ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

 

এত শক্তিশালী অপশক্তির ক্ষমতাবলয় ভেদ করে ভালো কিছু করতে চাইলে প্রথমত প্রয়োজন কাণ্ডজ্ঞান। কাণ্ডজ্ঞানহীন লোক দিয়ে কোন আন্দোলন সংগ্রাম হয় না। বড়জোর একটা মিছিল করা যেতে পারে, অন্তিমে কিছুই অর্জিত হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দেখেছি, বামদলগুলো যাকে পায় তাকে দলে নেয়, মিছিলে নেয়। এই দেউলিয়াপনার কারণও বুঝি- কেউ তো রাজি হয় না, কেউ একটু রাজি হলেই হইছে। খোশামোদের রাজনীতি। দলে একজন লোক টানতে বোঝাতে বোঝাতে মুখ দিয়ে ফ্যানা উঠিয়ে ফ্যালতে হয়। আরে, এভাবে তো হয় না, হবে না। ক্যারিশম্যাটিক রাজনীতি না করতে পারলে মাঠ দখল করা যাবে না, অতীতে যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। কথায় আছে- মোল্লার দৌঁড় মসজিদ পর্যন্ত, অচিরেই মানুষ বলবে- বাংলাদেশের বামদলগুলোর দৌঁড় ব্যারিকেড পর্যন্ত। তারা (তারা বলতে- বাম নের্তৃত্ব) যেতেও চায় ঐ ব্যারিকেড পর্যন্ত, তারা অবিবেচক পুলিশকে খেপিয়ে তুলে কিছু ঘটনার জন্ম দিতে চায়, এভাবে কিছু পাবলিসিটি নিতে চায়, তাই নয় কি?

আপনারা যাদের নিয়ে গতকাল ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলেন, তাদের ন্যুনতম কোন নির্দেশনা দিয়ে নিয়ে যাননি? ফুলের টব পুলিশের গাড়িতে ছুঁড়ে মারার মত পুলিশ বনাম জনগণের মধ্যে কোন যুদ্ধ কি এখন বাংলাদেশে চলছে? এরপরে পুলিশ যা করেছে, তা অসভ্যতা এবং বর্বরতা, কিন্তু আপনাদের কাণ্ডজ্ঞানহীনতা এবং অপরিণামদর্শিতার যে নজির এভাবে স্থাপিত হয়, তাতে জনগণ আপনাদের উপর থেকে আস্থা হারায়। আচ্ছা, বিএনপি-জামাতের পেট্রোল বোমায় যখন মানুষ পুড়ছে মরছে, তখন আপনারা বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়েছিলেন কি? খালেদাজিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করার প্রয়োজন নেই, কোন মানববন্ধন বা এই টাইপের কিছুও কি আপনারা করেছেন? সেরকম যদি করতেন তাহলে আপনাদের শুধুমাত্র সরকারবিরোধী হিসেবে ভাবার সুযোগ আওয়ামী লীগ পেত না। ‘জনগণের পক্ষে’ কথা বলে (কাজ করে) এভাবে লাগাতার পুলিশের পিটান খাওয়ার নজির শুধু বাংলাদেশেই আছে। আসলে আপনারা (নেতৃত্ব) জনগণের পক্ষে কথা বলেন, কিন্তু কাজ করেন না, করেন তার শক্তিশালী কোন প্রমাণ নেই। পহেলা বৈশাখে যৌন হয়রানির বিচার চেয়ে আপনারা বিশাল যে কর্মযজ্ঞ করছেন তাতে দেশের কল্যাণ করার ইচ্ছার চেয়ে দলের প্রচার পাওয়ার লক্ষ্যটাই যেন মুখ্য হয়ে উঠেছে। মানুষ সন্দেহ করার সুযোগ পাচ্ছে।