ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

’৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডটি শুধু ব্যক্তি বঙ্গন্ধুকে হত্যা করেছিল না, হত্যা করেছিল একটি আদর্শ, একটি সম্ভাবনা। যুদ্ধপরবর্তী সেই সময়ে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থাই ছিল বাস্তবতা। এ ধরনের দেশে এখনো তাই-ই হওয়া উচিৎ। একটি দলের মাধ্যমেও গণতন্ত্র সমুন্নত থাকতে পারে, যদি গণতান্ত্রিক উপায়ে দলটির সর্বস্তরের নেতা নির্বাচিত হয়। বাকশালে সমাজতন্ত্রের ঘাটতি ছিল না, ওর চেয়ে বেশি সমাজতন্ত্র এখন এবং এখানে সম্ভব না। বর্তমান সরকারের মনোভাবটি অস্পষ্ট নয়, যদিও চোর বাটপাড় ধর্ষক নীপিড়ক জামাত রাজাকার -সবই বর্তমান সরকারের মধ্যে আছে, তবে বর্তমান সরকারকে বুঝতে হলে বুঝতে হবে সরকারের মূল নেতৃত্বটুকু, সেটি নিশ্চয়ই এই মুহূর্ত মাঠ পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত নয়। সরকারি দলের মাঠ পর্যায়ের কাজ এখন বিরোধী দলের উত্থান ঠেকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেহেতু তাদের উপর (মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মী) এই গুরু দায়িত্ব এখনো অর্পিত আছে, তাই তাদের অনেক অপকর্ম আরো অনেকদিন সরকারকে সহ্য করে যেতে হবে। পুলিশের উপর বেশি নির্ভর করায় পুলিশের অপকর্মও সহ্য করতে হবে, করতে হচ্ছে। ততদিন সহ্য করে যেতে হবে যতদিন না বিরোধী দল এবং জামাত নিশ্চিহ্ন হয় (?)। না, এটি সঠিক নয়; বরং ততদিন এইসব অপকর্ম সরকারকে সহ্য করে যেতে হবে যতদিন না সরকার জনগণকে বোঝাতে সমর্থ হয় যে, তারা আসলেই জনগণের সরকার এবং সর্বস্তরের জনগণের কল্যাণ চায়। সরকারকে অবশ্যই উচ্চবিত্তদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নিম্মবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের অাস্থা অর্জন করতে হবে।
নিজদলের লুটপাটকারী, জামাত, ক্রমপ্রসারমাণ জঙ্গিবাদ, এবং বিরোধী দলের অস্তিত্বই এখন সরকারের সম্ভাব্য সমাজতান্ত্রিক হওয়ার পথে মূল বাধা। আরেক সমস্যা হচ্ছে, সরকার এখনো পশ্চিমাদের উপর, বিশেষ করে আমেরিকার উপর নানানভাবে নির্ভরশীল, তাই সরকারকে প্রয়োজনে ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ হতে হচ্ছে গণতন্ত্রের লেবাসে।
সরকার যে এখন একটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। শুধু ভারত চালাচ্ছে, একথা বললে খুব সহজ সমীকরণ তৈরি করা হবে, ‘রাশিয়া’ নামটি বিস্মৃত হলে কোন সমীকরণই মিলবে না, ভ্লাদিমির পুতিন কী জিনিস সে সম্পর্কও একটু জানাশোনা থাকা ভাল, তাহলে সমীকরণ মেলাতে সহজ হবে। চীনই বা এখন আর বিরোধিতা করবে কেন? সরকার তো অনেকটা চীনের আদলেই হচ্ছে, মাঠ পর্যায়ে কোন বিপ্লব হয়নি ঠিকই, বর্তমান বিশ্বব্যবস্তায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কোন বাস্তবতা অদূর ভবিষ্যতেও নেই, কিন্তু সাংবিধানিক বিপ্লব তো ঘটানো হয়েছে। সংবিধানের যে শৈল্পিক পরিবর্তন আওয়ামী লীগ করেছে তার পিছনে বেশ কিছু মাথা কাজ করেছে নিশ্চয়ই। এসব ভাল, আমার চোখে ভাল, তবে সরকারের অতি পুলিশ নির্ভরতায় আংশঙ্কা হয়- সেনাবাহীনীর উপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই, এবং সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়ে নিতে পারে -এ ভয় সরকারের মধ্যে এখনো আছে, যদিও পঞ্চদশ সংশোধনীতে সেনাবাহীনীর ক্ষমতা নেওয়া মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।
ভাল কিছু করতে সরকার (মূল নের্তৃত্ব) চাচ্ছে, এটা স্পষ্ট, প্রশ্ন হচ্ছে- সরকার সফল হবে কিনা, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে কিনা, লুটপাটকারীদের ধিরে ধিরে সাইডে সরাতে পারবে কিনা, নিজদলের পাণ্ডাদের আইনের আওতায় আনতে পারবে কিনা, সরকারে ভর করে যে সন্ত্রাস চলে এবং সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির যে নতুন ফর্মুলা আবিষ্কৃত হয়, তা বন্ধ করতে পারবে কিনা …
এগুলো ঠিক করা সরকারের জন্য সহজ হত সরকার যদি সিপিবি এবং বাসদের মত ছোট ছোট সকল বামদলগুলোকে সঙ্গে রাখতে পারত। কেন তারা সরকারের সঙ্গে যাবে না? কেন তারা সরকারের সাথে যাওয়ার জন্য দেনদরবার করছে না? সরকারই বা কেন তাদেরকে সাথে নেওয়ার চেষ্টা করছে না? প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা জরুরী।