ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

বলুন তো- একজন *মুসলিম একজন হিন্দুকে বেশি ঘৃণা করে, নাকি একজন **নাস্তিককে বেশি ঘৃণা করে?
বলুন তো- একজন *হিন্দু একজন মুসলিমকে বেশি ঘৃণা করে, নাকি একজন নাস্তিককে বেশি ঘৃণা করে?
উত্তর খুব সোজা। বিদ্বেষটা এখানে জাতিগত এবং সাম্প্রদায়িক।
তাহলে হত্যা করার সময় তারা নাস্তিকদের আগে হত্যা করে কেন?
হিসেব খুব সোজা। বেশিরভাগ দেশে নাস্তিকের সংখ্যা অল্প, তাছাড়া হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টানদের মত নাস্তিকদের কোন শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো নেই, মসজিদ মন্দির গির্জা প্যাগোডার মত কিছু নেই। রাষ্ট্রব্যবস্থা্ও এসব দেশে নড়বড়ে, আইনের শাসন নেই। এজন্য নাস্তিকরা সফট্ টার্গেটে পরিণত হয়। ধরুন, একজন মুসলিমকে যদি মুসলমানিত্বের অভিযোগে হত্যা করা হয় তাহলে পৃথিবীর সকল মুসলিম নাগরিক সরব হবে। একজন হিন্দুকে যদি হিন্দুত্বের অভিযোগে হত্যা করা হয়, তাহলে পৃথিবীর সকল হিন্দু সরব হবে।
কিন্তু নাস্তিকদের ওরা মনে করে ‘নো ম্যানস্ ল্যান্ডে’ থাকা অতি সংখ্যালঘু, ফলে এদের হত্যা করে একটা মেসেজ তৈরি করাতে ঝুঁকি কম। নাস্তিক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া একজনকে মারলে গুটিকয়েক মানুষ কিছুদিনের জন্য সরব হয়। কিন্তু দিনশেষে কিছুই করতে পারে না, কারণ, এদের সংখ্যাও কম, অাবার অর্থবলও নেই, রাষ্ট্রকাঠামোও সাথে নেই।
ওদের হত্যার উদ্দেশ্য কিন্তু নাস্তিক নিধন নয়, উদ্দেশ্য ভিন্ন, নাস্তিকরা তো উঠতি ঝামেলা, প্রতিষ্ঠিত ঝামেলা নয়। মুসলিমদের কাছে আসল সমস্যা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ইহুদি; হিন্দুদের কাছে আসল সমস্যা মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ইহুদি; খ্রিস্টানদের কাছে আসল সমস্যা মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-ইহুদি।
নাস্তিকতা এদের কাছে এখনো বড় কোন সমস্যা নয়। অর্থাৎ দ্বন্দ্বটা আস্তিকতা বনাম নাস্তিকতা নয়; দ্বন্দ্বটা আসলে- আস্তিকতা বনাম আস্তিকতা-ই।

পরিশিষ্ট :
* যারা মতবাদী হিন্দু বা মুসলিম।
** নাস্তিকতা মানে অবিশ্বাস নয়, অবিশ্বাস এবং বিশ্বাস বলে পৃথিবীতে আসলে কিছু নেই; পুরোটিাই কনফিউশন। নাস্তিকতা মানে সম্প্রদায়হীনতা।