ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সত্যি বলতে কি, সত্য কোন একদিন প্রকাশ হয়েই পড়বে? যত চেষ্টাই করেন না কেন, ডেকে রাখার জন্য। কত বার, কত জন, কত ব্যক্তি, কত অসহায় সাহায্যের জন্য যখন পুলিশের দ্বারশ্ত হন, তখন পুলিশ কি ধরনের আচরণ করে, তা-জন সম্মুখে প্রকাশ করলেও, তার কোন সঠিক সমাধান হচ্ছে না। সাধারন মানুষ ধীরে ধীরে পুলিশের প্রতি আস্তা হারিয়ে ফেলছে। যেমন ধরুন- একটা সাধারণ ডাইরী করার জন্য গত মামের ১৬/০৯/২০১২ইং বনানী থানায় হাজির হন, এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলা। তাকে কোন মোবাইল / লোক মারফত পারিবারিক ভাবে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। এই বিষয়ে বেচারাকে তার লিখিত সাধারণ ডাইরী না নিয়ে ২০০/- টাকা প্রদান করে রাত ১২:০০ সময় সাধারণ ডাইরী লিপিবদ্ধ করা হয়। ভাগ্যিস, রাতের বেলা একা একা ঐ পায়ের হেটে হেটে বাসায় ফিরতে হয়েছে, অবশ্য এই রাস্তাটুকু মোটামুটি নিরাপদেই বাসায় ফিরলেন।

যাই হোক, প্রসঙ্গ অন্য- নিপা হত্যাকান্ড। সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্রী নিপা রানী দে।শনিবার বিকাল ৫টার দিকে নিপার শোকাতুর পিতা হবিগঞ্জ আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর জীবন কৃষ্ণ দে মামলা করতে শাহপরাণ থানায় যান। হাতে নিয়ে যান একটি অভিযোগপত্র। ইন্সপেক্টর জীবন কৃষ্ণ দে জানান, তিনি যে এজাহার নিয়ে গেছেন তাতে তিনি ভুবনকে অভিযুক্ত করেছেন। এর বাইরে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করেন এবং তিনি অভিযোগ করেন তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু ইন্সপেক্টর জীবনের অভিযোগ নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন সিলেটের শাহপরাণ থানার ওসি মো, লিয়াকত আলী। একপর্যায়ে ওসি লিয়াকত জানিয়ে দেন, এডিসি আইয়ূবের অনুমতি ছাড়া মামলা রেকর্ড করা যাবে না। পরে এডিসি আইয়ূব এসে ইন্সপেক্টর জীবনের এজাহারকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন। এজাহার পরিবর্তন করে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। এভাবে রাত ৩টা পর্যন্ত ইন্সপেক্টর জীবনের মামলা রেকর্ড করতে টালবাহানা করে এডিসি আইয়ুব ও ইন্সপেক্টর মো, লিয়াকত আলী। ইন্সপেক্টর জীবনের স্বজনরা জানান, এডিসি আইয়ুব নগরীর টিলাগড়ে একটি বাসায় মামলা রেকর্ড করে নিয়ে বৈঠক করেছেন। ওখানে সরকারদলীয় কয়েকজন নেতা ছিলেন। তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে গিয়ে মামলার এজাহার পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। কিন্তু ইন্সপেক্টর জীবন এ সময় দাবি করেন, তার অভিযোগকে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করলে তিনি মামলা করবেন। নতুবা করবেন না। কিন্তু এডিসি আইয়ূব ও ওসি লিয়াকত তার কথায় কোন কান দেননি।

একজন চাকুরীরত পুলিশ যদি একই ডিপাটমেন্টের হয়েও তার সন্তানের হত্যাকান্ডের সত্য বিচার প্রার্থী হতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোখায় পাবে ন্যায্যা বিচার, কার কাছে পাবে, কে করবে বলুন তো ?

কেন তার এজাহার নিতে এত দেরী হল? কে এই এডিসি- আইয়ুব আলী? কে এই ওসি -লিয়াকত আলী? তারা কি – আমাদের বাংলাদেশের পুলিশ? তারা কি কোন প্রকার শপথ বাক্য পাঠ করেছেন চাকুরীতে যোগদানের সময় ? না কি করেন নাই ?

সারা দেশের চিত্র একই কোন ধরনের পার্থক্য নেই, হয়তো সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, যাতে ষাধারণ মানুষের তেমন কোন উপকার আসবে না?

ব্যাপক পরিবর্তনের দরকার, যেহেতু- পুলিশকে এই মুহুর্ত্তে ব্যাপক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাই তারা দেশের সাধারন মানুষের কত সেবা করছে, তা দেখতে হবে।

প্রায় মন্ত্রি/আইজি/কমিশনার সাহেব বলেন-অনেক কিছু পরিবর্তনের সাথে মানসিকতার ও পরিবর্তন ঘটাতে হবে। করতে হবে কল্যাণ মুখী। কেননা আমাদের এই কষ্টের টাকার খানা/খাদ্য/পোষাক/আবাসন/হাতিয়ার/গুলি ব্যবহার মূল্যায়ন করতে হবে।

পরিশেষে বলব- এক গুয়েমি নয়, কোন টাকা পয়সা নয়, কোন নেতা নয়, নেতা আজ আছে কাল নেই, কিন্ত প্রজাতন্ত্রের প্রজা হিসাবে, কর্তব্য দায়িত্ব যেন সঠিক ভাবে পালন করা সেই চেষ্টাই করা হউক। তাতেই মঙ্গল। সবার আশু বুদ্ধি/বিবেক জাগ্রত হোক। (manab zamin,সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১২)