ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

প্রতিটি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নে একটি/দুটি/কয়েকটি প্রশ্ন ভুল থাকেই। এই ভুল থাকাটা কতটা সঙ্গত? যে পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি পাওয়া না পাওয়ার প্রশ্ন, সেই পরীক্ষাটি নিয়ে এরকম অবহেলা করার সুযোগ আদৌ আছে কি? হেলাফেলা যে করা হয় তার সুস্পষ্ট আলামত রয়েছে। একাদশ শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্নপত্রের কথাই ধরা যাক- স্কুল নিবন্ধন এবং কলেজ নিবন্ধন উভয় পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন একই, অর্থাৎ চারটি বিষয় থেকে পাঁচিশটি করে প্রশ্ন আসে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের উপর পরীক্ষা হয়। যেহেতু প্রতিটি বিষয় থেকে পঁচিশটি প্রশ্ন আসে তাই এই পঁচিশটি প্রশ্ন পঁচিশ ধরনের হবে -সেটিই কাঙ্ক্ষিত। প্রশ্নের মধ্যে বৈচিত্র যত বেশি থাকবে, পরীক্ষা ততটা নিরপেক্ষ হবে। একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিস্কার করা যাক- ধরা যাক একজন শিক্ষার্থী গণিত পারে, কিন্তু ত্রিকোণমিতি সে চর্চা করেনি, এখন ঐ অংশ থেকে যদি একাধিক প্রশ্ন আসে তাহলে কিন্তু ঐ শিক্ষার্থীর প্রতি অবিচার হবে। সবার সব কিছু পড়া থাকে না, তাই প্রশ্নে বৈচিত্র থাকা খুব জরুরী। চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নেপত্রে বৈচিত্রের অভাব তো রয়েছেই, পাশাপাশি ভুল থাকে, এমনকি পুনরাবৃত্তিও থাকে।
একাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা/কলেজ সমপর্যায় লক্ষণীয় :
সেট-১ : প্রশ্ন-৬৩ : ১ + ৩ + ৬ + ১০ + ১৫ + ………. ধারাটির সপ্তম পদ কত?
উত্তর হবে ২৮। কিন্তু অপশনে ২৮ নেই।

পঁচিশটি অঙ্কের মধ্যে ত্রিভুজ সম্পর্কিত অংক এসেছে চারটি- ৫৬, ৬৯, ৭০, ৭২ যা একেবারেই ঠিক হয়নি। ত্রিকোণমিতি থেকে অংক এসেছে ২টি- ৭১, ৭৩। শতকরা থেকে অংক এসেছে ৩টি- ৬৪, ৬৫, ৭৫। বৃত্ত থেকে অংক এসেছে ২টি- ৫৪, ৫৬।

ধারণা করা যায়, যথেষ্ট গবেষণা এবং পরিশ্রম করে একাদশ বেসরকারি কলেজ নিবন্ধনের গণিত অংশটি প্রণয়ন করা হয়নি।
সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নেও এ ধরনের সমস্যা রয়েছে-
প্রশ্ন-৮৯ : চিরশান্তির শহর কোনটি?
প্রশ্ন-৯৪ : বাতাসের শহর হিসেবে পরিচিত-

সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নের তো কোন শেষ নেই, বিষয়ের কোন অভাব নেই, সেক্ষেত্রে একই বিষয় থেকে দুটি প্রশ্ন নেওয়ার কোন সুযোগ আছে কি? কোন শিক্ষার্থীর বিষয়টি পড়া না থাকলে সে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে, হতে পারে অনেক বিষয় তার অনেক ভাল করে পড়া আছে।
একই ধরনের সমস্যা রয়েছে স্কুল নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে।

সেট কোড-২ : গণিত অংশ : দেখা যাচ্ছে- চতুর্ভুজ থেকে প্রশ্ন এসেছে চারটি, তার মধ্যে দুইটি বর্গক্ষেত্র সম্পর্কিত। ত্রিভুজ থেকে অংক এসেছে দুটি। ৩৯ নম্বর অংকটি ভুল। প্রশ্নে বলা হয়েছে- তিনটি ঘণ্টা একত্রে বাজার পর তারা যথাক্রমে ২ ঘণ্টা, ৩ ঘণ্টা ও ৪ ঘণ্টা পরপর বাজতে থাকলো। ১ দিনে তারা কতবার একত্রে বাজবে?

এ ধরনের প্রশ্নে সাধারণত জানতে চাওয়া হয়- কত ঘণ্টা পরে তারা একত্রে বাজবে, কিন্তু এখানে জানতে চাওয়া হয়েছে দিনে কতবার তারা একত্রে বাজবে। হতে পারে, কত ঘণ্টা পরপর একত্রে বাজবে সেটি বের করতে পারলে দিনে কয়বার তারা একত্রে বাজবে সেটি বের করা সম্ভব। সমস্যা হচ্ছে- অপশন সাজানো হয়েছে ‘কত ঘণ্টা পরপর একত্রে বাজবে’ হিসেবে। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে প্রশ্ন সঠিক ধরলে অপশনে সমস্যা, অপশন সঠিক ধরলে প্রশ্নে সমস্যা।

‘গুণাত্মক বিপরীত’ টার্ম ব্যবহার করে অংক এসেছে দুটি, যা স্বাভাবিকভাবে কাম্য নয়।

প্রশ্ন-৪১ : একটি সংখ্যা ও তার গুণাত্মক বিপরীতে সমষ্টি ৩। ঐ সংখ্যার ঘন ও ঘন-এর গুণাত্মক বিপরীতের সমষ্টি কত?

প্রশ্ন-৩৪ : একটি সংখ্যা ও তার গুণাত্মক বিপরীতের সমষ্টি ২ হলে, সংখ্যাটি কত?

এছাড়া ল.সা.গু. এবং গ.সা.গু. থেকে অংক আসছে দুটি, সুচক থেকে দুটি। সার্বিকভাবে প্রশ্নের গণিত অংশের মান কোনভাবেই প্রত্যাশিত পর্যায়ে নয়।
ইংরেজি অংশে ট্রানসেলেশন (বাংলা থেকে ইংরেজি) আসছে চারটি। বাংলা অংশে একটি পুনরাবৃত্তিও আছে-

[প্রশ্ন-৭৭ : নিচের কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দ?
ক. গিন্নী
খ. হস্ত
গ. গঞ্জ
ঘ. তসবি

প্রশ্ন-৮৩ : গিন্নী, কেষ্ট শব্দ দুটি কোন ধরনের শব্দ?
ক. তৎসম
খ. অর্ধ-তৎসম
গ. দেশি
ঘ. বিদেশি]

আরো অনেক সমস্যা আছে। যেমন- সন্ধি বিচ্ছেদ এবং প্রকৃতি ও প্রত্যয় থেকে প্রশ্ন এসেছে ৩টি করে।
৮৭ নম্বর প্রশ্নটি ভুল-

[প্রশ্ন-৮৭ : নিচের কোনটিতে বিরাম চিহ্ন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি?
ক. ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭১
খ. ২৬ মার্চ, ১৯৯১
গ. ঢাকা, ২১ ফেব্র“য়ারি ১৯৫২
ঘ. পয়লা বৈশাখ, চৌদ্দশো একুশ]
এখানে অন্তত দুটি ক্ষেত্রে বিরাম চিহ্নের ভুল ব্যবহার রয়েছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় এহেন হেলাফেলা দেখলে বিস্ময় জাগে বৈকি। সরকারি চাকরির পরীক্ষা নিয়ে একটি গবেষণাকর্ম পরিচালনা করতে গিয়ে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে।