ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

অনেকে বলছে- যৌন ক্ষুধা, অনেকে বলছে- অনেকেই তো এই কাজটি করে। প্রতিবাদ করছি। প্রথমেই বলছি, যৌন ক্ষুধা খারাপ কিছু নয়, এবং এটা মানবিকও। যৌন ক্ষুধা থাকলে একজন পুরুষ একজন নারীর উপর আক্রমণ চালায় -একথা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। যৌন বিকৃতি এবং হিংস্রতার সাথে যৌনতা গুলিয়ে ফেলার কোন সুযোগ নেই। একজন পুরুষ বা একজন নারী কৌশলে তার সঙ্গীর সাথে অথবা পছন্দের কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইতে পারে, এবং সম্মতির অপেক্ষায় থাকতে পারে এবং এটাই যৌন সৌন্দর্য, এর মধ্যে খারাপ কিছু নেই। অনেক দেশে এখন একজন নারী বা পরুষ তার কাঙিক্ষত পুরুষ বা নারীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিতে পারে। প্রস্তাবে কোন অসুবিধা নেই, যদিও আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে বিষয়টি ভালভাবে নেওয়া হয় না।

প্রতারণা এবং যৌন হয়রানিও কিন্তু এক জিনিস নয়। যেমন, হ্যাপী-রুবেলের যে ঘটনা, হ্যাপি অভিযোগ করেছিল যে, রুবেল বিয়ের কথা বলে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। এটি কিন্তু যৌন হয়রানি নয়, এটা প্রতারণা। নিজের একটি ঘটনা বলে বিষয়টি আরেকটু পরিস্কার করি। আমার বাড়ি এবং আমার এক বান্ধবীর বাড়ি ছিল পাশাপাশি জেলায়, ইচ্ছে করলে লঞ্চে একসাথে যাওয়া যায়। একদিন বাধ্য হয়ে একসাথে যেতে হয়েছিল, আমার জন্য ছিল সুযোগ, হতে পারে ওর জন্য সেটি বাধ্যবাধকতা ছিল, কারণ, ঐদিন বাড়ি যাওয়াটা ওর জরুরী ছিল কিন্তু বিকল্প সুযোগ ছিল না। আমি ওর সাথে মনে মনে শারীরিক সম্পর্ক চাইতাম। ভেবেছিলাম, যেহেতু লঞ্চে একসাথে যাচ্ছি এবং কেবিন নেওয়ার ক্ষেত্রেও কোন আপত্তি করছে না, তাই ওরও নিশ্চয়ই সম্মতি আছে। একটি ডাবল কেবিন নিয়ে যথাসময়ে আমরা লঞ্চে যাত্রা করেছিলাম। কিছুক্ষণ গল্প করার পর আমার ইচ্ছের কথা ওকে জানালে ও ‘না’ করে। সত্যি সত্যি ও ‘না’ করছে কিনা বোঝার জন্য অারেকটু চেষ্টা করেছিলাম। পরে ও স্পষ্টভাবে বলে, “আসলেই আমি চাচ্ছি না।” ও আরো বলেছিল, “তোমাদের বোঝা উচিৎ বেশিরভাগ মেয়েরা সবসময় সবক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারে না, প্রেম থাকলেও পারে না, তারা মানসিক এবং শারীরিকভাবে সবসময় প্রস্তুত থাকে না।” ও প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়াতে কোন সমস্যা হয়নি, বাকী সময়টুকু গল্প গুজবে ভালভাবেই অামরা কাটিয়েছিলাম। ঐদিন আমি যদি জোর করতাম, তাহলে অবশ্যই সেটি যৌন হয়রানি হত, পরিস্থিতির কারণে ওর কিন্তু চিৎকার করা বা পরে এসে অভিযোগ করার কোন সুযোগ তেমন ছিল না।

যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে প্রস্তাব বলে কিছু নেই, এটা হচ্ছে বিকৃতি, অন্যের ইচ্ছে অনিচ্ছের তোয়াক্কা না করা, সুযোগ নেওয়া এবং শুধু সুযোগ নেওয়া নয়, জোর করা।