ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

বাংলাদেশে সব মিলিয়ে কতটি এন জি ও(NGO) আছে তা আমার জানা নেই। তবে আমরা সবাই কমবেশি এই এন জি ও(NGO) গুলো সম্পর্কে জানি। এন জি ও গুলো সাধারনত আমাদের দেশের গ্রামগঞ্জে কাজ করে থাকে। এই সংস্থাগুলো ভালো কি খারাপ কাজ করছে তা নিয়ে আমি আলোচনা করব না। দেশের জনগণই তা ভালো বলতে পারবে। সাধারনত এই এন জি ও গুলোর অর্থায়ন করে থাকে পশ্চিমা বিশ্বের দেশ গুলো বিশেষ করে আমেরিকা।

আমি যদি এই মুহূর্তে ঢাকার নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রটিকে জিজ্ঞেস করি যে স্নাতক শেষে আপনি কোন দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী? উত্তরটি হবে আমেরিকা। স্বপ্নের দেশ আমেরিকা। তা ও যদি আবার স্কলারশিপ হয়। তাহলে তো কোন কথাই নেই। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ। সোনার হরিণের চেয়েও যে বেশি কিছু।

উপরের বিষয় গুলো আমি বিশেষ একটি কারনে উল্লেখ করেছি। আজ কয়েক দিন ধরে ফেসবুক এবং ব্লগ গুলতে সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয় হল জাগো জাগোর পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। আমি নিজেও জাগো কে উৎসর্গ করে একটা লেখা লিখেছি। আমার লেখাটি ছিল জাগোর ভালো দিক গুলো কে উৎসাহিত করার জন্য। একটি বিষয় নিয়ে আমি বলতে চাই। আজ জাগো র পেছনে আমেরিকান এমবাসি থাকায় বিভিন্ন জ্ঞানী সমালোচক গন বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করছে। এই সমালোচক গন বুকে হাত দিয়ে বলুক তো তাদের পরিবারের কেউ কোন কালে ডিভি নামক লটারির ফরম পূরন করে নি।

আজ নাকি জাগো আমেরিকার সাথে হাত করে আমাদের তরুন সমাজকে দাসে পরিনত করছে। জাগো হচ্ছে আমেরিকার দালাল। আমি এগুলো পড়ি আর মনে মনে হাসি। হয়তো ওই সমালোচকদের পরিবারের কারো কারো না ভিসা নিশ্চিত রিফিউজ করেছে আমেরিকান ভিসা অফিসার নইলে ডিভি ফরম পূরণ করতে করতে তাদের জান শেষ। কিন্তু ভাজ্ঞের শিকে আফসোস এখনো ছেড়ে নি।

এখন কথা হলো জাগোর সাথে জড়িত আমাদের শিক্ষিত সমাজ। জাগো ভালো মন্দ যাই করুক না কেন তা বুঝার মতো সামর্থ্য আমাদের এই শিক্ষিত বন্ধুগন রাখেন। কিন্তু আমাদের গ্রামগঞ্জের অশিক্ষিত ভাই বোন যাদের নিয়ে আমেরিকার অর্থপুষ্ট বিভিন্ন এন জি ও গুলো কাজ করছে কই তাদের নিয়ে কেন সমালোচনা করা হচ্ছে না। দাসত্বের কথা যদি বলাই হয় তাহলে কি ওই অশিক্ষিত সমাজকে প্রভাবিত করাই কি তুলনা মূলক সহজ নয়?