ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ব্লগারদের উপর খেপেছে আসলে কারা? মৌলবাদীরা? মাদ্রাসার ব্রেন ওয়াশড ছাত্ররা? মোটেই না? একটু গভীরে গিয়ে দেখুন- ব্লগারদের উপর খেপেছে মূলত দুর্বৃত্তরা, এবং তারাই উস্কানি দিয়ে গোঁড়াদের খেপিয়ে তুলছে। এ কাজে তারা অর্থও বিনিয়োগ করছে। দুর্বৃত্তরা কেন এত লোক থুয়ে ব্লগারদের উপর খেপতে যাবে? অবশ্যই কারণ আছে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁঝতে গেলে ব্লগার কারা এবং তারা কী জন্য কী লেখে সেটি বুঝতে হবে। বাংলাদেশে মূলধারার গণমাধ্যমগুলো দুর্বৃত্তদের টাকায় চলে, তাই সেখানে আসলে জনগণের জন্য তেমন কিছু থাকে না। ব্লগিং বিষয়টি ব্যক্তিগত, এবং কখনো কিছুটা দলনির্ভর, এখানে সঠিক কথা বলার সুযোগ আছে। ব্লগিং কারো অনুকূল্যের উপর নির্ভরশীল নয়, তাই কাউকে তোয়াজ করে চলার প্রশ্ন নেই। ব্লগিং করে কেউ অর্থ উপার্জন করে না, বরং নিজের টাকা এবং সময় নষ্ট করে সমাজের প্রতি তাদের অভিযোগের জায়গাগুলো স্পষ্ট করে, যে কাজটি মূল ধারার গণমাধ্যমের সাথে থেকে সম্ভব নয়। কোন দুর্বৃত্তকে, কোন কোম্পানিকে নেংটো করে দেওয়ার জন্য এরকম কয়েকজন শক্তিশালী ব্লগারের লেখাই যথেষ্ট। বিষয়টি ওরা টের পেয়েছে, দুর্বৃত্তরা খেপে গিয়েছে; এ্টা তো জানা যে, অসভ্যের ইগো বেশি থাকে, তারা ডিফেম সহ্য করতে পারে না, ফলে প্রতিশোধের এবং নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য ওরা সেই চেনা পথ ধরেছে।‘ধর্ম অবমাননার’ উছিলা দেখিয়ে কৌশলে সকল ‘ব্লগারদের’ হুমকি দিয়ে চলেছে।

অনেকে বলছে, সরকার তো এ ব্যাপারে উদাসীন, অনেকে আরেক ধাপ এগিয়ে বলছে, ব্লগার হত্যায় সরকারেরও মদদ আছে। মদদ না থাক ব্লগার মারলে বা ব্লগারদের থ্রেট করলে সরকারের মজা পাওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ আছে। বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়ন পরিচালিত হয় মূলত সরকারি দল দ্বারা বা সরাকরি দলের নামে, অন্যরা থাকে ছত্রছায়ায়, তাই ব্লগাররা দুর্নীতি এবং দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে লাগাতার লিখতে থাকলে তাতে সরকারের স্ট্যাটাস নষ্ট হয়। শুধু স্ট্যাটাস নষ্ট হয়, তাই নয়, রীতিমত সংকট তৈরি হয়। এই সরলীকরণের বাইরেও আরো অনেক কিছু আছে। ব্লগাররা কেন হঠাৎ টার্গটে পরিণত হল, সেটি বোঝার জন্য আস্ত একখান গবেষণা মনে হয় এখন প্রয়োজন। শুধু ধর্মীয় উন্মাদনা থেকে এরকম সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটি ভাবলে মস্ত বড় ভুল হবে।