ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এটা নিশ্চিত যে, এই সমাজের মনও  নেই, মস্তিষ্কও নেই। সমাজটার নৈতিকতা-মূল্যবোধ নেই, এই সমাজে আইনের শাসনও নেই। সমাজটার হিসেব খুব স্পষ্ট– লাভ-লোকসানের হিসেবে এ তল্লাট পরিচালিত হয়। লাভ-লোকসানের কালো হিসেবে ব্যক্তিপর্যায় থেকে একেবারে সরকার পর্যন্ত বিস্তৃত। যদি কারো কল্লা কাটলে দু’ পয়শা লাভ হয়, তাহলে এরা কল্লাই কাটবে। কাউকে বাঁচিয়ে যদি কোন লাভ না হয়, তাহলে ডুবন্ত শিশুকে দেখেও না দেখার ভান করে পাশ দিয়ে হেঁটে চলে যাবে। এরা জেনে গেছে স্বর্গারোহন কত সোজা, পাপ-পূণ্যের হিসেব এখানে অতি সরল। যে কিছু পায় না, সেও অন্তত শুক্রবারে স্বর্গর ঘণ্টা ধ্বনি শুনতে পায়। কে কাকে বাঁচায়, কে কার বিচার করে … লাভ কি কাউকে বাঁচিয়ে? লাভ কি কারো পাশে দাঁড়িয়ে? পূজোয় যদি সমস্ত পূণ্যি মেলে লাভের মানুষ লোভের মানুষ দুঃখ সয়ে সৎকর্ম করবে কেন?

এদেশের ষাটভাগ (অনুমিত) মানুষের মানসিক গড়ন মোটামুটি একই ধরনের। যেহেতু চিন্তা এবং যুক্তি দ্বারা মানুষগুলো পরিচালিত নয়, বরং আদিম কিছু তত্ত্ব দ্বারা পরিচালিত, তাই মানসিক গড়ন এক হওয়াটাই স্বাভাবিক। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাটা যেমন মুখস্থ নির্ভর, জীবন-যাপনও মুখস্থ নির্ভর।

আপনি এখানে নতুন কিছু বলছেন মানে কমপক্ষে ষাটভাগ মানুষের বিপক্ষে বলছেন। বাকি চল্লিশভাগের মধ্যে বিশভাগ আছে ‘কী দরকার’ টাইপের। শেষ বিশভাগের মধ্যে দশভাগ ধান্দাবাজিতে ব্যস্ত। না, আপনি অবশিষ্ট দশভাগও পাচ্ছেন না, এর মধ্যে নয়ভাগ ভয়ে সিটিয়ে আছে; ভাগে পাচ্ছেন আপনি বড়জোর একভাগ। এই এক ভাগের নিরানব্বই ভাগ আবার ক্ষয়ে ক্ষয়ে এতটাই শুকিয়েছে যে, কিছুই আর করতে পারবে না তারা, নেট চালানোর সামার্থ্যটুকুও নেই, তাই আপনার জন্য দু’কলম লিখতে চাইলেও উপায় নেই। বুঝতেই পারছেন, আপনি কতটা নিঃসঙ্গ? সত্যিই কি অাপনি  বাস্তবতা বুঝেছিলেন? বুঝেও কি আপনি ও পথে গিয়েছেন? কেন গিয়েছেন?

আসা যাক, সরকারের কথায়, ঐ যে বলছিলাম- সরকারও এখানে লাভ-লোকসানের হিসেবে পরিচালিত হয়। সরকার এই জনগণ চেনে, সরকার চায় জনগণকে বিভ্রান্ত করে এবং জনগণের বিভ্রান্তির পালে হাওয়া দিয়ে খুশি রাখতে, এটাই সবচে’ সহজ উপায়। দানব থেকে পোশাক পাল্টে মানব রূপ নেওয়া কিছু মানুষ এদেশে রাজনীতি করে ক্ষমতায় যায়, কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও, এখন পর্যন্ত দানবের দলই তো ভারী, নাকি? এই সরকারও কি এই বাস্তবতার খুব বেশি বাইরে? তুলনামূলক ভাল সরকার বেশি গিলে গিলে বিপাকে পড়েছে, নিজেই সে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তাই সে এখন বিপথ ধরেছে, কতদিন আগেও যাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সোনার ছেলে বলেছিলেন, গণজাগরণ মঞ্চ তৈরির স্থানটাকে ‘প্রজন্ম চত্বর’ আখ্যা দিয়েছিলেন, সেই সোনার ছেলেরা এখন চাপাতির ঘায়ে বেঘোরে প্রাণ দিচ্ছে, কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানের তরফ থেকে কোন উদ্যোগ নেই বলেই মনে হয়, মনে হচ্ছে- তিনি গদি বাঁচানোটাকেই শ্রেয় মনে করছেন।

প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে- লাভের হিসেবটা খুব নিষ্ঠুর হয়ে যাইনি তো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের খুশি করছেন, নিজেও খুশি হচ্ছেন, আর যাদের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বিচার করতে পারছেন তাদের ঠেলে দিলেন চাপাতের নিচে! এতেও কি লাভ হল না? একপক্ষ খুশি হল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করায়, আরেকপক্ষ খুশি হচ্ছে বিচার চেয়ে যারা নির্ঘুম, চাপাতির কোপে তাদের হত্যা করায়? সত্যিই এ সরকার ম্যাজিকাল! আশিভাগ জনতা খুশি, খুশি না? কে বলে এ সরকার জনগণের না, এ সরকার গণমুখী সরকার, ভিষণ গণমুখী; এ সরকার নিষ্ঠুর এবং গণমুখী।