ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

আজ দৈনিকে একটি নিউজ পড়লাম। শিরোনাম এরকমঃ

পত্রিকা এখন মঙ্গা শব্দটি লিখতে পারছে না: মতিয়া । খুবই আশার কথা আমাদের জন্য। তার মানে দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার জনগনকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন তার বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশের মানুষ ১০ টাকা কেজি চাল কিনতে পারছে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম জনগনের নাগালের মধ্যেই। যে সব অপপ্রচার হচ্ছে সবই বিরোধীদলের ষড়যন্ত্র। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, অতি দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ইতিবাচক সূচকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পত্র-পত্রিকাগুলো এখন মঙ্গা শব্দটি লিখতে পারছে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে চলছে।

একটু বিরোধীদলীয় চোখে দেখি। মঙ্গাহীন বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৮৫ লক্ষ ৭০ হাজার ৫৩৫ । এর মধ্যে ৪০% জনগন দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে অর্থাৎ ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ২৮ হাজার ২১৪ জন। (তথ্যসূত্রঃ CIA- The World Factbook 2011) । এখন এই দারিদ্র্য সীমা বলতে আমরা কি বুঝি। উইকিপেডিয়া এর সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে, “The poverty threshold, or poverty line, is the minimum level of income deemed necessary to achieve an adequate standard of living in a given country” একটু বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে যদি আপনার আয় দৈনিক ১.২৫ ডলার বা ৯০ টাকার কম হয় তাহলে আপনি দরিদ্র। সহজভাবে বলা যায় বাংলাদেশের ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ২৮ হাজার ২১৪ জন জনগণের অবস্থা হল এই। আর মন্ত্রীর ভাষায় বলতে গেলে আমাদের দেশ হল মঙ্গাহীন।

আজ যখন এই নিউজটা পড়লাম “পত্রিকা এখন মঙ্গা শব্দটি লিখতে পারছে না: মতিয়া” একটা কথাই খুব মনে পরল তা হল সোনাবরুর কথা। পত্রিকা ওয়ালারা এখন মঙ্গা লিখতে পারছে না খুবই ভালো কথা। কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী জানতে চাই পত্রিকা ওয়ালারা কেন সোনাবরুর কথা লেখে যে কিনা ভাতের কষ্টে দুনিয়া ছাড়ল। কেন হাড়িতে ভাত না পেয়ে এই ছোট মেয়েটি আত্মহত্যা করলো? মাননীয় মন্ত্রী একটি ছোট উপদেশ। আপনার ক্ষমতার হাত বাড়িয়ে দিন এখনই নয়তো বাংলা একাডেমী আবার মঙ্গার প্রতিশব্দ লিখে বসবে সোনাবরু। তখন পত্রিকা থেকে মঙ্গা হয়তো উঠে যাবে কিন্তু জায়গা করে নিবে সোনাবরু।