ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 
c2

২০০৫ অথবা ২০০৬ সালের ঘটনা। রাত দশটা বাজে। আধা ঘণ্টা আগে এক পশলা ভারি বৃষ্টি এবং ঝড় হয়ে গিয়েছে। টিউসনি করে আমি হলে ফিরছি। শামসুন নাহার হল এবং জগন্নাথ হলের মাঝামাঝি এসে দেখি সে এক এলাহী কাণ্ড। সরু রাস্তার দুই পাশে মুরগি আর মুরগি। আমি তো হতভম্ব! এত মুরগি এখানে কেন? একটু পরেই ভুল ভাঙল। এগুলো সব চিল (?)। ‘সোনালী ডানার’ চিল। তা দুই শতাধিক তো হবেই। এতক্ষণে বুঝলাম। উঁচু উঁচু গাছের মাথায় থাকতো ওগুলো। ঝড়-বৃষ্টিতে আমের মত টুপ টুপ করে সব নিচে পড়েছে। একটারে ধরতে গিয়ে ঠোকর খালাম। তারপরেও ধরলাম। দেখি, খুব হালকা ওগুলো। কী করব বুঝতে পারতে ছিলাম না। অর্ণবকে ফোন দিয়ে ডাকলাম। চিলগুলোকে কুড়িয়ে এনে জগন্নাথ হলের উত্তর ভবনের গেট সংলগ্ন একটি শেডে রাখলাম। অামাদের সাথে হল থাকে আরো কয়েকজন যোগ দিল। চারুকলার প্রশান্ত দা ছিল মনে পড়ছে। অনেকের কথা মনে নেই। ওগুলো আগুনের তাপে শুকানোর ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ভোর হতে হতে বেশিরভাগ উড়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। কয়েকটি খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে প্রাণীবিদ্যা বিভাগ থেকে আনোয়ার স্যার (ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম) এবং আরো কয়েকজন বন্ধু এসেছিল। অবশেষে সবগুলোকে সুস্থ করে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাখিগুলো উড়ে গিয়েছিল নিরুদ্দেশে। আমরাও একরকম তাই, জানি না কার সাথে কার যোগাযোগ আছে। আমার সাথে এখন আর কারো যোগাযোগ নেই।