ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

আমরা এই মহাবিশ্বের কতটুকু? অত্যন্ত নগণ্য অংশ, যার গাণিতিক রূপদান প্রায় অসম্ভব। বলা হয়, বিলিয়ন গ্যালক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে। এই এক বিলিয়ন গ্যালাক্সিতে নক্ষত্র রয়েছে কয়েক ট্রিলয়ন টি, গ্রহ উপগ্রহ রয়েছে আরো অনেক বেশি। এর খুব সামান্য অংশের সন্ধান এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা করতে পেরেছে। তাছাড়া মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের গবেষণা স্থির থাকছে না, আজ যা বলা হচ্ছে কাল তা বদলে যাচ্ছে, শুধু মহাবিশ্ব কেন, বিজ্ঞানের অনেক কিছুই সতত পরিবর্তনশীল। প্রকৃতির পরিবর্তন হলে বিজ্ঞান তো পরিবর্তীত হবেই।

এক পৃথিবী নিয়েই আমাদের যত কাজ কারবার। এর বাইরে কতশত ‘পৃথিবী’ আছে তার খবর আমরা জানি না, মানুষ এবং মানুষের চেয়ে উন্নততর কত ধরনের প্রাণী কোন নক্ষত্রের কোন গ্রহে আছে তাও আমরা জানি না। মহাবিশ্বের কোনো একটি গ্যালাক্সির কোনো একটি নক্ষত্রের কোনো একটি গ্রহে যদি স্বর্গ মেলে? মিলতেও তো পারে, নাকি? ঈশ্বরওতো মিলতে পারে লাখে লাখ। তাহলে অবিশ্বাস কেন? ঈশ্বর যারা আছে বলে তারা অনুসন্ধানের ঝামেলাই যেতে চায় না, অত বুঝতেও চায় না; কিন্তু যারা আমরা বুঝতে চাই, তারা অত সহজে ‘ঈশ্বর নাই’ বলার দরকার কি? ঈশ্বর একজনই বা বলতে হবে কেন? বিশাল মহাবিশ্বের কোন একটি জায়গায় মানুষের মত প্রতি মুহূর্তে ঈশ্বরেরও জন্ম মৃত্যু হচ্ছে না, তাই বা বলি কি করে? ঈশ্বর আছে, বরং বেশিই আছে, হাজারে হাজার লাখে লাখ কোটি কোটি বিলিয়ন বিলিয়ন ঈশ্বর আছে এই মহাবিশ্বে। আছে না? থাকতে পারে না?

পৃথিবীতে ধর্ম ব্যবসা হয় বলে ‘ঈশ্বর নাই’ বলার তো দরকার নাই। তবে পৃথিবীতে ঈশ্বর একজনই, তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। তার জন্ম মৃত্যু ধ্বংস নেই। তিনি অব্যয় অক্ষয় অবিরাম। তিনি নিরাকার তিনি পরম ব্রক্ষ্ম, তিনি সর্বত্র আছেন, জলে ডাঙায় মরুতে সাগরে সর্বত্র তিনি বিরাজমান। তিনি উদ্ধারকর্তা, কখনো তিনি পথিক বেশে উদ্ধার করেন, কখনো তিনি র‌্যাব হয়ে ক্রসফায়ার দিয়ে দেন, কখনো মুখ বেধে চাপাতি হাতে পিছন থেকে ঝাপিয়ে পড়েন, কখনো তিনি চলন্ত বাসে পেট্টোল বোমাও মারেন; তবে কখনই তিনি ব্লগার হয়ে ব্লগ লেখেন না। পৃথিবীর ঈশ্বর শুধু ব্লগ লেখেন না, বাকী সব তিনি করেন!