ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

শিক্ষক নিকন্ধন পরীক্ষার একটি সিলেবাস রয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- পরীক্ষার প্রশ্ন সিলেবাস ফলো করে হয় না। তাছাড়া সিলেবাসটাও বেশ অদ্ভূতও। যেমন, বাংলাবিষয়ে সাহিত্যের কোন বিষয় সিলেবাসে রাখা হয়নি। কলেজ এবং স্কুল নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাসটি উল্লেখ করলে বিষয়টি আলোচনা করা সহজ হবে।

কলেজ নিবন্ধন পরীক্ষার বাংলা বিষয়ের সিলেবাস : ভাষারীতি ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার, বাগধারা ও বাগবিধি, ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ, যথার্থ অনুবাদ ও শিরোনাম, সন্ধি বিচ্ছেদ, কারক ও বিভক্তি, সমাস, প্রত্যয় বিন্যাস, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, প্রায়োগিক প্রয়োজনীয়তা প্রভৃতি।

স্কুল নিবন্ধন পরীক্ষার বাংলা পরীক্ষার সিলেবাস : ১. ভাষারীতি ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার, ২। বাগধারা ও বাগবিধি, ৩. ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ, ৪। যথার্থ অনুবাদ, ৫. সন্ধি বিচ্ছেদ, ৬. কারক বিভক্তি, ৭. সমাস ও প্রত্যয়, ৮. সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, ৯। বাক্য সংকোচন, ১০. লিঙ্গ পরিবর্তন।

ধরে নেওয়া যায়, কোন একটি পরীক্ষার জন্য সিলেবাস থাকার অর্থ হচ্ছে, ঐ সকল বিষয় থেকে প্রশ্ন পরীক্ষায় আসবে, এবং প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়। দেখা যাচ্ছে, সিলেবাসে বাংলা সাহিত্যের কোন বিষয় উল্রেখ নেই। অর্থাৎ, বাংলা সাহিত্যের কোন প্রয়োজনীয়তা সিলেবাস প্রণেতারা অনুভব করেননি। উৎকর্ষের কথা বাদ দিলাম, কিন্তু স্কুলে বা কলেজে যারা পড়াবেন তাদের কি সাহিত্যর সাধারণ জ্ঞানটুকু থাকা প্রয়োজন না?

কলেজ নিবন্ধন পরীক্ষাতে অবশ্য সাহিত্য থেকে গত পরীক্ষায় (একাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায়) দু’ একটি প্রশ্ন এসেছে। সিলেবাসে না থাকলে (যেহেতু একটি সিলেবাস রয়েছে) সাহিত্যের মত একটি ক্লাসিফাইড বিষয় থেকে প্রশ্ন পরীক্ষায় দেওয়া কতটা সংগত সে প্রশ্নও থেকে যায়।

প্রশ্নের একটি ধারাবাহিকতা তুলে ধরলে বিষয়টা বুঝতে সহজ হবে। বেসরকারি স্কুল এবং কলেজে নিয়োগের জন্যে নিবন্ধন পরীক্ষা চালু করা হয় ২০০৫ সালে। একটি আবশ্যিক পরীক্ষা এবং বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে এক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাই করা হয়। প্রথমে আবশ্যিক পরীক্ষাও লিখিত ফরমেটে হত। তখনও সাহিত্য থেকে কোন প্রশ্ন করা হত না। ২০০৯ সালে থেকে পরীক্ষার আবশ্যিক অংশটি নৈর্বত্তিক ফরমেটে হচ্ছে। ২০০৯ সালেও পরীক্ষাতেও বাংলা সাহিত্য থেকে কোন প্রশ্ন করা হয়নি। ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রশ্ন মোটামুটি সিলেবাস মেনেই হয়েছে এবং সাহিত্য অংশ থেকে কোন প্রশ্ন পরীক্ষায় অাসেনি। ২০১৪ সালের কলেজ নিবন্ধন পরীক্ষায় মাত্র তিনটে প্রশ্ন সাহিত্য থেকে এসেছে, যদিও আংশিক পরিবর্তিত সিলেবাসেও বাংলা সাহিত্য যোগ করা হয়নি। স্কুল নিবন্ধন পরীক্ষায় কখনই বাংলা সাহিত্য থেকে কোন প্রশ্ন আসেনি। এ বছর থেকে পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সিলেবাস একই রয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার আদলে প্রথমে একশো মার্কসের একটি প্রিলিমিনিারি পরীক্ষা হবে, এরপর উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। পরীক্ষার পদ্ধতি যাই হোক সিলেবাস একেবারেই যথাযথ হয়নি।
শিক্ষকতার জন্য যে পরীক্ষা-  সেই পরীক্ষাটির জন্য যারা সিলেবাস প্রনয়ণ করেছেন তারা সাহিত্যের আবশ্যিকতা অগ্রাহ্য করায় কিছুটা বিস্মিত হতেই হয়।