদর, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা কোনো সহায়ক বাহিনীর কোথাও আমার কোনো নাম ছিল না।’

কথাটি শুধু সাকার বেলায় নয়, নিজামী-মুজাহিদ-সাঈদী-কামারুজ্জামান-মোল্লা কারো নামই রাজাকার, আলবদর, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা কোনো সহায়ক বাহিনীতে ছিলনা। তালিকা প্রকাশ করলে বিষয়টি প্রমাণিত হবে।

আরেকটি বিষয়, নিজামুল হকের শুনানীর সময় সরকার পক্ষের এক আইনজীবি বলেছিলেন, ঘাদানিকের ওই তদন্তের কোন লিগ্যাল বেইজ ছিলনা। তাই সেই তদন্তের কারণে নিজামুল হকের বিরুদ্ধে বলার কিছু নেই। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তারা স্বীকার করেছেন ওই সময় অবৈধ কাজ তারা করেছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেই অবৈধ ও হাস্যকর বিচারের রায় কার্যকর করার দাবী বিভিন্ন সময় করেছেন। কোন সরকারই সেই দাবী পুরণ করেনি। করার কোন কারণও ছিলনা।

তাহলে এখন কি সেই অবৈধ রায়কে এখন ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পায়ঁতারা কি আওয়ামীরা করছে? আবার ওই সময় অবৈধ কাজ যারা করেছিল, তারা আবারো যে অবৈধ কাজ করবে তার গ্যারান্টি কি? তাই আইনী নয় প্রবল রাজনৈতিক পাল্টা আন্দোলনের মাধ্যমে ঘাদানিকের নতুন রূপকে মোকাবিলা করতে হবে।