ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমি খুব সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, রাষ্ট্র এবং ধার্মিকরা যদি মনে করে- কথিত ধর্মাবমাননার দায়ে ওদের খুন করা দরকার, তাহলে খুন তারা হবেই। ঠেকানোর কোন উপায় নেই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি– এইসব খুনের সাথে রাষ্ট্রযন্ত্রের কোন একটি ইউনিট কোন না কোনভাবে জড়িত। রাষ্ট্র চাইলে যে ধরনের লেখালেখির জন্য খুন করা হচ্ছে, সেইসব লেখালেখি হতে তাদেরকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে পারত। তাদেরকে সাবধান করতে পারত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারত। রাষ্ট্র তা না করে ওদেরকে চাপাতির নিচে ঠেলে দিচ্ছে। এতে অবশ্য সাপও মরছে লাঠিও ভাঙছে না।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করলে রাষ্ট্রের হয়ত কিছু হ্যাপা আছে। উন্নত বিশ্বের কাছে রাষ্ট্র তাতে কনজারভেটিভ হিসেবে পরিচিতি পায়, এতে রাষ্ট্র চাপে পড়ে, কিছু দান-খয়রাত বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধার্মিকরা কুপিয়ে মারলে সে সমস্যা নেই, বরং লাভ হয়; ক্ষমতায় থাকার একটা অজুহাতও সৃষ্টি হয়।
চাইলেই রাষ্ট্র ওদের সতর্ক করতে পারত, গোয়েন্দা বাহিনীর লোক গিয়ে কড়া থ্রেট দিয়ে আসতে পারত, ‘কী কী লেখা যাবে না’ তা বলে আসত পারত। নীলয় নীলের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কী সেসব দায়িত্ব পালন করছিল? যদি না করে থাকে, তাহলে এ খুনের সব দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
একই সাথে প্রথাবিরোদী লেখকদের বলতে চাই, নিজেদের চাপাতির নিচে ঠেলে দেবেন না, প্লিজ।