ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে এই নিয়ে শুরু হয়ে গেছে তর্ক বিতর্ক। বিজয়ের মাসে ভারতীয় সিনেমা মুক্তি পাওয়াটাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখছে না। চলচ্চিত্র সমিতি তো ঘোষণাই দিয়ে বসেছে জান দিবে তবু ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শিত হতে দেবে না।

এখন কথা হল ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের বিরোধিতা করা কতটা যুক্তি যুক্ত। সেই পাকিস্তান আমলে ৬৫’র পাক ভারত যুদ্ধের পর পাকিস্তানে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়। সেই আইন এত দিন বাংলাদেশে ও বহাল ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এখন থেকে প্রায় ৪১ বছর আগে। তাই পাকিস্তানি আইন বহাল না থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। সম্প্রতি উচ্চ আদালত ও ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনে অনুমতি দিয়েছে। আর সেন্সর বোর্ড ইতিমধ্যে তিনটি ছবিকে প্রদর্শনের ছাড়পত্র দিয়েছে।

আমরা যেখানে প্রতিদিন ভারতীয় পণ্য ব্যবহার করতে পারি সেখানে সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শন করলে সমস্যা কোথায়? আজ আমাদের ঘরে ঘরে টেলিভিশনে চলে স্টার প্লাস, স্টার মুভিজ, সনি টিভি, স্টার জলসা। আমাদের নারী সমাজ তো বলতে গেলে এইসব চ্যানেলের সিরিয়াল গুলোতে এক কথায় মাদকের ন্যায় আসক্ত। কই আমরা কি সেগুলো বন্ধ করতে পেরেছি। তাহলে সিনেমা কি সমস্যা করলো? আপনার পাড়ার ভিডিও ক্যাসেট ভাড়া দেয় এমন দোকান গুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখবেন। সেখানে কতটি দেশীয় সিনেমা আর কত গুলো বিদেশী বিশেষ করে ভারতীয় সিনেমা রয়েছে। অনেকে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের বৈধতাকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হিসেবে দেখছে। কেন আমাদের দেশে কি ইংরেজি সিনেমা গুলো প্রদর্শিত হয় না। সবচেয়ে বেশি বাধা আসছে আমাদের চলচ্চিত্র সমিতি থেকে। আমাদের চলচ্চিত্র সমিতি এখন বেশ সোচ্চার। কই তাদের তো এত দিন দেখলাম না মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ নিয়ে কোন আলোচনা করতে। অথচ গৎবাঁধা কিছু মুখ নিয়ে আর বস্তা পচা কাহিনী নির্ভর কিছু সিনেমা নামক অখাদ্য বানিয়ে তাদের দায়দায়িত্ব শেষ ছিল। অথচ তা হজম করতে হত সাধারণ জনগণকে। আজ তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। কেন নিজেদের স্বার্থে আঘাত পরবে বলে। চার্লস ডারউইন তো বলেছেনই Survival of the fittest . টিকে থাকার মতো যোগ্যতা থাকলে টিকে থাকবে নইলে নয়। এটাই কি হওয়া উচিত নয়। যদি আমরা মান সম্মত সিনেমা বানাতে পারি তাহলে আমাদের ভয় কিসে? অনেকে বলবেন আমাদের বাজেট ও প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে। আমি বলবো এটা একটা অজুহাত; এর বেশি কিছু নয়। আমাদের দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির ও বেশি। অর্থাৎ আমাদের দর্শক সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অথচ ৯ কোটি জনসংখ্যার পশ্চিম বঙ্গে আজ মান সম্মত বাংলা সিনেমা হচ্ছে। কেন তাদের বাজেট আর প্রযুক্তি নিয়ে সমস্যা নেই? তাদের তো দর্শক সংখ্যা আমাদের থেকে ও কম। তাহলে তারা বড় বাজেটের সিনেমা কিভাবে বানাচ্ছে? তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোতে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের বৈধতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এই আশায় যে এতে যদি অন্তত আমাদের রুগ্ন প্রায় চলচ্চিত্র শিল্পের কিছুটা উন্নতি ঘটে।