ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

চিকিৎসা ক্ষেত্রের নৈরাজ্য নিয়ে কেন কেউ কাজ করছে না? গণমাধ্যমেরই বা এ বিষয়ে এতটা নিরবতা কেন? একেবারে যাচ্ছেতােই অবস্থা। খুবই দরিদ্র একজন ভদ্রমহিলা হাঁটু ব্যথায় ভুগছেন। বিভিন্ন ডাক্তার দেখাচ্ছেন কিন্তু কোন কিনারা হচ্ছে না। আজকে আমার কাছে এসে বলতেছেন, স্যার, কিছু করতে পারবেন? যদিও কোন কারণে আমি তার স্যার নই; তবুও স্যার হয়েই থাকলাম, কারণ তার এখন স্যারই দরকার। বললাম, আপনার সর্বশেষ ডাক্তারের ওষুধগুলো দেখান তো। উনি ওষুধগুলো দেখালেন। আমি ডাক্তারির ড ও জানিনা। কিন্তু ওষুধের গ্রুপ বোঝার চেষ্টা করলে বুঝতে পারি। নেটে সার্চ দিলেও তো কিছু তথ্য জানা যায়। ইউফোর নামে ফ্লুপেনটিক্সল গ্রুপের একটি ওষুধ দিয়েছে, এর কারণ কিছুতেই আমি বুঝতে পারলাম না। এটা তো সিজপ্রেনিয়ার ওষুধ, নাকি? এসিক্লোফেনাক গ্রুপের একটি ওষুধ দিয়েছে, ওষুধটি সম্ভবত তীব্র ব্যথানাশক, তবে সাইড ইফেক্ট রয়েছে প্রচুর। একটি ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট দিয়েছে। সিপ্রোফ্লোক্সি দিয়েছে! কিন্তু কেন? এক্ষেত্রে তো সিফ্রোফ্লোক্সিন ক্ষতির কারণ হতে পারে, নাকি? এক হাজার টাকা দামের একটি ইনজেকশনও নাকি করেছে, কী ইনজেকশন তা উনি বলতে পারলেন না। ওমিপ্রাজল দিয়েছে। xparef নামে (গ্লুকোসামিন+কনড্রোয়টিন+ এমএসএন + হায়ালোরনিক এসিড) নামে একটি ওষুধ দিয়েছে। বলেছে, এটি বিদেশী ওষুধ। ওষুধটি অনেক দামী। প্রতিটি ওষুধের দাম নিয়েছে বিশ টাকা করে। দেখলাম, ওষুধটি বানিয়েছে চীনের ‘বোন হেল্থ প্রোডাক্ট’ নামে একটি হার্বাল কোম্পানি। সাধারণত বিদেশী কোন প্রমিনেন্ট ওষুধ নেটে সার্চ দিলে পাওয়া যায়। কিন্তু এটির কোন অস্তিত্ব পেলাম না। গ্রুপের নাম সার্চ দিয়ে দেখলাম- গ্লুকোসামিন আত্রাইটিস রোগীদের জয়েন্ট পেইন কমায়। গ্লুকোসামিন শরীরে তৈরি হয়, তো ঘাটতি দেখা দিলে এটা দেওয়া যেতে পারে। ফ্লুপেনটিক্সলও আথ্রাইটিস রোগীদের দেয়। উল্লেখ্য, ফ্লুপেনটিক্সল আমেরিকায় নিষিদ্ধ। যাইহোক, ওনার আথ্রিাইটিস হয়েছে এমন কথা ডাক্তার বলেন নাই। আথ্রাইটিস আন্দাজ করলে তো ব্লাড টেস্ট এবং রেডিওলজি করানোর কথা। ব্লাড টেস্ট করায় নাই। ধরলাম, তার আথ্রাইটিস হয়েছে, সেক্ষেত্রে মূল দাওয়াই কি এসব ওষুধ? এক্ষেত্রে তাকে ফিজিক্যাল থেরাপি থাকার কথা, পাশাপাশি লাইফ স্টাইল চেঞ্জ করতে বলা উচিৎ, নাকি? এরপরে আসে ওষুধের প্রশ্ন। কথা হচ্ছে- ওনার কি আথ্রাইটিস হয়েছে? হলে ওষুধগুলো কি ঠিক আছে? শুধু ওষুধে কি সমাধান হবে?