ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 
top_header

কৃষি ব্যাংক সম্পর্কে একটা তথ্য দিই- বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম হচ্ছে, আসল টাকা ডাবল হয়ে গেলে আর সুদ নেওয়া যাবে না। ঋণটি কু-ঋণ হিসেবে গণ্য হবে। ব্যাংকের যে শাখায় কু ঋণ যত বেশি তাকে সেই শাখাটির পারফরমেন্স ততটা খারাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দুর্নীতি করে লোন দিলে কু ঋণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে -এটা একটা হিসাব, তবে কু ঋণ হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ নয়। সবাই জানে ব্যাংকে দুর্নীতি হয় ঋণ দেওয়া ক্ষেত্রে, তবে কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতি হয় লোন আদায় করার ক্ষেত্রেও। ধরুণ একজন কৃষক দুই থেকে চার হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে বিশ হাজার টাকা লোন নিয়েছে। তার নিট ক্যাপিটাল এক্ষেত্রে দাঁড়াল ষোলো হাজার টাকা। নগদ টাকা হাতে পেয়ে এ দোকান সে দোকানের পাওনা শোধ করেছে, কিছু বাজার করে খেয়েছে; সবশেষে সে কৃষিতে বিনিয়োগ করতে পেরেছে বড় জোর দশ হাজার টাকা। সে লোন নিয়েছে বিশ হাজার টাকা কিন্তু কাজে লাগাচ্ছে দশ হাজার টাকা! দিন এনে দিন গিলে খাওয়া ঐ কৃষক এই লোন আর শোধ করতে পারবে না। কয়েক বছর পরে এই লোনটি বাড়তে বাড়তে যখন চল্লিশ হাজার ছুঁইছুঁই হবে তখন ম্যানেজার লোনটি যেকোন মূল্যে আদায় করতে চাইবে। এর আগেও লোনটি আদায় করার চেষ্টা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতিবছর ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট আইও পাঁচশো থেকে এক হাজার টাকা ঘুস খেয়েছে এবং লোন আদায় করতে যাওয়া বাবদ টিএ বিল জমা দিয়েছে, একটি দিন নষ্ট করেছে। ম্যানেজার কোনভাবেই বিএল (bad loan) হতে দিতে চান না। দালাল লাগিয়ে এবং কেস কান্ডের হিুমকি দিয়ে সে ঐ কৃষককে ব্যাংকে ডেকে এনে প্রথমে কড়া কথা শুনায় তারপর তার পাশে দাঁড়ানোর ভান করে। এভাবে একসময় তাকে পুনরায় লোন নিয়ে লোন শোধ করতে বলা হয়। ধরা যাক কৃষকের কাছে পাওনা হয়েছে আটত্রিশ হাজার টাকা। এবার তার নামে চল্লিশ হাজার টাকা লোন বরাদ্দ করা হয়। কৃষক লোন শোধ করে (লোন ডাবল করে) আনন্দ চিত্তে বাড়ি ফিরে যায়। এক্ষেত্রেও ব্যাংক অফিসাররা দুই হাজার টাকা ঘুস খেয়েছে (মজার বিষয় হচ্ছে- টাকাটা কৃষকের কাছ থেকে নিতে হয় না, টাকা ব্যাংকের ক্যাশ থেকে নিলেই হয়। কৃষক এক্ষেত্রে উছিলা!)। ফলাফল যা হলো- যে লোন সে চল্লিশ হাজার টাকা শোধ করে পারত এখন ঐ কৃষককে শোধ করতে হবে আশি হাজার টাকা! সে মরলে তার ছেলের ঘাড়ে গিয়ে চাপবে। মানুষ বলবে- মরা মানুষের নামে লোন রাখতে নেই যেভাবে পারো শোধ করে দাও। ব্যাংক কিন্তু কাগজে কলমে লাভ করেছে! বিশ হাজার টাকা দিয়ে আটত্রিশ হাজার টাকা আদায় করেছে। বিশাল লাভ হয়েছে না?? এইভাবেই চলছে কৃষি ব্যাক!!